শহীদ মিনার নেই ৬০০ বিদ্যালয়ে
রাত পোহালেই শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মৌলভীবাজার জেলার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭০ বছর পরও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সাময়িক কাঠামো তৈরি করে অথবা পাশের কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। নিজ প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ৬০৩টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, রমজান মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ভাষা দিবসকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সীমিত আয়োজন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনারের অভাব বেশি। এতে ভাষা আন্দোলনের চেতনা শিক্ষার্থীদের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, শহীদ মিনার না থাক
রাত পোহালেই শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মৌলভীবাজার জেলার ৬০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। ভাষা আন্দোলনের প্রায় ৭০ বছর পরও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সাময়িক কাঠামো তৈরি করে অথবা পাশের কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। নিজ প্রতিষ্ঠানে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ১ হাজার ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ৬০৩টি বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রমজান মাস উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ভাষা দিবসকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সীমিত আয়োজন হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনারের অভাব বেশি। এতে ভাষা আন্দোলনের চেতনা শিক্ষার্থীদের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, শহীদ মিনার না থাকায় বিদ্যালয়ে কলাগাছ, বাঁশ ও কাগজ দিয়ে প্রতীকী মিনার নির্মাণ করে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদের স্মরণ করা হবে। আবার কিছু শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে দ্রুত সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক।
একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক বলেন, “শহিদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। শিক্ষার্থীরা যদি নিজ বিদ্যালয়েই শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারে, তাহলে তাদের মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা আরও গভীরভাবে গড়ে উঠবে।”
কমলগঞ্জ উসমানগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাবেরি দে বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শহীদ মিনার নেই। আবেদন করা হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। একটি স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, জেলার প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানানো হবে।
What's Your Reaction?