রাসিকের প্রশাসক নিয়োগে সাবেক মেয়র বুলবুলের বিকল্প দেখছেন না কর্মী-সমর্থকরা
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। জন্মসনদ থেকে মৃত্যু সনদসহ নানা নাগরিক সেবা নিতে নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। থমকে আছে উন্নয়ন কার্যক্রম, নতুন প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ, পুরোনো অনেক প্রকল্পও স্থগিত। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক নিয়োগের দাবি জোরালো হয়েছে। আর সেই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তাই সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে সাবেক মেয়র বুলবুলের বিকল্প দেখছেন না দলীয় কর্মী-সমর্থক ও রাসিকের সাবেক কাউন্সিলরা। নগরবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গতি নেই। সনদপত্র সংগ্রহ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও সড়ক সংস্কার সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাসিকের অচলাবস্থা নিরসনে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব জরুরি। বিএনপির মধ্যে রাসিক পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে মূলত দুজন নেতার। তারা হলেন— দীর্ঘ ১৭ বছর মেয়র থাকা মিজানুর রহমান মিনু এবং পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দলীয় নেতাদের দাবি, বর্ত
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) দীর্ঘ ১৯ মাস ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। জন্মসনদ থেকে মৃত্যু সনদসহ নানা নাগরিক সেবা নিতে নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। থমকে আছে উন্নয়ন কার্যক্রম, নতুন প্রকল্প গ্রহণ বন্ধ, পুরোনো অনেক প্রকল্পও স্থগিত।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক নিয়োগের দাবি জোরালো হয়েছে। আর সেই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তাই সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে সাবেক মেয়র বুলবুলের বিকল্প দেখছেন না দলীয় কর্মী-সমর্থক ও রাসিকের সাবেক কাউন্সিলরা।
নগরবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গতি নেই। সনদপত্র সংগ্রহ, অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ও সড়ক সংস্কার সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাসিকের অচলাবস্থা নিরসনে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব জরুরি। বিএনপির মধ্যে রাসিক পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে মূলত দুজন নেতার। তারা হলেন— দীর্ঘ ১৭ বছর মেয়র থাকা মিজানুর রহমান মিনু এবং পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দলীয় নেতাদের দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বুলবুলই সবচেয়ে উপযুক্ত।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়র থাকাকালে বুলবুল নানা রাজনৈতিক চাপ ও মামলার মুখোমুখি হন। পুরোনো পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ একাধিক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে তাকে বরখাস্ত করা হলেও দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি পুনরায় দায়িত্ব ফিরে পান। ২০১৮ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হন বুলবুল। নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তিনি আদালতে মামলা করেন, যা এখনো চলমান রয়েছে।
বিএনপি নেতাদের দাবি, বুলবুলের দায়িত্বকালে রাসিক ছিল দুর্নীতিমুক্ত। তার মেয়াদকালে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তায় নগর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়।
রাসিকের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার বলেন, বুলবুলের মতো সৎ ও ভালো মানুষ খুব কম আছে। তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নন, নগরবাসীর একজন অভিভাবক ও বন্ধু। তাকে প্রশাসক না করা হলে সেটা বুলবুলের প্রতি যেমন অন্যায় হবে, তেমনি নগরবাসীর সঙ্গেও অবিচার করা হবে।
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. টুটুল বলেন, সাবেক মেয়র বুলবুল একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতা। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করে মেয়রের পদ থেকে সরানো হয়েছিল। আমরা সাবেক কাউন্সিলররা চাই, তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাকে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
রাজপাড়া থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি শাহানুর ইসলাম মিঠু বলেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একটি সুখী সমৃদ্ধি রাজশাহী গড়ে তুলবেন তিনি। তার প্রতি আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।
যুবদল নেতা ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিইএবি) বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান সোহেল বলেন, এ মুহূর্তে দল-মত নির্বিশেষে নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে একজন দক্ষ প্রশাসক প্রয়োজন। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প নেই। তাকে প্রশাসক করা হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নাগরিক সেবায় গতি ফিরবে এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এগিয়ে যাবে।
What's Your Reaction?