লেখকের বিরুদ্ধ সময়
চূর্ণসম্ভাষণ-২ বিরুদ্ধ সময় জীবনের বড় কসাঘাত। জীবনে নানা পর্বে এর এসে যাওয়া আমরা দেখি। তখন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়। বিরুদ্ধ সময়কে তো দুঃসময়ও বলা যায়। প্রত্যেক মানুষ যেমন জীবনে এই দুঃসময়ের মুখোমুখী হয়। গোটা জাতিও হয়। পরিত্রাণও পায়। ব্যক্তিজীবনের এই অভিজ্ঞতা, জাতির জীবনের এই অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়ে থাকে। একজন লেখকও এর বাইরে নয়। বিরুদ্ধ সময়ের কথা, দুঃসময়ের কথা লেখকদের নানা লেখায় আমরা পড়ে থাকি, আমাদের জানার পরিধি বাড়ে। একজন লেখকের জীবনে বিরুদ্ধ সময় নানাভাবে দেখা দেয়, যখন তিনি লিখতে পারেন না, এটাও তার জন্য বিরুদ্ধ সময়। আবার প্রচুর লিখলেন, কিন্তু প্রকাশে নানা প্রতিবন্ধকতা। এই প্রকাশ পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে গ্রন্থ প্রকাশের বেলাতেও হতে পারে। লেখা প্রকাশের পথটি সহজ মসৃণ কতটা তা স্থান কাল ভেদে ভিন্নরকম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞতা থেকে লেখক নানা কথা বলতে পারেন। এ নিয়ে তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণের কথা বলতে পারেন, আনন্দের কথাও শোনাতে পারেন। একটা কথা মাঝেমধ্যে কোথাও কোনো ছোট আড্ডাতেও শুনেছি; এখন কতো লেখক, সাহিত্য সম্পাদকরা কতজনের লেখা ছাপবেন! সেই সঙ্গে লেখার গুণগত মান নিয়েও সাহিত্য সম্পাদকরা দ্বিধা
চূর্ণসম্ভাষণ-২
বিরুদ্ধ সময় জীবনের বড় কসাঘাত। জীবনে নানা পর্বে এর এসে যাওয়া আমরা দেখি। তখন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়। বিরুদ্ধ সময়কে তো দুঃসময়ও বলা যায়। প্রত্যেক মানুষ যেমন জীবনে এই দুঃসময়ের মুখোমুখী হয়। গোটা জাতিও হয়। পরিত্রাণও পায়। ব্যক্তিজীবনের এই অভিজ্ঞতা, জাতির জীবনের এই অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়ে থাকে। একজন লেখকও এর বাইরে নয়। বিরুদ্ধ সময়ের কথা, দুঃসময়ের কথা লেখকদের নানা লেখায় আমরা পড়ে থাকি, আমাদের জানার পরিধি বাড়ে। একজন লেখকের জীবনে বিরুদ্ধ সময় নানাভাবে দেখা দেয়, যখন তিনি লিখতে পারেন না, এটাও তার জন্য বিরুদ্ধ সময়। আবার প্রচুর লিখলেন, কিন্তু প্রকাশে নানা প্রতিবন্ধকতা। এই প্রকাশ পত্রপত্রিকা থেকে শুরু করে গ্রন্থ প্রকাশের বেলাতেও হতে পারে। লেখা প্রকাশের পথটি সহজ মসৃণ কতটা তা স্থান কাল ভেদে ভিন্নরকম।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞতা থেকে লেখক নানা কথা বলতে পারেন। এ নিয়ে তার হৃদয়ের রক্তক্ষরণের কথা বলতে পারেন, আনন্দের কথাও শোনাতে পারেন। একটা কথা মাঝেমধ্যে কোথাও কোনো ছোট আড্ডাতেও শুনেছি; এখন কতো লেখক, সাহিত্য সম্পাদকরা কতজনের লেখা ছাপবেন! সেই সঙ্গে লেখার গুণগত মান নিয়েও সাহিত্য সম্পাদকরা দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। একটা সময় দেখা যেত লেখকের সংখ্যা কম, ফলে সাহিত্য সম্পাদকদের লেখা ছাপা নিয়ে খুব একটা চাপে থাকতে হতো না। কম লেখক থাকায় দ্রুত নামকরা লেখক হওয়া সহজ ছিল। এখন সেরকমটি নেই। প্রচুর লেখক। প্রতিযোগীতা তীব্র। এসব মারিয়েই নামকরা লেখক হওয়ার কথা ভাবতে হয় লেখক কে। এরপর লেখকদের নানা শিবির রয়েছে। সেই শিবির পরিচালিত হয়- নানা চিন্তা থেকে, তার মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে রাজনৈতিক ভাবনাও কাজ করে। শিবিরভুক্ত লেখকরা আলোচনার কেন্দ্রটি সমুজ্জ্বল রাখেন। শিবিরবর্হিভূত লেখক কোথাও পাত্তা পান না। তাকে এড়িয়ে চলার প্রবণতা নিয়েও কথা হয়। তার লেখার গুণগত মান, তার লেখার প্রতি আন্তরিকতা- এসব মূল্যায়িত হয় না। শিবিরভুক্ত লেখকের জন্য দরজা সবসময় খোলা থাকে, তাকে ডেকে এনে ঘরের মধ্যে বসানো হয়। শিবিরবর্হিভূত লেখক দরজা বন্ধ পান। তাকে ডেকে এনে ঘরে বসানো হবে, এটা তিনি কখনও কল্পনাও করেন না। তারপরেও কি শিবিরবহির্ভূত লেখক, লেখক হয়ে উঠতে পারেন না, নিজের লেখালেখি ধরে রাখতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন! এক কথায় বলা যাবে না লেখা ছেড়ে দিয়ে তিনি সটকে পড়েন। কারোর কারোর ক্ষেত্রে এটা হতে পারে। কিন্তু যার লেখক হওয়ার অদম্য আগ্রহ রয়েছে, তিনি সব বাধা, বিরুদ্ধ পরিবেশ পার হয়ে কোনও বিশাল জলাশয়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ান। জলাশয়ের শীতল হাওয়া তার বুকে এসে ঝাপট দেয়। এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় আছে বলে আমার ধারণা হয়, সেটা হলো লেখকের স্বভাব।
লেখকদের মধ্যে কেউ কেউ যত দ্রুত অন্যের সঙ্গে মিশতে পারেন এবং মেলামেশার সুযোগটি তার হাতের মুঠোয়, সে সংঘের একজন হয়ে যান। অনেকে আছেন কারোর সঙ্গে সহজ হতেই তার দীর্ঘ সময় লেগে যায়, তিনি পেছনে পড়ে থাকেন, সংঘের সদস্য হতে তার পক্ষে আদৌও আর সম্ভব হয় না। হয়তো তিনি মনের মধ্যে তীব্র একটা আকাক্সক্ষা ধরে রাখেন যে তিনিও শিবিরভুক্ত হবেন, সংঘের একজন লেখক হবেন। কিন্তু শিবিরের বা সংঘের যারা নেতা তারা যথেষ্ট সচেতন, এটাও বলা যায় অতি ঘোড়েল। নিজেদের চিন্তা-ভাবনার বাইরে কাউকে তারা নিতে চায় না। সুতরাং সংঘে ঢুকার জন্য লেখকের চিন্তাস্রোতও সহায়কা ও বিরোধপূর্ণ।
সব দশকেই লেখক-কবি এভাবে আবর্তিত হন। সব দশকেই কোনও কোনও লেখক একা একা চলেন। সব দশকেই কোনও কোনও কবি-লেখক ও সাহিত্য সম্পাদক আসর বসিয়ে তাতে মধ্যমণি হয়ে ওঠেন। সেখানে মৌমাছির মতো অনেক লেখক ও কবি জমায়েত হন। তার খবর প্রচার মাধ্যমেও বের হয়। প্রচার মাধ্যমে খবর বের হওয়ায় বাড়তি একটা আকর্ষণ থাকে লেখকদের মধ্যে। এটাকে কারোর বিরূপভাবে দেখা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। সাহিত্য সমাজে নানা কর্মকাণ্ড চালিত হতে পারে, আসর বা অনুষ্ঠান বসানোও তো সাহিত্যের উপকার অর্থেই করা হয়। তবে এ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও দোষ নেই। লেখকদের মধ্যে যার, যেটা ভালোলাগে, তিনি সে দিকেই যাবেন। তবে লেখক যদি সংগঠক হয়ে ওঠেন, সেটা নাকি তার নিজের জন্যই ক্ষতিকর, এমনই একটি কথা রাজা ভাই, ৮০ দশকের গুরুত্বপূর্ণ কবি রাজা হাসান একদিন এক সন্ধ্যায় একটি চায়ের দোকানে বসে বলছিলেন।
২.
প্রায় দুই বছরের অধিককাল পর শাহবাগ ও কাঁটাবন গেলাম। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ওখানে গিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত হলাম। আগে বাসে চড়ে যেতে হত, বুধবার গেলাম মেট্রোরেলে চড়ে। ফিরলামও মেট্রোরেলে। দিনদিন মেট্রোরেলও পুরনো হয়ে আসছে। সামনে হয়তো পাতাল রেল আসবে। প্রচুর মানুষ এখন উড়ন্ত যান মেট্রোরেলে চেপে রাজধানীতে যাতায়াত করেন। আমি নিজেও অবশ্য শুক্রবার ও ছুটির দিন ছাড়া অফিসে প্রায় অর্ধেক পথ মেট্রোরেলে চেপে যাই। এরকম বহু মানুষ এখন অফিস করেন মেট্রোরেলে চেপে। যেমন মেট্রোরেল চালু হওয়ার কিছুদিন পর আগারগাঁও মোড়ে দাঁড়িয়ে আমার বিস্ময় লাগত, মেট্রোরেল দৃশ্যপট কত নান্দনিক করে তুলেছে। যাই হোক। দুই বছর পর প্রথমে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে কিছু ভালোলাগা তৈরি হলো। এই মার্কেটের নিচের তলায় দেশি-বিদেশি কয়েকটি বইয়ের দোকান আছে। তার মধ্যে পাঠকসমাবেশ, তক্ষশীলা, প্রথমা, বাতিঘর, জনান্তিক ইত্যাদি। তক্ষশীলার সঙ্গেই বই কেনা সূত্রে এই বইঘরটি আমরা প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে পরিচিত, আমি জীবনে যত বই কিনেছি, তার বেশির ভাগটাই এখান থেকে। এটি পরিচালনা করেন মহিয়সী এক নারী। তিনি যশোরের মেয়ে বলে শুনেছি।
তক্ষশীলায় সেলিম নামে সুন্দর একটি তরুণ রয়েছে, অমায়িক ব্যবহার তার, কোনও বইয়ের খবর নিতে তাকে ফোন করলে ধর্য্যরে সঙ্গে সব শুনে বইটির খবর বলেন। বইটি যদি থাকে তা সযত্নে রেখে দেন। সময়মতো গিয়ে সেটি নিয়ে আসা যায়। জ্ঞান বিস্তারের ক্ষেত্রে বা জানার ক্ষেত্রে বইঘর বা বইয়ের দোকানের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সবারই জানা।
কিছুদিন ধরে কথা হচ্ছিল আজিজ সুপার মার্কেট থেকে ঢাকার সাহিত্য সমাজের স্থানান্তর হয়েছে কাঁটাবনের কনকর্ড এম্পোরিয়ামে। কনকর্ড এম্পোরিয়ামে কয়েক বছর আগে থেকেই দেশি-বিদেশি নানা বইয়ের দোকান এবং প্রকাশকদের দপ্তর গড়ে ওঠে। অল্পদিনেই জমজমাট হয়ে ওঠে এখানে। বিকেল থেকে লেখক-কবি এখানে আসতে থাকেন। যেমনটা একসময় আজিজ সুপার মার্কেটে দেখা যেত। তবে বুধবার এখানটায় গিয়ে আমার মনে হলো এখানকার বইয়ের দোকানগুলো আরও অত্যুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বইকেনা সূত্রেই তো অনেক লেখক-কবি এখানে আসেন। তবে ঠিক আগের মতো আড্ডা হয় কিনা নির্ঘাত বলতে পারছি না। তবে কনকর্ড এম্পোরিয়ামে যে লেখক-কবিদের দারুণ সব আড্ডা হয়, নতুনভাবে তার প্রমাণ মিলল। এটিই বিস্তারিত একটু বলার দরকার। কনকর্ড এম্পোরিয়ামে বিশাল গ্রাউন্ডফ্লোরে অপার সৌন্দর্য নিয়ে এক একটি প্রকাশনি সংস্থার দপ্তর এবং দেশি-বিদেশি বইয়ের দোকান। তার মধ্যে সমহিমায় রয়েছে উজান বইঘরটি। এর কর্ণধার সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ। তার উজান বইয়ের দোকানটি লম্বা ধরনের। আগেই অনেক লেখক-কবি আড্ডা দেওয়ার একটি পরিবেশ তিনি গড়ে তোলন। এবার মনে হলো সেটি আরও পাকাপোক্ত করে তুলেছেন। লেখকদের জন্য বসার সুবন্দোবস্ত করে রেখেছেন। তারা দীর্ঘ আড্ডা দিতে পারেন তাতে কোনও অসুবিধে হবে না। উজান থেকে মাঝেমধ্যে বইপত্র আমিও কিনি। লেখক ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদকে আসলে সুলতান ভাই বলেই ডাকা হয়। আমিও সুলতান ভাই বলে ডাকি। সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো একবার একটি দৈনিক পত্রিকায় তিনি ও আমি কাজ করেছি; আলাদা আলাদা বিভাগে। তখন থেকেই হৃদ্যতা। তখন থেকেই তাকে আমার ভালো লাগতে শুরু করে। বর্তমানে তিনি দেশের জনপ্রিয় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন।
তক্ষশীলা থেকে বের হয়ে কনকর্ড এম্পোরিয়ামের প্রাঙ্গণ এসে চা খেলাম। এর এককোণায় চায়ের দোকানটি। মনে হলো চায়ের দোকানের মালিক পরিবর্তন হয়েছে। দোকানটি আগের দোকানটির চেয়ে বড়সরো, চা দেওয়ার জন্য একজন লোকও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন। বসার জন্য লম্বা একটি বেঞ্চ পাতা আছে। সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে সোজা উজানে গেলাম। লেখক ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদের উজান দেখভালের দায়িত্বে থাকা সুমনকে পাওয়া গেল। সুমনই থাকেন সবসময়। সুমন হৃদয়বান এক তরুণ। পরিচয়ের পর থেকেই আমার ভালোলাগে তাকে। উজানে কিছু সময় কাটানোর পর দেখি সত্তর দশকের উজ্জ্বতর লেখক-কবি ও অনুবাদক আলমগীর রেজা চৌধুরী, ৮০ বিশিষ্ট কবি বদরুল হায়দার, দ্বিতীয় দশকের কবি আহমেদ শিপলুসহ আরও কজন এলেন সেখানে। আহমেদ শিপলুর কথা একটু বলতে হয়, তিনি মগ্নপাঠ নামে বেশ পরিচিত একটি লিটল ম্যাগাজিন বের করেন। রাজধানী ঢাকা থেকে যে কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বের হয়, তার মধ্যে মগ্নপাঠ উল্লেখযোগ। পাঁচজন লেখক এক জায়গায় বসলে সাহিত্য-রাজনীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এটাই স্বাভাবিক। ওই আড্ডায় তাই হলো। তবে আড্ডার দুজন ব্যক্তি লেখক-কবি ও অনুবাদক আলমগীর রেজা চৌধুরী ও কবি বদরুল হায়দার সম্পর্কে যৎকিঞ্চিত না বললেই চলে না। বদরুল হায়দার সম্ভবত রাজধানী ঢাকার একমাত্র বোহেমিয়ান কবি। তার পরে তার মতো আর কাউকে বোহেমিয়ান কবি হিসেবে দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই। একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকেন। তার কবিতার একটি ভক্তকুল রয়েছে। আমি নিজেও তার কবিতার ভক্ত, যেখানে যেভাবে পাই তার কবিতা পড়ে উঠি। তিনি তার পরবর্তী কবিদের ব্যাপারে বেশ স্নেহপ্রবণ, অতিতরুণতম কবির সঙ্গে তিনি আড্ডা দিতে সংকোচবোধ করেন না। অনেক আগে দৈনিক বাংলার মোডে একটি হোটেলে তিনি ফ্রান্সের কবি বোদলেয়ার বিষয়ে তার জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই ঘটনা মনে আছে। আলমগীর রেজা চৌধুরীর মতো এই রাজধানীতে দ্বিতীয় কেউ আছেন কিনা আমার জানা নেই। এমন হৃদয়বান ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ খুব বেশি দেখিনি। অনুজতুল্যদের তিনি বুকে টেনে নিতে সময় নেন না। কবি আবু হাসান শাহরিয়ার তার বন্ধু এ কথা নক্ষত্রমোড়া ভাষায় তিনি বলে থাকেন। এক লেখক বন্ধুর প্রতি অন্য লেখকের এমন ভালোবাসা সত্যি বিরল। আমার সৌভাগ্য হয়েছে, রেজা ভাইয়ের সঙ্গে একটি পত্রিকায় কিছুকাল কাজ করার। তারও বহু আগে থেকে তার স্নেহ পেয়ে এসেছি। বর্তমানে তিনি একটি দৈনিক পত্রিকার উঁচুপদে আছেন এবং সেখানে সাহিত্য বিভাগটি তিনিই দেখভাল করেন। প্রকাশকরা তার উপন্যাস-গল্পগ্রন্থ ছাপার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকেন। বাংলা সাহিত্যের প্রতিভাবাবান এই লেখকের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সবসময় ভাগ্যবান মনে করেছি, ঋণী হয়েছি তার কাছে। যেমন কবি রাজা হাসানের সান্নিধ্য পেয়ে ঋণী হই, আনন্দে ডুবে যাই।
What's Your Reaction?