রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী ও কোদালা খালের ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি
প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব কোদালা এলাকায় কর্ণফুলী নদী ও কোদালা খালের তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার। দ্রুত ব্লক বসিয়ে নদীতীর সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে কোদালা ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কোদালার রায়খালী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বড়ুয়াপাড়া, তালুকদারপাড়া, পশ্চিমপাড়া এবং মান্না বাপের গোট্টা থেকে কোদালা ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। খালের প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা যায়, ৭০ বছর বয়সী জেবর মুল্লুক নদীতীরে বিষণ্ন মনে বসে আছেন। বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি আগেই হারিয়েছেন। এবার শেষ বয়সে নিজের হাতে গড়া বসতঘরের একাংশও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আজিজুল হক, ইউসুফ, হালিমা বেগম, খঞ্জনী বেগম, আনাতুন নূর বেগম, আমাতু বেগম ও কামরুন নাহারসহ আরও অনেক পরিবার। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান
প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পূর্ব কোদালা এলাকায় কর্ণফুলী নদী ও কোদালা খালের তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের শতাধিক পরিবার। দ্রুত ব্লক বসিয়ে নদীতীর সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে কোদালা ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কোদালার রায়খালী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বড়ুয়াপাড়া, তালুকদারপাড়া, পশ্চিমপাড়া এবং মান্না বাপের গোট্টা থেকে কোদালা ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। খালের প্রবল স্রোতে প্রতিদিনই নদীতে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ।
ভাঙনকবলিত এলাকায় দেখা যায়, ৭০ বছর বয়সী জেবর মুল্লুক নদীতীরে বিষণ্ন মনে বসে আছেন। বাপ-দাদার স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি আগেই হারিয়েছেন। এবার শেষ বয়সে নিজের হাতে গড়া বসতঘরের একাংশও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আজিজুল হক, ইউসুফ, হালিমা বেগম, খঞ্জনী বেগম, আনাতুন নূর বেগম, আমাতু বেগম ও কামরুন নাহারসহ আরও অনেক পরিবার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই প্রায় ১০০ থেকে ১২০টি পরিবারের বসতভিটা নদীর বুকে হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি জেনেও অনেক পরিবার এখনো নদীতীরবর্তী ঘরবাড়িতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও। কর্ণফুলী নদীর কোদালা বাজার এলাকা থেকে কোদালা খালের প্রবেশমুখ পর্যন্ত তীব্র ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী কোদালা উচ্চ বিদ্যালয়, কোদালা বাজার, কোদালা ঘাট, কোদালা ব্রিজ এবং গুরুত্বপূর্ণ সৈয়দ আলী সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যালয় রক্ষায় কিছু জিওব্যাগ ফেললেও পাশের অংশে এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রায়খালী সুলতানিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নুরুল আজিম বলেন, ‘গত কয়েক বছরে অনেক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে আমার পরিচালনাধীন মাদ্রাসাসহ শত শত বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।’
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব কোদালার রায়খালী থেকে কোদালা ব্রিজ পর্যন্ত অংশে দ্রুত টেকসই ব্লক বসিয়ে নদীতীর সংরক্ষণ করা হোক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?