শান্তর আজকের ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালের ছায়া খুঁজে পেলেন মুমিনুল

৩১ রানে ২ ওপেনার সাজঘরে ফেরার পর শুরুর ভাঙন ঠেকানোই ছিল তাদের কাজ। মুমিনুল হক তিন নম্বরে নেমে একদিক আগলে রাখায় মনোযোগী ছিলেন। আর নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতে কিছুটা সময় রয়ে সয়ে খেললেও সময়ের প্রবাহতার সাথে সাথে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন। শান্তর কাউন্টার অ্যাটাকেই পাকিস্তানিদের বলে ধার কমে যায়। শান্তর ব্যাটিংটা যিনি অপরপ্রান্ত থেকে দেখেছেন, সেই মুমিনুল রীতিমত প্রশংসায় ভাসালেন সতীর্থকে। তুলনা করলেন তামিম ইকবালের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে। নিজের ক্যারিয়ারের শুরু থেকে দীর্ঘ সময় তামিম ইকবালকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মুমিনুল। তামিম যখন ওপেন করতেন, তখন টেস্টে মুমিনুলের ব্যাটিং পজিশন ছিল তিন নম্বর। ফলে বেশিরভাগ সময় তাদের জুটি দেখা যেতো। সেই সময় তামিম ইকবালকে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আক্রমণ করতে দেখেছেন মুমিনুল। কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারতেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের সাথে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শান্তর ব্যাটিং দেখে তামিম ইকবালের সেই আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কথাই মনে হয়েছে মুমিনুলের। দিনের খেলা শেষে মুমিনুল বলেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশ টিমের হ

শান্তর আজকের ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালের ছায়া খুঁজে পেলেন মুমিনুল

৩১ রানে ২ ওপেনার সাজঘরে ফেরার পর শুরুর ভাঙন ঠেকানোই ছিল তাদের কাজ। মুমিনুল হক তিন নম্বরে নেমে একদিক আগলে রাখায় মনোযোগী ছিলেন। আর নাজমুল হোসেন শান্ত শুরুতে কিছুটা সময় রয়ে সয়ে খেললেও সময়ের প্রবাহতার সাথে সাথে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হন। শান্তর কাউন্টার অ্যাটাকেই পাকিস্তানিদের বলে ধার কমে যায়।

শান্তর ব্যাটিংটা যিনি অপরপ্রান্ত থেকে দেখেছেন, সেই মুমিনুল রীতিমত প্রশংসায় ভাসালেন সতীর্থকে। তুলনা করলেন তামিম ইকবালের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সঙ্গে।

নিজের ক্যারিয়ারের শুরু থেকে দীর্ঘ সময় তামিম ইকবালকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মুমিনুল। তামিম যখন ওপেন করতেন, তখন টেস্টে মুমিনুলের ব্যাটিং পজিশন ছিল তিন নম্বর। ফলে বেশিরভাগ সময় তাদের জুটি দেখা যেতো।

সেই সময় তামিম ইকবালকে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর আক্রমণ করতে দেখেছেন মুমিনুল। কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারতেন বর্তমান বিসিবি সভাপতি।

আজ শুক্রবার পাকিস্তানের সাথে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শান্তর ব্যাটিং দেখে তামিম ইকবালের সেই আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কথাই মনে হয়েছে মুমিনুলের।

দিনের খেলা শেষে মুমিনুল বলেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশ টিমের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলা শুরু করি তখন নন -স্ট্রাইকিং এন্ডে তামিম (ইকবাল) ভাইয়ের ব্যাটিং খুব এনজয় করতাম। উনি নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ায় অনেক প্রতিকূল কন্ডিশনেও ভালো ব্যাটিং করতেন। প্রতিপক্ষ বোলারদের চেপে বসতে না দিয়ে উল্টো চড়াও হতেন নিজে।’

মুমিনুলের মনে হয় শুক্রবার শেরে বাংলায় শান্তর ব্যাটিং অ্যাপ্রোচটাও ছিল তামিম ইকবালের সেই সব ইনিংসের মত। মুমিনুলের মতে, ‘শান্তর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস ছিল আজকেরটা। ও অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেছে।’

শান্ত তার ইনিংসে কখনো কখনো ক্রিজের বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন, আবার কোনো সময় স্টেপ-আপ করে ড্রাইভ খেলেছেন। সেটা কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে মুমিনুল বলেন, ‘এটা শান্তর নিজস্ব মাইন্ডসেট এবং প্ল্যান ছিল আব্বাসের (বোলার) বিপক্ষে। কারণ ওকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে খেললে একটু ডিফিকাল্ট হতো। যেহেতু দুই দিক দিয়ে বল সিম করছিল। ও যেন সেটেল হতে না পারে, সেজন্য শান্ত ওই প্ল্যানটা নিয়েছিল।’

শান্তর আক্রমণাত্মক অ্যাপ্রোচ দেখে ভালো লেগেছে মুমিনুলের। তার কথা, ‘শান্তর আক্রমণাত্মক অ্যাপ্রোচের কারণেই শুরুর বিপর্যয় কাটানো সহজ হয়েছে। পাকিস্তানি বোলাররা আর সেভাবে চেপে বসতে পারেননি।’

সেক্ষেত্রে মারকুটে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে দিয়ে তামিম ইকবালের সেই অ্যাপ্রোচ ফিরিয়ে আনা যায়? তামিম ইকবালের মত তানজিদ তামিমও যদি কাউন্টার অ্যাটাক করতে পারেন, সেটা কি দলের জন্য ভালো হবে?

এই জায়গায় একটু সময় দিতে চান মুমিনুল। তার মতে, ‘আমার কাছে মনে হয় সবাই যদি ওভাবে কাউন্টার অ্যাটাক করতে চায়, তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যখন যার দিন আসবে, যে ওভাবে ভালো ফিল করবে সে করবে। শান্তর আজকে ব্যাটে খুব ভালো লেগেছে, পরের ইনিংসে হয়তো নাও লাগতে পারে। যার যেদিন হবে সেভাবেই শেষ করা উচিত। কন্ডিশন আর সিচুয়েশন বুঝে খেলাটাই ইম্পর্টেন্ট।’

এআরবি/এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow