লবণ মাখানো চামড়ায় ভরে উঠছে নাটোরের আড়ত

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাটোরে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত পশুর চামড়া আসতে শুরু করেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথের আড়তগুলো এখন পুরোদমে সরগরম। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া এ আড়তগুলো থেকেই ঢাকায় পাঠানো হয়। আড়তদারদের দাবি, এখন সরকার নির্ধারিত দামেই আড়তগুলোতে চামড়া কেনা-বেচা হচ্ছে। তবে ফরিয়া ব্যবসায়ী ও চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের পর প্রথম দুই দিন চকবৈদ্যনাথে সরকার নির্ধারিত দর মেনে কাঁচা চামড়া কেনা হয়নি। ফলে কোরবানিদাতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ফরিয়া ব্যবসায়ীরা প্রকৃত দাম থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কোরবানির দিন বিকেল থেকে পরবর্তী দুই দিন নাটোরে গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস দরে কেনা-বেচা হয়েছে। খরচের অজুহাত আড়তদারদের এবার ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গ ফুট গরুর চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, খাসির চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া বেচাকেনা হয়নি বলে অভিযোগ ফরিয়া এবং চামড়া বিক্রেতাদের। বিপরীতে আড়তদাররা বলছেন, কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে তাদের অনেক টাকা

লবণ মাখানো চামড়ায় ভরে উঠছে নাটোরের আড়ত

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নাটোরে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত পশুর চামড়া আসতে শুরু করেছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথের আড়তগুলো এখন পুরোদমে সরগরম। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ চামড়া এ আড়তগুলো থেকেই ঢাকায় পাঠানো হয়।

আড়তদারদের দাবি, এখন সরকার নির্ধারিত দামেই আড়তগুলোতে চামড়া কেনা-বেচা হচ্ছে।

তবে ফরিয়া ব্যবসায়ী ও চামড়া বিক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদের পর প্রথম দুই দিন চকবৈদ্যনাথে সরকার নির্ধারিত দর মেনে কাঁচা চামড়া কেনা হয়নি। ফলে কোরবানিদাতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ফরিয়া ব্যবসায়ীরা প্রকৃত দাম থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কোরবানির দিন বিকেল থেকে পরবর্তী দুই দিন নাটোরে গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা এবং খাসির চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস দরে কেনা-বেচা হয়েছে।

খরচের অজুহাত আড়তদারদের

এবার ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গ ফুট গরুর চামড়া ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, খাসির চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ থেকে ২২ টাকা। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে চামড়া বেচাকেনা হয়নি বলে অভিযোগ ফরিয়া এবং চামড়া বিক্রেতাদের।

বিপরীতে আড়তদাররা বলছেন, কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে তাদের অনেক টাকা খরচ পড়ে যায়। ৫৫ টাকা প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনলে চামড়া সংরক্ষণে প্রায় সমপরিমাণ খরচ পড়ে যায়। তাছাড়া বাজারে লবণের দামও বেশি।

লবণ মাখানো চামড়ায় ভরে উঠছে নাটোরের আড়ত

আড়তদার গ্রুপ ও প্রশাসনের বক্তব্য

নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হালিম সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের উত্তর পশ্চিমাংশের প্রায় ২০ জেলা থেকে নাটোরের চকদ্যৈনাথ চামড়ার আড়তগুলোতে আসতে শুরু করেছে চামড়া। ট্যানারি মালিকরা ভালো মানের চামড়া সরকারি দরেই কিনছেন। ফলে চামড়া ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন।

ঈদের পরে কম দামে চামড়া কেনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, চামড়া সংরক্ষণে তাদের খরচ করতে হয়। তবে ভালোভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত ভাল চামড়া তারা প্রকৃত দামেই কেনা-বেচা করেছেন।

ট্যানারি মালিকরা জানান, চামড়া সংরক্ষণ এবং পরিবেশ ভালো রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে ঈদের ৭ দিন পর থেকে ট্যানারি মালিকদের চামড়া কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এখন চামড়া কিনছেন।

নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, নাটোরের চকবৈদ্যনাথ আড়তে চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। চামড়া বাজার নজরদারিতে প্রশাসন মাঠে রয়েছে।

রেজাউল করিম রেজা/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow