‘রাজনৈতিক পরিবারের হয়েও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ’

জাগো নিউজের পাঠকরা আগেই জেনে গেছেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রিকেটার ছিলেন। নিজে খেলতেন। এবং এলাকা ও পাড়া ও মহল্লার বন্ধু এবং বড় ভাইদের সঙ্গে নিয়ে এক সময়ের ঢাকাই ক্রিকেটের ‘বড় শক্তি’ ওল্ডডিওএইচএসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তারপর বিসিবি পরিচালক পর্ষদের সদস্য হিসেবে ২০০২ ‘এর শুরু থেকে ২০০৬ অব্দি বিসিবির পরিচালক এবং গেম ডেভোলপমেন্ট প্রধান হিসেবে পরবর্তী প্রজন্ম তৈরীর কাজে হাত দেন। দুরদর্শী আরাফাত রহমান কোকো তখনই বুঝতে পেরেছিলেন নতুন প্রজন্মকে যথাযথভাবে তৈরি করাই হচ্ছে আসল কাজ। বয়সভিত্তিক দলগুলো বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ-১৯ দলের যথাযথ পরিচর্যা প্রয়োজন। তাই তিনি ২০০৩ এর শেষ দিকে রিচার্ড ম্যাকিন্স আর মাইকেল কোডিকে কোচ করে আনেন। ঐ ২ ভিনদেশি কোচের তত্বাবধানে শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানরা গড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পায় একঝাঁক প্রতিভাবান জাতীয় ক্রিকেটার। বলার অপেক্ষা রাখেনা রিচার্ড ম্যাকিন্সের সেই ট্রেনিং শিডিউলে ছিল নানা অভিনবত্ব। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ম্যাচ ও পুরোদস্তুর অনুশীলন শেষে বরফে শরীর ভিজিয়ে রাখা আইস বাথ প্রথম নিতে শেখে। এর বাইরে ব

‘রাজনৈতিক পরিবারের হয়েও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ’

জাগো নিউজের পাঠকরা আগেই জেনে গেছেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রিকেটার ছিলেন। নিজে খেলতেন। এবং এলাকা ও পাড়া ও মহল্লার বন্ধু এবং বড় ভাইদের সঙ্গে নিয়ে এক সময়ের ঢাকাই ক্রিকেটের ‘বড় শক্তি’ ওল্ডডিওএইচএসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তারপর বিসিবি পরিচালক পর্ষদের সদস্য হিসেবে ২০০২ ‘এর শুরু থেকে ২০০৬ অব্দি বিসিবির পরিচালক এবং গেম ডেভোলপমেন্ট প্রধান হিসেবে পরবর্তী প্রজন্ম তৈরীর কাজে হাত দেন। দুরদর্শী আরাফাত রহমান কোকো তখনই বুঝতে পেরেছিলেন নতুন প্রজন্মকে যথাযথভাবে তৈরি করাই হচ্ছে আসল কাজ। বয়সভিত্তিক দলগুলো বিশেষ করে অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ-১৯ দলের যথাযথ পরিচর্যা প্রয়োজন।

তাই তিনি ২০০৩ এর শেষ দিকে রিচার্ড ম্যাকিন্স আর মাইকেল কোডিকে কোচ করে আনেন। ঐ ২ ভিনদেশি কোচের তত্বাবধানে শাহরিয়ার নাফিস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম আর সাকিব আল হাসানরা গড়ে ওঠেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ পায় একঝাঁক প্রতিভাবান জাতীয় ক্রিকেটার। বলার অপেক্ষা রাখেনা রিচার্ড ম্যাকিন্সের সেই ট্রেনিং শিডিউলে ছিল নানা অভিনবত্ব। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ম্যাচ ও পুরোদস্তুর অনুশীলন শেষে বরফে শরীর ভিজিয়ে রাখা আইস বাথ প্রথম নিতে শেখে।

এর বাইরে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম নির্মাণেও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর অবদান ও ভুমিকা অপরিসীম। তার প্রত্যক্ষ তত্বাবধানেই সেই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম তৈরি হয়। স্টেডিয়ামটির আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের কাজেও আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন অগ্রণী ভুমিকায়। এর বাইরে মিরপুর স্টেডিয়ামকে খেলা উপযোগী করা এবং ২০০৬ সালে এই মাঠে প্রথম ক্রিকেট আয়োজনেও আরাফাত রহমান কোকোর ভুমিকাই ছিল সবচেয়ে বেশী।

এমন এক ক্ষণজন্মা ক্রিকেট সংগঠকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সন্মান প্রদর্শন করতে ভোলেননি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। আজ রোববার বিকেলে হোটেল লা মেরিডিয়ানে আরাফাত রহমান কোকো মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘আরাফাত রহমান কোকো এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও রাজনীতির ধারে-কাছেও ছিলেন না। তিনি নিজে একজন ক্রিকেটার ছিলেন, খেলেছেন এবং পরবর্তীতে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কীভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলকে একটি উচ্চ অবস্থানে নেওয়া যায়, সেই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছেন। যারা তার সঙ্গে খুব কাছ থেকে কাজ করেছেন, তারা বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন। পরবর্তীতে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে অকালে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি এবং দোয়া করি, আল্লাহপাক যেন তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন।’

এআরবি/আইএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow