রাতে ওনারা পাশাপাশি বসেন, মাঝখানে চোখ হারায় কর্মীরা: তাসনিম জারা

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মঞ্চে যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া দেখা যায়, তা মাঠপর্যায়ে দেখা যায় না বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তার মতে, নেতারা রাতে ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন, ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন; অথচ রাজনৈতিক সংঘাতে মাঠের কর্মীরা চোখ হারায়। বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। তাসনিম জারা লেখেন, ‘আজ দুটো দৃশ্য দেখলাম। প্রথম দৃশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান দেখিয়ে মঞ্চে নিয়ে নিজের পাশে বসালেন। দ্বিতীয় দৃশ্যে একটি অনুষ্ঠানে হট্টগোল বেধে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মাইকে নাম ধরে ডাকলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে। আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করলেন।’ তিনি বলেন, ‘মঞ্চে সৌহার্দ্যের কমতি নেই। নাম ধরে ডাকা যায়, পাশে বসানো যায়।’ এরপর হবিগঞ্জে সংঘর্ষে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘এ দিকে হবিগঞ্জের আলিফ এখন এক চোখে দেখে। কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক হানা

রাতে ওনারা পাশাপাশি বসেন, মাঝখানে চোখ হারায় কর্মীরা: তাসনিম জারা
রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে মঞ্চে যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া দেখা যায়, তা মাঠপর্যায়ে দেখা যায় না বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তার মতে, নেতারা রাতে ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন, ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন; অথচ রাজনৈতিক সংঘাতে মাঠের কর্মীরা চোখ হারায়। বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। তাসনিম জারা লেখেন, ‘আজ দুটো দৃশ্য দেখলাম। প্রথম দৃশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মান দেখিয়ে মঞ্চে নিয়ে নিজের পাশে বসালেন। দ্বিতীয় দৃশ্যে একটি অনুষ্ঠানে হট্টগোল বেধে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মাইকে নাম ধরে ডাকলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে। আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে হট্টগোল থামানোর চেষ্টা করলেন।’ তিনি বলেন, ‘মঞ্চে সৌহার্দ্যের কমতি নেই। নাম ধরে ডাকা যায়, পাশে বসানো যায়।’ এরপর হবিগঞ্জে সংঘর্ষে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘এ দিকে হবিগঞ্জের আলিফ এখন এক চোখে দেখে। কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক হানাহানির মধ্যে পড়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সী ছেলেটার বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে। ওই চোখে সে আর দেখবে না।’ উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মী ও দলটির ছাত্র সংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’-র সংগঠক আলিফ চৌধুরী হবিগঞ্জে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার শিকার হয়ে বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছেন। গত ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষ করে ফেরার পথে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এনসিপির অভিযোগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এই হামলায় নেতৃত্ব দেন। হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে আলিফের বাঁ চোখে সরাসরি আঘাত করে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যকার বোঝাপড়া তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছালে এমন ঘটনা এড়ানো যেত কি না, পোস্টে সেই প্রশ্ন রেখে এনসিপির সাবেক এ নেত্রী লেখেন, ‘কেন্দ্রের এই বোঝাপড়া তৃণমূল পর্যন্ত নামলে কি আলিফের চোখটা যেত?’ মাঠপর্যায়ের রাজনীতির প্রসঙ্গে তাসনিম জারা লেখেন, ‘মাঠে অবশ্য এই বোঝাপড়া নামে না। নামে ঘৃণা, হুংকার, ও দেখে নেয়ার হুমকি। মঞ্চ থেকে ছোড়া সেই হুঙ্কারের জের ধরে মাঠে গিয়ে সেটা হয় লাঠি, রড, ইট।’ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মাঠের কর্মীদের বাস্তবতার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, ‘অথচ রাতে ওনারা ক্ষমতার টেবিলে পাশাপাশি বসেন। ফোনে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। মাঝখানে চোখ হারায় আলিফের মত মাঠের কর্মীরা।’ রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি পোস্টের শেষে এ চিকিৎসক লেখেন, ‘আলিফের বাকি চোখটা হয়তো আজকের দৃশ্য দুটো দেখেছে। আর কারও চোখ বা জীবন যাওয়ার আগে এই সৌজন্য মাঠে নামুক, আর সেটা আলিফের এক চোখ দেখুক।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow