শান্ত-ফিজে ভর করে কিউদের বিপক্ষে সিরিজ জিতল টাইগাররা

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৫৫ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। প্রথম দুই ম্যাচ না খেলা মোস্তাফিজ দলে ফিরেই পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। প্রায় দুই বছর পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।  জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে টম ল্যাথামের নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন হেনরি নিকোলসকে। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৩ রান তুলতে পারে কিউইরা। এরপর উইকেটে থিতু হওয়া উইল ইয়াংকে ১৪তম ওভারে ফেরান নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন ইয়াং। তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। তিন ওভার পর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে। মিডল স্টাম্পে থাকা ফুল লেংথ বলটিকে ল্যাথাম নিচু হয়ে সুইপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে শর্ট ফাইন লেগ অঞ্চলে, সহজেই

শান্ত-ফিজে ভর করে কিউদের বিপক্ষে সিরিজ জিতল টাইগাররা
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৫৫ রানের জয় পেয়েছে টাইগাররা। প্রথম দুই ম্যাচ না খেলা মোস্তাফিজ দলে ফিরেই পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন। তিনি নিয়েছেন ৫ উইকেট। এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান করে বাংলাদেশ। প্রায় দুই বছর পর সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।  জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে টম ল্যাথামের নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় তারা। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরা মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নেন হেনরি নিকোলসকে। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৩ রান তুলতে পারে কিউইরা। এরপর উইকেটে থিতু হওয়া উইল ইয়াংকে ১৪তম ওভারে ফেরান নাহিদ রানা। অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন ইয়াং। তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। তিন ওভার পর নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে। মিডল স্টাম্পে থাকা ফুল লেংথ বলটিকে ল্যাথাম নিচু হয়ে সুইপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে শর্ট ফাইন লেগ অঞ্চলে, সহজেই ক্যাচ নেন শরিফুল। এরপর নিক কেলি ও মোহাম্মদ আব্বাস মিলে চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন। উইকেটে থিতুও হয়েছিলেন দুজনই। তবে দু’জনের জুটি বড় হতে দেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২৬তম ওভারে কেলিকে ফিরিয়ে দেন এই বাঁ-হাতি পেসার। এর কিছুক্ষণ পর আব্বাসকেও হারায় নিউজিল্যান্ড। শরিফুলের শিকার হয়ে ফেরার আগে ৩৬ বল খেলে ২৫ রান করেন তিনি। ৪ ওভার পর নাহিদ রানার করা ঘণ্টায় ১৪৮.৬ কিলোমিটারের ইয়র্কার উপড়ে ফেলে জশ ক্লার্কসনের উইকেট। ৩৪ ওভারে ১৩৭ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলা নিউজিল্যান্ড ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে। এরপর ১৫০ থেকে ১৬০, ১০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করার সঙ্গে নিজের ফাইফার পূর্ণ করেন মোস্তাফিজুর রহমান। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট একাই চেষ্টা করছিলেন অসম্ভবকে সম্ভব করার। ৪২তম ওভারে তানভীর ইসলামকে দুইটি ছক্কাও হাঁকান। এরপরের ওভারে মোস্তাফিজকেও হাঁকান টানা দুই ছক্কা। তবে তার ৭৫ রানের ইনিংস কেবল হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি সৌম্য সরকারও (১৮)। ৩২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের হাল ধরেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস।  শুরুর চাপ কাটিয়ে আস্তে আস্তে মিডল ওভারে রানের চাকা সচল করতে থাকেন দুই ব্যাটার। ৩৩ তম ওভারের প্রথম বলে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১৩ তম ফিফটি তুলে নেন লিটন। এর আগে সর্বশেষ ফিফটি পেয়েছিলেন ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে। ২টি চারে ৭১ বলে ফিফটি পেলেন পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৩৯তম ওভারে লিটনে আউটে ভাঙে ১৬০ রানের জুটি। ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৯১ বলে ৭৬ রান করেন লিটন। তিনি সেঞ্চুরি মিস করলেও শান্ত সেই ভুল করেননি। ১১৪ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এই মাঠেই সবশেষ ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে সেঞ্চুরির পর তিনিও দ্রুত ফিরে যান। এর আগে খেলেন ১১৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১০৫ বলের ইনিংস। যে ইনিংস খেলতে তাকে উইকেটে কাটাতে হয়েছে ১৮৬ মিনিট। শান্ত-লিটনের বিদায়ের পর শেষদিকে আবার মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। যেখানে মনে হচ্ছিল ৩০০ ছাড়াবে বাংলাদেশের সংগ্রহ। সেখানে শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬১ রান করতে পারেন তাওহীদ হৃদয়-মেহেদী হাসান মিরাজরা। ফলে আড়াইশ টপকেই থেমে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow