রাওয়ালপিন্ডির সেই ‘টিম পারফরম্যান্সটাই’ দরকার

টেস্টে সবশেষ মাঠে নামা গত বছর নভেম্বরে। আয়ারল্যান্ডের সাথে ঘরের মাঠে সিলেট ও মিরপুরে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টাইগাররা জিতেছিল হেসেখেলে (ইনিংস ও ৪৭ রান এবং ২১৭ রানে)। তারপর কেটে গেছে ৬ মাস। আর টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। এ দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ৮ মে শেরে বাংলায় পাকিস্তানের সাথে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আগের ৬ মাস শুধু যে টেস্ট খেলা থেকেই বিরত ছিল তা নয়, এ সময়ের মধ্যে টাইগাররা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটই খেলেনি। সারাটা সময় কাটিয়েছে সাদা বলে, বিশেষ করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলে। সাদা বলে শেষ কয়েকটি সিরিজে ভালো খেললেও ঠিক একচেটিয়া জেতার রেকর্ড হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২-১-এ সিরিজ জিতলেও বৃষ্টিভেজা টি-টোয়েন্টি সিরিজটা অমীমাংসিত (১-১) থেকে গেছে। তার আগে মার্চে পাকিস্তান এসেছিল ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। ওই দুই সিরিজেই বাংলাদেশ জয়ী হয় ২-১ ব্যবধানে। মোট কথা, ঘরের মাঠে একতরফা আর দাপুটে জয়ে যে একদম টগবগ করে ফুটছে টাইগাররা, বিষয়টা এমন নয়। তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে যত কথা স্বাগতিকদের নিয়েই। কারণ একটাই—২ বছর আগে পাকিস্তানের ম

রাওয়ালপিন্ডির সেই ‘টিম পারফরম্যান্সটাই’ দরকার

টেস্টে সবশেষ মাঠে নামা গত বছর নভেম্বরে। আয়ারল্যান্ডের সাথে ঘরের মাঠে সিলেট ও মিরপুরে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে টাইগাররা জিতেছিল হেসেখেলে (ইনিংস ও ৪৭ রান এবং ২১৭ রানে)।

তারপর কেটে গেছে ৬ মাস। আর টেস্ট খেলেনি বাংলাদেশ। এ দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ৮ মে শেরে বাংলায় পাকিস্তানের সাথে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

আগের ৬ মাস শুধু যে টেস্ট খেলা থেকেই বিরত ছিল তা নয়, এ সময়ের মধ্যে টাইগাররা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটই খেলেনি। সারাটা সময় কাটিয়েছে সাদা বলে, বিশেষ করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি খেলে।

সাদা বলে শেষ কয়েকটি সিরিজে ভালো খেললেও ঠিক একচেটিয়া জেতার রেকর্ড হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ২-১-এ সিরিজ জিতলেও বৃষ্টিভেজা টি-টোয়েন্টি সিরিজটা অমীমাংসিত (১-১) থেকে গেছে।

তার আগে মার্চে পাকিস্তান এসেছিল ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। ওই দুই সিরিজেই বাংলাদেশ জয়ী হয় ২-১ ব্যবধানে।

মোট কথা, ঘরের মাঠে একতরফা আর দাপুটে জয়ে যে একদম টগবগ করে ফুটছে টাইগাররা, বিষয়টা এমন নয়। তারপরও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে যত কথা স্বাগতিকদের নিয়েই। কারণ একটাই—২ বছর আগে পাকিস্তানের মাটিতে ২ ম্যাচের টেস্টে টাইগাররা ‘বাংলাওয়াশ’ করে ছেড়েছিল পাকিস্তানকে।

তারপর যেহেতু দুই দলের আর টেস্টে দেখা হয়নি, তাই ঘুরে-ফিরে সেই সিরিজের কথাই উঠছে। এবং ২০২৪ সালের ওই সিরিজের আলোকে বাংলাদেশকেই ফেবারিট ভাবা হচ্ছে।

সাথে যোগ হয়েছে গতিতারকা নাহিদ রানার সাম্প্রতিক সময় পাকিস্তান মাতিয়ে আসা। হোক তা ভিন্ন ফরম্যাট, মানে টি-টোয়েন্টিতে; কিন্তু নাহিদ রানা সেই ২০ ওভারের ক্রিকেটে সবে পাকিস্তানিদের নাজেহাল করে ছেড়েছেন।

পিএসএলে নাহিদ রানাকে খেলতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছেন পাকিস্তানের বাঘা বাঘা উইলোবাজরা। ধারণা করা হচ্ছে, নাহিদ রানাই হতে পারেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর বোলিং ট্রাম্পকার্ড।

এখন প্রশ্ন হলো, উইকেট কেমন হবে? শুধু নাহিদ রানার কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশ ফাস্ট ও বাউন্সি ট্র্যাক তৈরি করবে?

পাকিস্তান শিবিরেও কিন্তু শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো কোয়ালিটি ফাস্ট বোলার আর মোহাম্মদ আব্বাসের মতো নিয়ন্ত্রিত পেসার আছেন।

কাজেই শুধু নাহিদ রানা একাই বাংলাদেশকে জেতাবেন, এমন ভাবার যৌক্তিকতাও খুব বেশি নেই। উইকেটের চেয়েও বড় কথা হলো টিম পারফরম্যান্স।

গত বছর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে স্পোর্টিং পিচে বাংলাদেশ একটা ইউনিট হয়ে খেলেছিল। ব্যাটাররা রান করেছেন। যখন যার কাছ থেকে যেমন দরকার ছিল, তিনি তা দিয়েছেন। একইভাবে বোলাররাও পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের কাজ করেছেন।

রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের ৪৪৮ রানের বড় স্কোরের জবাবেও বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে লিড পায়। সাদমান ইসলাম (৯৩), মুমিনুল হক (৫০), মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ১৯১, লিটন দাস (৫৬) আর মিরাজের (৭৭) দারুণ ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকে ১১৭ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে অফস্পিনার মিরাজ (৪/২১) আর সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘূর্ণি (৩/৪৪) সামলাতে না পেরে মাত্র ১৪৬ রানে সব উইকেট হারায় পাকিস্তান।

জিততে বাংলাদেশের দরকার পড়ে মোটে ৩০ রানের। সেটা অনায়াসে বিনা উইকেটে তুলে ১০ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ।

রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসের শুরুতে বাংলাদেশের অবস্থা ছিল খুব খারাপ। মাত্র ২৬ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পতন ঘটেছিল। মনে হচ্ছিল ১০০ রানও হবে না।

ওই চরম দুর্যোগে শক্ত হাতে হাল ধরেন লিটন দাস আর মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে ১৬৫ রানের বিরাট পার্টনারশিপ গড়ে শুধু বিপদই কাটিয়ে দেননি, খেলার মোড়ও ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন লিটন আর মিরাজ।

দলের প্রয়োজনে দারুণ সেঞ্চুরি উপহার দেন লিটন (১৪৯)। মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৭৮ রানের কার্যকরী ইনিংস। সেখান থেকে ২৬২-তে গিয়ে ঠেকে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর।

১২ রানে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে দুই ফাস্ট বোলার হাসান মাহমুদ (৫/৪৩) আর নাহিদ রানার (৪/৪৪) হাত ধরে পাকিস্তানকে ১৭২ রানে আটকে ফেলে। ফলে জয়ের জন্য দরকার পড়ে ১৮৫ রানের। প্রতিষ্ঠিত ব্যাটাররা সে রান করে দলকে ৬ উইকেটের জয় উপহার দেন।

এবার ঘরের মাঠেও কি অমন হবে? ব্যাটে-বলে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করতে পারবে স্বাগতিকরা? উত্তরটা সময়ের হাতেই তোলা থাক।

এআরবি/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow