শহরের শিশুদের চোখে কোরবানি ঈদ
কোরবানি ঈদ এলেই বাংলাদেশের শহরগুলো যেন হঠাৎ বদলে যায়। ব্যস্ত সড়কের পাশে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়, অলিগলিতে শোনা যায় পশুর ডাক আর ছাদে কিংবা গ্যারেজে বাঁধা থাকে গরু ও ছাগল-সব মিলিয়ে কোরবানি ঈদ যেন নগরজীবনের এক বিশেষ রঙিন উৎসব। তবে এই উৎসবকে সবচেয়ে ভিন্নভাবে অনুভব করে শিশুরা। তাদের চোখে কোরবানি ঈদ আনন্দ, বিস্ময়, কৌতূহল, মায়া আর শেখার এক অনন্য সময়। গ্রামের শিশুরা হরহামেশাই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ নানা গৃহপালিত পশু দেখতে পায়। তারা ছোটবেলা থেকেই এসব পশুর সঙ্গে পরিচিত হয়ে বড় হয়। নগরজীবনে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনেকেরই প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত। তারা বই কিংবা টেলিভিশনে গরু-ছাগল দেখলেও কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ খুব কম পায়। তাই কোরবানি ঈদ তাদের জন্য জীবন্ত অভিজ্ঞতা হয়ে আসে। তাই কোরবানি ঈদ এলে অনেক শিশু পরিবারের সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটে যায়। শহরের অনেক শিশুর কাছেই কোরবানির হাট যেন ছোট্ট এক মেলার মতো। বিশাল গরু, রঙিন দড়ি, বিক্রেতাদের হাঁকডাক-সবকিছুই তাদের কাছে নতুন ও রোমাঞ্চকর লাগে। ‘সুলতান’, কেউ ‘কালা মানিক’ সহ নানা ব্যতিক্রমী নাম রাখেন গরুর। তারা হাট ঘুরে ঘুরে নানা ধরনের পশু দেখে আনন্দ উপভোগ করে এবং অ
কোরবানি ঈদ এলেই বাংলাদেশের শহরগুলো যেন হঠাৎ বদলে যায়। ব্যস্ত সড়কের পাশে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়, অলিগলিতে শোনা যায় পশুর ডাক আর ছাদে কিংবা গ্যারেজে বাঁধা থাকে গরু ও ছাগল-সব মিলিয়ে কোরবানি ঈদ যেন নগরজীবনের এক বিশেষ রঙিন উৎসব। তবে এই উৎসবকে সবচেয়ে ভিন্নভাবে অনুভব করে শিশুরা। তাদের চোখে কোরবানি ঈদ আনন্দ, বিস্ময়, কৌতূহল, মায়া আর শেখার এক অনন্য সময়।
গ্রামের শিশুরা হরহামেশাই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ নানা গৃহপালিত পশু দেখতে পায়। তারা ছোটবেলা থেকেই এসব পশুর সঙ্গে পরিচিত হয়ে বড় হয়। নগরজীবনে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনেকেরই প্রকৃতির সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত। তারা বই কিংবা টেলিভিশনে গরু-ছাগল দেখলেও কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ খুব কম পায়। তাই কোরবানি ঈদ তাদের জন্য জীবন্ত অভিজ্ঞতা হয়ে আসে।
তাই কোরবানি ঈদ এলে অনেক শিশু পরিবারের সঙ্গে কোরবানির পশুর হাটে যায়। শহরের অনেক শিশুর কাছেই কোরবানির হাট যেন ছোট্ট এক মেলার মতো। বিশাল গরু, রঙিন দড়ি, বিক্রেতাদের হাঁকডাক-সবকিছুই তাদের কাছে নতুন ও রোমাঞ্চকর লাগে। ‘সুলতান’, কেউ ‘কালা মানিক’ সহ নানা ব্যতিক্রমী নাম রাখেন গরুর। তারা হাট ঘুরে ঘুরে নানা ধরনের পশু দেখে আনন্দ উপভোগ করে এবং অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে পশু কেনার অভিজ্ঞতাও নেয়।
যেসব পরিবারের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই, সেসব পরিবারের শিশুরাও বড়দের সঙ্গে শুধু পশু দেখার জন্য হাটে যায়। এমন সুযোগের অপেক্ষায় শহরের শিশুরা আগেভাগেই থাকে। এই অভিজ্ঞতা তাদের মনে এক ভিন্ন ধরনের আনন্দ ও উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তোলে।
শহরের শিশুদের কাছে কোরবানির পশু অনেক সময় পরিবারের নতুন সদস্যের মতো হয়ে ওঠে। তারা পশুকে খাবার দেয়, পানি পান করায়, গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে। এসব ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়েই শিশুরা প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা শেখে। এছাড়া আশপাশের অন্য শিশুরাও বাসাবাড়ি কিংবা অলিগলিতে রাখা বড় বড় গরু ও ছাগল দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বা বসে থাকে। কেউ পশুকে হাত দিয়ে স্পর্শ করে, কেউ আদর করে-এসবের মধ্য দিয়েই তারা এক ধরনের আনন্দ ও নতুন অভিজ্ঞতা উপভোগ করে।
ঈদের দিন ঢাকা শহরের অলিগলি, প্রতিটি বাড়ির সামনে পশু কোরবানির প্রস্তুতি, সারি সারি গরু ও অন্যান্য পশুর উপস্থিতি, কাটাকাটি ও মাংস ভাগ-বাটোয়ারার ব্যস্ততা সব মিলিয়ে এক আলাদা দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তখন বড়রা কোরবানির কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন আর শিশুরা সেই দৃশ্য উপভোগ করে। এ বিশেষ অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ঈদের আনন্দকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তবে এই আনন্দের ভেতরেও থাকে আবেগের আরেকটি দিক। অনেক শিশু কোরবানির সময় মন খারাপ করে ফেলে।
অনেক শিশু বাবা-মায়ের সঙ্গে মাংস বিতরণে অংশ নেয়। কেউ প্যাকেট ধরে, কেউ দরজায় গিয়ে দেয়। এ সময় অনেক অভিভাবকও এই সুযোগে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দেন। তারা শেখান, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও মানবিকতার শিক্ষা। এতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি তারা ভাগাভাগি ও সহমর্মিতার মূল্যও বুঝতে শেখে। এতে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পায়। কোরবানির মাংস যখন কোনো দরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছে যায়, তখন শিশুরা বুঝতে শেখে-ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ।
এদিকে, সাধারণ পরিবারের শিশুরা কোরবানির নানা ছোট ছোট কাজে অংশ নিয়ে আনন্দ পায়। নতুন পোশাকে রক্তের দাগ লাগিয়েও তারা এক ভিন্ন রকম আমেজে মেতে ওঠে। অনেক শিশু পশু জবাই থেকে শুরু করে পুরো কার্যক্রম মনোযোগ দিয়ে দেখে। কোন কাজ কীভাবে করা হয়, কীভাবে মাংস ভাগ করা হয় কিংবা কোরবানির অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়-এসব দেখে তারা যেমন আনন্দ পায়, তেমনি নতুন অনেক কিছু শিখতেও পারে। কোরবানিকে ঘিরে এসব ছোট ছোট মুহূর্তই শিশুদের স্মৃতির পাতায় জায়গা করে নেয়।
তবে ভালো কাজের পাশাপাশি শিশুদের চোখে কিছু নেতিবাচক দিকও ধরা পড়ে। কোরবানির পর রাস্তাঘাট অপরিচ্ছন্ন হয়ে গেলে তারা অস্বস্তি বোধ করে। আবার কোথাও কোথাও পশুর প্রতি অমানবিক আচরণ দেখলে তা শিশুমনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে বড়দের দায়িত্ব শিশুদের সামনে পরিচ্ছন্নতা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের ইতিবাচক উদাহরণ তুলে ধরা।
কোরবানি ঈদ শহরের শিশুদের জন্য তাই কেবল উৎসব নয়, এটি এক ধরনের জীবনপাঠ। এখানে আছে আনন্দ, আবেগ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা। কংক্রিটের শহরে বড় হওয়া শিশুরা এই ঈদের মধ্য দিয়ে ত্যাগ, সহানুভূতি এবং ভাগাভাগির সৌন্দর্য অনুভব করতে শেখে। আর সেই শেখাই হয়তো তাদের আগামী দিনের আরও মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
- আরও পড়ুন
সীমানার ওপারে ঈদ: কেমন কাটে প্রবাসী তরুণদের
কোরবানির ত্যাগ, শিক্ষা, মহানুভবতা-তরুণরা কীভাবে দেখছেন
কেএসকে
What's Your Reaction?