লেবাননে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতভেদ, কী বলছে হিজবুল্লাহ?
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্য নিরসনে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই লেবানন-ইসরায়েলের পঞ্চম দফার আলোচনা আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (২৬ জুন) এ ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ আরও গভীর হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে। লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার মাধ্যমে কোনো ‘নীতিগত ঘোষণা’ হতে হলে তাতে লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি অবশ্যই থাকতে হবে। লেবাননের প্রতিনিধিদল নির্দিষ্ট সময়সূচির ভিত্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার ওয়াশিংটনে চলমান লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে তারা বলেছে, কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহ
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আলোচনায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতপার্থক্য নিরসনে কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই লেবানন-ইসরায়েলের পঞ্চম দফার আলোচনা আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে।
মার্কিন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার (২৬ জুন) এ ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ আরও গভীর হওয়ায় আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে।
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার মাধ্যমে কোনো ‘নীতিগত ঘোষণা’ হতে হলে তাতে লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি অবশ্যই থাকতে হবে। লেবাননের প্রতিনিধিদল নির্দিষ্ট সময়সূচির ভিত্তিতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় রয়েছে।
এদিকে, শুক্রবার ওয়াশিংটনে চলমান লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে তারা বলেছে, কোনো শর্ত ছাড়াই লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
টেলিভিশন ভাষণে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাশেম বলেন, ইসরায়েলকে কোনো শর্ত ছাড়াই চলে যেতে হবে। লেবাননের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশ্রুতি গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ধরনের কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার অধিকার কারও নেই।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান জানায়, মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু তথাকথিত ইয়েলো লাইন বা অ্যান্টি-ট্যাংক লাইন। এপ্রিল মাসে নির্ধারিত এই কাল্পনিক রেখাটি ইসরায়েল সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার লেবাননের ভেতরে বিস্তৃত।
ইসরায়েল এই রেখার ভেতরের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের বোফোর্ট দুর্গের পাহাড়চূড়ায় তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়।
অন্যদিকে ইয়েলো লাইনের মধ্যে থাকা সব গ্রাম ও শহর—যেমন মাজদাল জুন, জিবকিন, বেইত লিফ, তাইরি ও কৌনিন—থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছে লেবানন।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘পাইলট পরিকল্পনা’
দ্য জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে একটি ‘পাইলট পরিকল্পনা’ প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ইসরায়েলি বাহিনী সরে গেলে ধীরে ধীরে সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে এবং হিজবুল্লাহ-এর সামরিক অবকাঠামো অপসারণ করবে।
তবে এই পরিকল্পনা কোথা থেকে শুরু হবে, তা নিয়েই মতবিরোধ রয়েছে।
বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী যেসব এলাকা দখল করে আছে সেখান থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করতে চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন। কিন্তু ইসরায়েল আগে এমন এলাকায় এটি পরীক্ষা করতে চায় যেখানে তাদের সেনা মোতায়েন নেই। তাদের দাবি, এতে লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহর কার্যক্রম ঠেকাতে কতটা সক্ষম তা যাচাই করা যাবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তেল আবিবে এক সম্মেলনে বলেন, আমরা সেখানে থাকব।
এর পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানালেও দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সরে যাবে না। তার ভাষায়, উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উপস্থিতি প্রয়োজন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, সামরিক প্রস্তুতি জোরদার ও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে কয়েকটি যুদ্ধ ব্রিগেড সরিয়ে নিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৩০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১৭৯ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি/দ্য জেরুজালেম পোস্ট
কেএম
What's Your Reaction?