রামিসা হত্যা : দ্রুতই শুনানি করতে চান রাষ্ট্রপক্ষ
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যু অনুমোদনের জন্য এ মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্সের হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। তাদের ফাঁসির আদেশ প্রদানকারী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর মঙ্গলবার (০৯ জুন) ফাঁসির রায়ের কপিসহ যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এখন হাইকোর্টের ডেথরেফারেন্স শাখা এ মামলার পেপারবুক তেরি করবেন। এরপর হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি হবে। এই বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, রামিসা হত্যা মামলার নথিপত্র বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদান-প্রদান শাখায় গৃহীত হয়েছে। এখান থেকে এটি সংশ্লিষ্ট শাখায় যাবে। আমি ইতোমধ্যেই শাখার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও অপেক্ষা করছেন যে রেকর্ডটি তাদের সংগ্রহে নেওয়ার জন্য। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আমি শাখার সংশ্লিষ্টদের বলেছি, আপনারা যত দ্রুত সম্ভব পেপারবুক তৈরি করবেন এবং পেপারবুক তৈরি হওয়া মাত্রই আমাদের জানাবেন। তখনই আমরা আগামী রোববার থেকে প্রধান
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যু অনুমোদনের জন্য এ মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্সের হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
তাদের ফাঁসির আদেশ প্রদানকারী ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর মঙ্গলবার (০৯ জুন) ফাঁসির রায়ের কপিসহ যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এখন হাইকোর্টের ডেথরেফারেন্স শাখা এ মামলার পেপারবুক তেরি করবেন। এরপর হাইকোর্টে মামলাটির শুনানি হবে।
এই বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, রামিসা হত্যা মামলার নথিপত্র বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদান-প্রদান শাখায় গৃহীত হয়েছে। এখান থেকে এটি সংশ্লিষ্ট শাখায় যাবে। আমি ইতোমধ্যেই শাখার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও অপেক্ষা করছেন যে রেকর্ডটি তাদের সংগ্রহে নেওয়ার জন্য।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, আমি শাখার সংশ্লিষ্টদের বলেছি, আপনারা যত দ্রুত সম্ভব পেপারবুক তৈরি করবেন এবং পেপারবুক তৈরি হওয়া মাত্রই আমাদের জানাবেন। তখনই আমরা আগামী রোববার থেকে প্রধান বিচারপতি যে নতুন বেঞ্চ গঠন করবেন, সেই বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানির জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করব। এখানে একটি কথা বলা দরকার, আমি আশা করছি আগামী পরবর্তী দুই কর্মদিবসের মধ্যে হয়তো পেপারবুকের কাজটি সম্পন্ন হবে।
রামিসা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কথা, আমরা কোনো বিলম্ব করবো না। আমরা কোনো মূলতবি গ্রহণ করব না। এক দিনের জন্যও না। যে মুহূর্ত থেকে মামলাটির শুনানি শুরু হবে, সেই মুহূর্ত থেকেই রাষ্ট্র এই মামলাটির শুনানি করবে। এবং আমরা ইতোমধ্যেই অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করেছি। যারা এই মামলাটি শুনানি করবেন এবং আমরা প্রত্যাশা করি, যত দ্রুত সম্ভব আপিলটি নিষ্পত্তির মাধ্যমে রায় কার্যকরের দিকে এগিয়ে যাবে।
এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন আদালত। পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।
এদিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরাণিগঞ্জে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ফাঁসির আসামিদের ‘কন্ডেম সেলে’ রাখা হয়েছে। কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘সোহেলকে কেরাণিগঞ্জে ও স্বপ্নাকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ফাঁসির আসামিদের সঙ্গে সেলে রাখা হয়েছে। ফাঁসির অন্যান্য আসামিরা যেভাবে থাকেন, তাদেরও একইভাবে রাখা হয়েছে’।
গত ১৯ মে ঘটনার পর মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া। ওইদিনই শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারের জন্য নথি বদলি করা হয়। তবে সে দিন থেকে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় গত ১ জুন মামলাটির চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের পর ১ জুন মামলার চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন ২ জুন মামলাটির ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন, স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়। এরপর ৩ জুন মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ৪ জুন মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ৭ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারক। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করতে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়।
What's Your Reaction?