রূপপুরে তাড়াহুড়ো নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই চালু: বিজ্ঞানমন্ত্রী
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেই চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ড. আনোয়ার হোসেন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের (বায়েসা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা সমৃদ্ধিকরণে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং হয়ে গেছে। সেখানে প্রকৌশলীরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ছোটোখাটো বিষয়গুলো এখন নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে বিপুলসংখ্যক দক্ষ বিজ্ঞানী ও পিএইচডিধারী গবেষক রয়েছেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করেই চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ড. আনোয়ার হোসেন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি বিজ্ঞানী সংঘের (বায়েসা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সক্ষমতা সমৃদ্ধিকরণে করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফুয়েল লোডিং হয়ে গেছে। সেখানে প্রকৌশলীরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ছোটোখাটো বিষয়গুলো এখন নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনে বিপুলসংখ্যক দক্ষ বিজ্ঞানী ও পিএইচডিধারী গবেষক রয়েছেন। তাদের মেধা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
পরমাণু প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই প্রযুক্তি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, ক্যানসার চিকিৎসা, শিল্প এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং গবেষণাকে উৎসাহিত করে স্টার্ট-আপ ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণ বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সহযোগিতায় ‘ফান্ড ফর ফান্ডস’ ব্যবহারের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘সরকার চেষ্টা করছে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানোর সমাধান করা যায়। আমরা সংকটের বিষয়টি ফিল করছি এবং জ্বালানির টেকসই সমাধানের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে এর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যথাযথভাবে যাচাই করেই ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সেবা চালু থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে এর সুফল আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন দেশের অন্যতম বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ ঐতিহ্য ও বিপুলসংখ্যক দক্ষ বিজ্ঞানী এবং গবেষক থাকা সত্ত্বেও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় কমিশনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগকে শুধু বিদেশ ভ্রমণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মানবসম্পদ ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা উন্নয়নের বিনিয়োগ। কমিশনের প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, অর্গানোগ্রাম হালনাগাদ ও পদোন্নতিসহ যৌক্তিক বিষয়গুলো সরকারি বিধি ও জাতীয় নীতিমালার আলোকে বিবেচনা করা হবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. সারোয়ার হোসেন, সদস্য মো. হাসিনুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আলী জুলকারনাইনসহ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মহাপরিচালক ও বায়েসার সভাপতি ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ। অনুষ্ঠানে বায়েসার বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা ও মুখপত্র ‘অন্বেষা’র মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আরএমএম/এমআইএইচএস/
What's Your Reaction?
