লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, নিরাপত্তা শঙ্কায় বিদ্যুৎ কর্মীরা
নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে। বিশেষ করে গত তিন মাস ধরে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে দিনে গড়ে ১৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, গত ৭, ৮ ও ৯ আগস্টের বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাবে দেখা যায়, ৭ আগস্ট বিকেল চারটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ওই সময়ে ৫০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেল পাঁচটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যায় প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। ৯ আগস্ট রাত আটটার হিসাবেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি ছিল। ফলে এসব সময়ে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে। নেত্রকোনা পল্লী বিদ
নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে।
বিশেষ করে গত তিন মাস ধরে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে দিনে গড়ে ১৮ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রচণ্ড গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, গত ৭, ৮ ও ৯ আগস্টের বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের হিসাবে দেখা যায়, ৭ আগস্ট বিকেল চারটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১১০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৫৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ওই সময়ে ৫০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেল পাঁচটায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২০ মেগাওয়াট। সরবরাহ পাওয়া যায় প্রায় ৬০ মেগাওয়াট। ৯ আগস্ট রাত আটটার হিসাবেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি ছিল। ফলে এসব সময়ে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, তাদের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সমিতি। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হলে গ্রাহকদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো স্থানে গ্রাহকদের অসন্তোষ ও চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃক জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া চিঠি/ ছবি: জাগো নিউজ
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় জেলার ১৫টি উপকেন্দ্রে গ্রাহক রয়েছে প্রায় ছয় লাখ ৭১ হাজার। জেলা শহরে পিডিবির তিনটি উপকেন্দ্রে গ্রাহক আছে প্রায় ৫৭ হাজার। সব মিলিয়ে জেলায় বিদ্যুতের মোট গ্রাহক প্রায় সাত লাখ ২৮ হাজার। বর্তমানে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ থেকে ১৮৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১৫৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম।
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গ্রিড থেকে নেত্রকোনা গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। উপজেলা সদরগুলোতে হাসপাতাল, ব্যাংক, সরকারি অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান থাকায় সেখানে তুলনামূলক কম লোডশেডিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে পানি সরবরাহ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।
আটপাড়া উপজেলা সদরের বাসিন্দা মো. আঙুর মিয়া বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। রাতে বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টায় গড়ে সাত ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।’
কলমাকান্দা উপজেলার নক্তিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার আগে আসে না। কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়।’
মোহনগঞ্জ উপজেলার সদেরর বাসিন্দা সারোয়ার আলম খোকন বলেন, ‘কারেন্ট এই আসে এই যায়! ফ্যানের পাকা ঘুরতে ঘুরতেই আবার চলে যায়। একবার বিদ্যুৎ গেলে চার ঘণ্টার আগে দেখা মেলে না। দিনে গড়ে ছয় ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ থাকে।’
কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া গ্রামের আনিসুর রহমান বলেন, ‘সদর এলাকার ১ নম্বর ফিডারে তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অথচ অন্য ফিডারগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। শিশুরা, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, অসুস্থ রোগীদের টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
মদন উপজেলা সদরের বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, ‘এখন সবকিছুই বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। লোডশেডিংয়ের কারণে বাসার পানির মোটর চালানো যায় না। গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। সন্তানদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। জীবন যাপন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।’
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের পক্ষে মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন এ অবস্থায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সব অফিস এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকের কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সমিতির আওতাধীন সব অফিস এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’
নেত্রকোনা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল, আদালত, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ফিডারে তুলনামূলক কম লোডশেডিং করা হয়।’
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে সমিতির আওতাধীন সব অফিস এবং ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টা গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। সংকট কাটিয়ে উঠতে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
এইচ এম কামাল/এসজেডএইচ/জেআইএম
What's Your Reaction?
