শচীন ও ফ্লিকের পর কি শিউলি…
ভারতের গোয়া থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর পৌঁছতে লম্বা সময়ের প্রয়োজন। অতটা সময় মৃতদেহ রাখাটা কঠিন। তাই মায়ের শেষকৃত্যে থাকা হচ্ছে না জাতীয় দলের ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের। মা বাসনা আজিমের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে না পারার কষ্ট বুকে চেপে আগামীকাল বুধবার নেপালের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নামতে হচ্ছে তাকে। খেলাধুলার ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মাঠ আর জীবনের সীমারেখা একসূত্রে মিলে যায়। ১৯৯৯ সালের ২৩ মে ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে শচীন তেন্ডুলকার যখন কেনিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন, তখন তার বুকের ভেতরে এক নিস্তব্ধ শূন্যতা। বাবা রমেশ তেন্ডুলকারের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরে এসেছিলেন তিনি—কারণ এটাই ছিল বাবার শেষ ইচ্ছা। সেই শোকসিক্ত হৃদয়ে ১০১ বলে ১৪০ রানের যে ইনিংস খেলেছিলেন, তা শুধু একটি ক্রিকেটীয় কীর্তি নয়—সন্তানের পিতৃতর্পণ। সাতাশ বছর পরে, সেই একই অগ্নিপরীক্ষার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের মহারণের আগে বাংলাদেশ শিবিরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জাতীয় নারী ফুটবল দ
ভারতের গোয়া থেকে ঢাকা হয়ে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর পৌঁছতে লম্বা সময়ের প্রয়োজন। অতটা সময় মৃতদেহ রাখাটা কঠিন। তাই মায়ের শেষকৃত্যে থাকা হচ্ছে না জাতীয় দলের ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের। মা বাসনা আজিমের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে না পারার কষ্ট বুকে চেপে আগামীকাল বুধবার নেপালের বিপক্ষে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নামতে হচ্ছে তাকে।
খেলাধুলার ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মাঠ আর জীবনের সীমারেখা একসূত্রে মিলে যায়। ১৯৯৯ সালের ২৩ মে ব্রিস্টলের কাউন্টি গ্রাউন্ডে শচীন তেন্ডুলকার যখন কেনিয়ার বিপক্ষে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন, তখন তার বুকের ভেতরে এক নিস্তব্ধ শূন্যতা। বাবা রমেশ তেন্ডুলকারের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই ফিরে এসেছিলেন তিনি—কারণ এটাই ছিল বাবার শেষ ইচ্ছা।
সেই শোকসিক্ত হৃদয়ে ১০১ বলে ১৪০ রানের যে ইনিংস খেলেছিলেন, তা শুধু একটি ক্রিকেটীয় কীর্তি নয়—সন্তানের পিতৃতর্পণ। সাতাশ বছর পরে, সেই একই অগ্নিপরীক্ষার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের মহারণের আগে বাংলাদেশ শিবিরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জাতীয় নারী ফুটবল দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমের মা বাসনা আজিম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার ৩ জুন, বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনাল। মাকে হারানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই কি সেই সবুজ আয়তক্ষেত্রে নামবেন শিউলি!
বাংলাদেশ দলের বিগত দুটি সাফ শিরোপা জয়ের পেছনে রক্ষণভাগে অন্যতম বড় নির্ভরতা ছিলেন শিউলি আজিম। এবারের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মিশনে গোয়ায় আসা বর্তমান দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ও বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়ও তিনি। সতীর্থের এই মানসিক বিপর্যয়ের দিনে ফুটবলাররা মাঠে না নেমে তার পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন—বাতিল হয় মঙ্গলবার সকালের নির্ধারিত অনুশীলন সেশন। পুরো দল যখন শোকস্তব্ধ, তখন বিশ্রাম নেই ঘড়ির কাঁটার—ম্যাচ আসছে, প্রতিপক্ষ অপেক্ষায়।
এই পরিস্থিতি একেবারে অপরিচিত নয় ক্রীড়াজগতে। গত মাসে এল ক্ল্যাসিকোর দিন সকালে হ্যান্সি ফ্লিক জানতে পারেন, তার বাবা মারা গেছেন। খবরটা জেনেও দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এই কোচ। সেই রাতেই মার্কাস র্যাশফোর্ড ও ফেরান তোরেসের গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে বার্সেলোনা লা লিগার শিরোপা ঘরে তোলে।
ম্যাচের পরে কণ্ঠ ভেঙে পড়েছিল ফ্লিকের—‘এটি একটি কঠিন দিন ছিল। সকালে মায়ের ফোন পাই। তারপর ভাবলাম—এটি কি লুকিয়ে রাখব, নাকি দলকে জানাব? কারণ এই দলটিকে আমি পরিবার মনে করি।’ সেই একই টানাপোড়েনে আজ শিউলি আজিম।
শিউলি আজিম নিজেই কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, অতীতের সাফল্য নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না—এবারও নিজেদের সেরাটা দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সেই লড়াইয়ের মাঠে নামার আগেই জীবন তাকে দিয়ে গেছে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
ক্রীড়াজগৎ যখন শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলে, তখন সংখ্যায় পরিমাপ করে—গোল, শিরোপা, রেকর্ড। কিন্তু কিছু কিছু মুহূর্ত থাকে যেগুলো পরিমাপের বাইরে। মায়ের শেষ নিঃশ্বাসের পরও বুট বেঁধে মাঠে নামাটাই হয়তো শিউলি আজিমের সবচেয়ে বড় পারফরম্যান্স হয়ে উঠবে—রেজাল্ট যাই হোক না কেন। তেন্ডুলকার সেদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে শতরান উৎসর্গ করেছিলেন। শিউলিও হয়তো মাঠে নামবেন মায়ের নামে—শোককে বুকে চেপে, দেশের জন্য।
What's Your Reaction?