রাস্তার কাজের পাথর খেলার জন্য নেওয়া জায়েজ আছে কি?
দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় ছোটখাটো অনেক বিষয়কে গুরুত্বহীন মনে করে অবহেলা করি। বিশেষ করে সন্তানদের আবদার মেটাতে গিয়ে এমন কিছু কাজ করে ফেলি যা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তেমনই একটি সাধারণ দৃশ্য হলো রাস্তার সংস্কার বা নির্মাণের জন্য স্তূপ করে রাখা পাথর থেকে দুই-একটি পাথর বাচ্চার খেলার জন্য তুলে নেওয়া। অনেকেই মনে করেন, ‘এত বিশাল পাথরের স্তূপ থেকে সামান্য দুই-একটা পাথর নিলে কারই বা কী ক্ষতি হবে?’ কিন্তু ইসলামের আমানতদারি ও তাকওয়ার মাপকাঠিতে বিষয়টি কি আসলেই তুচ্ছ? এটা কি পাপ হিসেবে গণ্য হবে না?
এ প্রসঙ্গে ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, রাস্তার কাজের জন্য রাখা পাথরগুলোর মালিক আপনি নন। এটি হয় রাষ্ট্রের সম্পদ, না হয় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। ইসলামের মূলনীতি হলো, কোনো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ তার অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করা বৈধ নয়। একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, অন্যের সম্পদ তা যদি একটি সুঁই পরিমাণও হয়—সেটি তিনি বিনা অনুমতিতে স্পর্শ করবেন না। সুতরাং বাচ্চার খেলার জন্য রাস্তার পাথর নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
পরিমাণ কম হলে কি গোনাহ হবে?
রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া
দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক সময় ছোটখাটো অনেক বিষয়কে গুরুত্বহীন মনে করে অবহেলা করি। বিশেষ করে সন্তানদের আবদার মেটাতে গিয়ে এমন কিছু কাজ করে ফেলি যা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তেমনই একটি সাধারণ দৃশ্য হলো রাস্তার সংস্কার বা নির্মাণের জন্য স্তূপ করে রাখা পাথর থেকে দুই-একটি পাথর বাচ্চার খেলার জন্য তুলে নেওয়া। অনেকেই মনে করেন, ‘এত বিশাল পাথরের স্তূপ থেকে সামান্য দুই-একটা পাথর নিলে কারই বা কী ক্ষতি হবে?’ কিন্তু ইসলামের আমানতদারি ও তাকওয়ার মাপকাঠিতে বিষয়টি কি আসলেই তুচ্ছ? এটা কি পাপ হিসেবে গণ্য হবে না?
এ প্রসঙ্গে ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, রাস্তার কাজের জন্য রাখা পাথরগুলোর মালিক আপনি নন। এটি হয় রাষ্ট্রের সম্পদ, না হয় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। ইসলামের মূলনীতি হলো, কোনো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ তার অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করা বৈধ নয়। একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, অন্যের সম্পদ তা যদি একটি সুঁই পরিমাণও হয়—সেটি তিনি বিনা অনুমতিতে স্পর্শ করবেন না। সুতরাং বাচ্চার খেলার জন্য রাস্তার পাথর নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
পরিমাণ কম হলে কি গোনাহ হবে?
রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২) সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, অনেকে মনে করেন, পাথরের পরিমাণ তো খুব সামান্য, এতে বড় কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সম্পদের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে হয়তো আর্থিক ক্ষতি কম হচ্ছে, কিন্তু অনুমতি ছাড়া অন্যের সম্পদ নেওয়ার যে গুনাহ, তা মোটেও ছোট নয়। পরিমাণ কম বলে গোনাহও কম হবে—এমনটি ভেবে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এই ছোট ছোট অন্যায়ের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে বড় হরাম খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
অপচয় ও পড়ে থাকার অজুহাত
রাস্তার কাজে অনেক পাথর অপচয় হয় বা এদিক-সেদিক ছিটিয়ে পড়ে থাকে—এই অজুহাতে কি পাথর নেওয়া যাবে? এর উত্তর হলো, না। মুফতি আবদুর রহমান বলেন, কোনো জিনিস অবহেলায় পড়ে থাকা আর স্বইচ্ছায় সেটি তুলে নেওয়া এক বিষয় নয়। উদাহরণস্বরূপ, কারো পকেট থেকে টাকা পড়ে যেতেই পারে, কিন্তু সেই অজুহাতে কি অন্য কেউ তার পকেট থেকে টাকা নিতে পারে? ঠিক একইভাবে, রাস্তার পাথর অপচয় হচ্ছে দেখে সেখান থেকে নিজের জন্য বা বাচ্চার জন্য পাথর নেওয়া জায়েজ হবে না। তবে যদি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দায়িত্বশীল কেউ পাথর নেওয়ার স্পষ্ট অনুমতি দেন, সেটি ভিন্ন বিষয় হতে পারে।