রাতের বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ

ঈদের ছুটি শুরু হতেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে লাখো মানুষ। ফলে চাপ বেড়েছে মহাসড়কে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে তিন দিকে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। তবে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করেছে। স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমে থেমে চলে সারা রাত। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। ফলে যানবাহনের গতি কমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক ও চন্দ্রা-কোনাবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানী বাজার পর্যন্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। তবে সকাল থেকে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এদিকে সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কমে আসায় এবং আইনশৃঙ্খলা

রাতের বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ

ঈদের ছুটি শুরু হতেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে লাখো মানুষ। ফলে চাপ বেড়েছে মহাসড়কে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে তিন দিকে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। তবে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমে থেমে চলে সারা রাত। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। ফলে যানবাহনের গতি কমে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক ও চন্দ্রা-কোনাবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

এতে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানী বাজার পর্যন্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছে। তবে সকাল থেকে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

এদিকে সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কমে আসায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এখনো চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চলাচল করছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ, সড়কের অব্যবস্থাপনা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘরমুখী যাত্রীরা জানান, কয়েক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছে। যাদের নির্দিষ্ট বাস ছিল না, এমন অনেক যাত্রী ট্রাক বা পিকআপ থেকে নেমে কিছু দূর হেঁটে, কিছু দূর গাড়িতে করে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়েছেন।

রাজশাহীগামী যাত্রী মালেক বলেন, কোনাবাড়ী থেকে রাত ১২টার দিকে বাসে উঠেছেন। ভোর চারটায় চন্দ্রা এসে সাহ্‌রি খাওয়ার পর আবার বাসে উঠেছেন। কিন্তু সকাল ৯টা হয়ে গেলেও খুব বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। বৃষ্টি আর যানজটে আটকে থেকে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছেন।

বগুড়াগামী আরেক যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে বাসে বসে থাকা খুব কষ্টের। না আছে ঠিকমতো খাবার, না আছে বিশ্রামের সুযোগ। কখন বাড়ি পৌঁছাবেন, জানেন না।

পাবনাগামী এক যাত্রী বলেন, প্রতি ঈদেই এই সড়কে এমন দুর্ভোগ হয়। এবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছেন তিনি।

বাসচালক মাহফুজ রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে কোথাও পুলিশ নেই। এই সুযোগে যানবাহনগুলো ইচ্ছেমতো চলাচল করছে। এ কারণে যানজট আরও বেড়েছে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, রাত থেকেই আমরা যানজট নিরসনে কাজ করছি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল পর্যন্ত চাপ বেশি থাকলেও এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

তিনি জানান, যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। আশা করছেন পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow