লন্ডনে থাকা প্রেমিকের কাছ থেকে টাকা নিতেন সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে রুমমেট ও সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রীর দাবি, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভে এমনটি করেছেন তার প্রেমিক। এদিকে ‘আবিদ’ নামে লন্ডনে থাকা ওই যুবকের দাবি, নিয়মিতই আর্থিক সহযোগিতা করতেন ইবির সেই ছাত্রীকে। প্রায়ই টাকা নিতেন বলেও জানান তিনি। এদিকে ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অভিযুক্ত এ শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং তার দুটি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ‘জুলাই ৩৬’ হলের জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হল প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রীর বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও অভিযোগ গ্রহণের জন্য আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জানা গেছে,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ‘জুলাই ৩৬’ হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে রুমমেট ও সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রীর দাবি, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভে এমনটি করেছেন তার প্রেমিক।
এদিকে ‘আবিদ’ নামে লন্ডনে থাকা ওই যুবকের দাবি, নিয়মিতই আর্থিক সহযোগিতা করতেন ইবির সেই ছাত্রীকে। প্রায়ই টাকা নিতেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের অভিযুক্ত এ শিক্ষার্থীকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন এবং তার দুটি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ‘জুলাই ৩৬’ হলের জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হল প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত ছাত্রীর বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরও অভিযোগ গ্রহণের জন্য আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে তার কয়েকজন রুমমেট ও সহপাঠীর ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ‘আবিদ’ নামে এক যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ ওঠার পর।
অভিযোগকারী ও রুমমেটদের দাবি, হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই ‘আবিদ’ নামে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক যুবকের কাছে পাঠাতেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী। এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও দাবি করেছেন।
তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল না বলে দাবি করেছেন। ‘ছবি পাঠানো তার ভুল হয়েছে’—উল্লেখ করে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘তারা (ছাত্রীরা) অভিযোগ করেছে, তাদের চলাফেরার ছবি আমি অন্যের কাছে দিয়েছি। এটা ব্যক্তিগত আক্রোশ বা তাদের খারাপ কিছু করব—এই ধারণা থেকে করিনি। তাদেরকে আমি আমার সহপাঠী মনে করেছি। আমার বান্ধবী তারা। তাদের সঙ্গে আমার অনেক ভালো সম্পর্ক। এবং যে ছেলেটার সঙ্গে আমার কথা হতো, সেই ছেলেটার সঙ্গে তাদেরও নিয়মিত কথা হতো।’
ওই প্রেমিকের বিয়ের প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সেই ছেলের সঙ্গে তারাও (ভুক্তভোগীরা) কথা বলতো। এখন ওই ছেলে আমাকে বিয়ে করতে চাইছে। আমি এখন বিয়ে করব না। সে দেশেও আসে। আমাকে বিয়ের জন্য জোরাজুরি করলে, আমি না করে দিই। সেই ক্রোধ থেকে আমাকে থ্রেট দিয়ে ব্যক্তিগত রোষানল থেকে এটা করেছে। ছবি দেওয়া মানেই তো খারাপ কিছু করা না।’
এদিকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রেমিক দাবি করেছেন, ইবির সেই ছাত্রী নিয়মিত তার কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন পারছি তখনই দিছি, মিনিমাম ৮০ হাজার দিছি।’ তিনি কেন চান এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যা হয়ছে সেটা তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করবে সেটাই। আমার যেটা করার দরকার ছিল, সেটা করে দিয়েছি।’
অন্য শিক্ষার্থীদের ছবি বা ভিডিও তিনি চেয়েছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই যুবক বলেন, ‘আমি কেন চাইব। আমি তো জানিও না কখন কোন ছবি, ভিডিও তুলেছে। আর অন্য মানুষের ছবি আমি কেন চাইব? আর সে কেন দেবে? আমি চাই সে অপরাধ করেছে শাস্তি হোক। আমি তাকে অনেক ভালোবাসতাম, তার জন্য দেশেও চলে গিয়েছিলাম। এমন কিছু নাই, যা ওর জন্য করেছি।’
ইবির অভিযুক্ত ওই ছাত্রীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সে মনে করে অন্যায় করেও পার পেয়ে যাবে। আমি তাকে বারবার সুযোগ দিয়েছিলাম। আমি ভাবছিলাম সে হয়তো ভালো হয়ে যাবে। সে দিনের পর দিন আমার থেকে সুযোগ নিয়ে নিছে। সে আমাকে তো ঠকাইছে, ওই মেয়েদেরকেও। আমাকে দিয়েছে অন্য কাউকে দেয়নি, তার কোনো গ্যারান্টি আছে।’
এ ঘটনায় হল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তারকে। সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন আবাসিক শিক্ষক ড. মুহা. কামরুজ্জামান। কমিটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম।
হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ গ্রহণের জন্য আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর তদন্ত কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
তিনি বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। তার অভিভাবকদের ডাকা হয়েছে, আসলে তাদের কাছে তুলে দেওয়া হবে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
What's Your Reaction?