রাকাবের ডিজিএমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) প্রধান কার্যালয়ের আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুস গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির রাজশাহী অফিস থেকে পাঠানো ওই পত্রে বিষয়টি তদন্ত করে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে মতামত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারিতে মো. জহির নামের রাকাবের এক ব্যাংক কর্মী এসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর একটি অভিযোগপত্র দেন। ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামান আইসিটি বিভাগে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন বিল পাসের বিপরীতে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করে আসছেন। এর আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা ঘুস দাবি করায় তাকে শাস্তিস্বরূপ রংপুরে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি ভ্রমণ না করেই ভুয়া ভ্রমণ বিল তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে এক

রাকাবের ডিজিএমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) প্রধান কার্যালয়ের আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুস গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির রাজশাহী অফিস থেকে পাঠানো ওই পত্রে বিষয়টি তদন্ত করে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে মতামত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারিতে মো. জহির নামের রাকাবের এক ব্যাংক কর্মী এসব অভিযোগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর একটি অভিযোগপত্র দেন।

ওই অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামান আইসিটি বিভাগে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন বিল পাসের বিপরীতে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করে আসছেন। এর আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩০ লক্ষ টাকা ঘুস দাবি করায় তাকে শাস্তিস্বরূপ রংপুরে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি ভ্রমণ না করেই ভুয়া ভ্রমণ বিল তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত অভিযোগও রয়েছে। রংপুরে থাকাকালীন তিনি অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় হাতেনাতে ধরা পড়েন এবং দুই লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কালিয়াডাঙ্গায় আবারও একই ধরনের ঘটনায় ধরা পড়ে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে পার পান। এছাড়া কর্মস্থলে একাধিক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক এবং তাদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও পত্রে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুজ্জামান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদা বেগমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কর্মকর্তাদের এসিআর টেম্পারিং করে অবৈধ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধর ছবিসংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার মতো দুঃসাহসও তিনি দেখিয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক মো. সাদিউল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সুস্পষ্ট বক্তব্য ও মতামত দেওয়া হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংকটির শৃঙ্খলা এবং ইমেজ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সাধারণ কর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামান বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিবো না। এটি আপনি নিজেই তদন্ত করে দেখেন। যারা এই শাখা থেকে কোনো আর্থিক বিষয় লাভবান হতে পারেনি, তারাই এই অভিযোগ করেছেন।

তবে রাবাক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোরতজা বলেন, আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামানের এর বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলমান আছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে করতে বলা হয়েছে। সেটির কাজ চলমান আছে। আমি যেহেতু এখানে নতুন এসেছি। তাই দেরি হয়েছে। তবে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান আছে তাই তদন্তের স্বার্থে আমি তাকে বদলি করেছি।

সাখাওয়াত হোসেন/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow