রাসুলুল্লাহর (সা.) সমাজনীতি
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন এবং মুহাম্মাদের (সা.) উম্মতকে অন্যান্য উম্মতের ওপর বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, যাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার বা সাহায্যকারী নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর প্রেরিত রাসূল, যিনি মানুষের মাঝে পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের (সা.) ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর। আম্মা বা’দ লোকসকল! নিশ্চয়ই নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) সর্বপ্রথম দাওয়াত দিয়েছেন ইমানের দিকে। তাঁরা বলতেন, ‘তোমরা বলো যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তবেই তোমরা সফল হবে।’ সুতরাং ইসলামি সমাজের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত ইমানের ওপর। ইমানের মাধ্যমে মানুষের অন্তর ও চিন্তাধারা সংশোধিত হয়। ফলে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় না এবং মত ও দৃষ্টিভঙ্গির
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন এবং মুহাম্মাদের (সা.) উম্মতকে অন্যান্য উম্মতের ওপর বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, যাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার বা সাহায্যকারী নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর প্রেরিত রাসূল, যিনি মানুষের মাঝে পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনি রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের (সা.) ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিদের ওপর।
আম্মা বা’দ
লোকসকল! নিশ্চয়ই নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) সর্বপ্রথম দাওয়াত দিয়েছেন ইমানের দিকে। তাঁরা বলতেন, ‘তোমরা বলো যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তবেই তোমরা সফল হবে।’ সুতরাং ইসলামি সমাজের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত ইমানের ওপর। ইমানের মাধ্যমে মানুষের অন্তর ও চিন্তাধারা সংশোধিত হয়। ফলে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় না এবং মত ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে কোনো বিবাদ সৃষ্টি হয় না; কারণ তাঁরা চিন্তাধারা ও কর্মপদ্ধতিতে ঐক্যবদ্ধ থাকে, সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়।
নবী করীম (সা.) যখন মুয়াজকে (রা.) ইয়েমেনে প্রেরণ করেন, তখন তাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের (সর্বপ্রথম) এ সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে দাওয়াত দেবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। যদি তারা এ কথা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন।’
ইসলামী সমাজের অন্যতম ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। ইসলামি সমাজে মাজলুমের হক জালেমের কাছ থেকে আদায় করা হয় এবং প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার তার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। মানুষের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্যই কিসাস (রক্তের বিনিময়) ও দিয়াতের (রক্তপণ) বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে, আর এর মধ্যেই মানুষের জন্য নিরাপত্তা ও জীবন নিহিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কিসাসের মধ্যেই তোমাদের জন্য জীবন নিহিত রয়েছে, যাতে তোমরা সাবধান হতে পারো।’
ইসলামী সমাজের আরেকটি মূলভিত্তি হলো, সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসা। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা ইমানদার হবে, আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে।’
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনগণ পারস্পরিক দয়া ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে একটি শরীরের মতো; যদি তার একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তবে পুরো শরীর তার জন্য অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।’
আর এতিমদের লালন-পালন করা সহমর্মিতার এক চমৎকার বহিঃপ্রকাশ। নবী করিম (সা.) এতিমদের লালন-পালনের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি ও এতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকব’ এই কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন এবং এ দুটির মাঝে সামান্য ফাঁক রাখলেন। তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে মারা গেল তা তার উত্তরাধিকারীদের জন্য, আর যে ব্যক্তি ঋণ বা অসহায় পরিবার রেখে গেল তার দায়িত্ব আমার ওপরই ন্যস্ত।’
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আল্লাহ তাআলা বলেন,) ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য যে আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে।’
আল্লাহ আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য মহাগ্রন্থ কোরআনের মাধ্যমে বরকত দান করুন, এর আয়াতসমূহ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ দ্বারা উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি সুমহান, পরম দাতা, মহানুভব, রাজাধিরাজ, সদাচারী ও অতি দয়ালু।
ওএফএফ
What's Your Reaction?