রামেবি ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (০৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত অপসারণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বক্তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প এলাকায় প্রায় দুই হাজার গাছ কেটে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ লোপাট করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙার কাজে অনিয়ম, কম মূল্যে ফল বিক্রি, পুকুর ও ফসলি জমি লিজ এবং দোকান ভাড়ার অর্থে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ৭৭৭ কোটি টাকার ৫টি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করে বিতর্কিত ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি লিথো ও ওএমআর পেপার সরবরাহের
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সোমবার (০৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বক্তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত অপসারণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বক্তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প এলাকায় প্রায় দুই হাজার গাছ কেটে প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পদ লোপাট করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পুরোনো ভবন ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙার কাজে অনিয়ম, কম মূল্যে ফল বিক্রি, পুকুর ও ফসলি জমি লিজ এবং দোকান ভাড়ার অর্থে অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ৭৭৭ কোটি টাকার ৫টি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়নে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করে বিতর্কিত ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি লিথো ও ওএমআর পেপার সরবরাহের কাজেও নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ইউজিসির নীতিমালা উপেক্ষা করে নিয়োগে অনিয়ম করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া এবং প্রশাসনিক পদে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সীমানাপ্রাচীর, গেট নির্মাণ এবং বালু-মাটি ভরাটের কাজে কারিগরি ত্রুটি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে উপাচার্য ও তার পরিবারের নামে-বেনামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ, তার সময়ে দেওয়া কথিত অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা, পশ্চিম বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সভাপতি শামসুল হোসেন মিলু, রাজশাহী মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান সামিম এবং মহানগর তাঁতীদলের সভাপতি মো. কাজলসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক কালবেলাকে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি কুচক্রী মহল প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমাকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি আমি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয়সহ আপনারা সবাই এসে তদন্ত করে দেখুন কোথায় কতটুকু অনিয়ম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কারও স্বার্থ হাসিল না হলেই মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাউকে সমাজের কাছে ছোট করা বা অপমানিত করা উচিত নয়। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। সব অভিযোগই মিথ্যা।