শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা
শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. ছিলেন বাংলার সুলতানি আমলের একজন কিংবদন্তিতুল্য আলেম। তিনি ছিলেন একাধারে সুফি, মুহাদ্দিস এবং বিশিষ্ট ইসলামী আইন বিশারদ। ইসলামী বিষয়াদির পাশাপাশি তিনি ভেষজশাস্ত্র, গণিত, ভূগোল, ও রসায়নশাস্ত্রেও একজন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের গোড়ার দিকে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠও বুখারাতেই সমাপ্ত করেন। উচ্চস্তরের হাদিস শিক্ষার জন্য তৎকালীন ইলমে বিখ্যাত স্থান ইয়েমেনে গমন করেন এবং সেখানেই হাদিস সম্পর্কে সর্বোচ্চস্তরের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ১২৭৭ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে আগমন করেন। সে সময় গিয়াসউদ্দিন বলবন ভারতবর্ষের শাসনকর্তা ছিলেন। আল্লাহর এ অলির আগমনে লোকজন খুবই আনন্দিত হয়। অগণিত মানুষ তার দরবারে ভিড় জমাতে থাকে। একপর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা বাদশাহর জনপ্রিয়তাকেও অতিক্রম করে। অবস্থা বেগতিক দেখে সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন আবু তাওয়ামাকে বাংলায় পাঠিয়ে দেন। তিনি তদানীন্তন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে এসে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। সোনারগাঁওয়ে এসে তিনি ইসলামী শিক্ষা প্
শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. ছিলেন বাংলার সুলতানি আমলের একজন কিংবদন্তিতুল্য আলেম। তিনি ছিলেন একাধারে সুফি, মুহাদ্দিস এবং বিশিষ্ট ইসলামী আইন বিশারদ। ইসলামী বিষয়াদির পাশাপাশি তিনি ভেষজশাস্ত্র, গণিত, ভূগোল, ও রসায়নশাস্ত্রেও একজন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের গোড়ার দিকে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার পাঠও বুখারাতেই সমাপ্ত করেন। উচ্চস্তরের হাদিস শিক্ষার জন্য তৎকালীন ইলমে বিখ্যাত স্থান ইয়েমেনে গমন করেন এবং সেখানেই হাদিস সম্পর্কে সর্বোচ্চস্তরের ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আনুমানিক ১২৭৭ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লিতে আগমন করেন। সে সময় গিয়াসউদ্দিন বলবন ভারতবর্ষের শাসনকর্তা ছিলেন। আল্লাহর এ অলির আগমনে লোকজন খুবই আনন্দিত হয়। অগণিত মানুষ তার দরবারে ভিড় জমাতে থাকে। একপর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা বাদশাহর জনপ্রিয়তাকেও অতিক্রম করে। অবস্থা বেগতিক দেখে সুলতান গিয়াসউদ্দীন বলবন আবু তাওয়ামাকে বাংলায় পাঠিয়ে দেন। তিনি তদানীন্তন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ে এসে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। সোনারগাঁওয়ে এসে তিনি ইসলামী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে বর্তমান মোগরাপাড়ার দরগাবাড়ি প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা করেন একটি বৃহৎ মাদ্রাসা ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।
গবেষকরা মনে করেন, তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাই উপমহাদেশে ইলমে হাদিসের সর্বপ্রথম বিদ্যাপীঠ। এর আগ পর্যন্ত উপমহাদেশে দু-একজন হাদিস জানা আলেম থাকলেও এত উচ্চ সনদ ও মূলধারার ইমল ও হাদিসের চর্চা শায়েখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. এর মাধ্যমেই শুরু। ইলম অর্জনের জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে ছুটে আসত। হিন্দুস্তানের মাটিতে ইসলামী শিক্ষার যে অঙ্কুরোদগম বীজ লুকিয়ে ছিল, তিনি এসে তা মাটি ফুঁড়ে বের করে আনেন। সে সময় ওই মাদ্রাসার ছাত্রসংখ্যা ছিল ১০ হাজার। তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর এখানে হাদিসের শিক্ষা দিয়েছেন। মাদ্রাসার পাশে সেখানে তিনি একটি খানকাও প্রতিষ্ঠা করেন।
শায়খ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রহ. তিনি ‘মানজিলে মাকামাত’ নামে তাসাউফ সম্পর্কে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তা ছাড়া ছাত্রদের উদ্দেশে ফিকাহবিষয়ক যেসব বক্তৃতা দিয়েছিলেন, সেগুলোর সংকলন নিয়ে ফার্সি ভাষায় রচিত ‘নামাজে হক’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ গ্রন্থে ১৮০টি কবিতা লিপিবদ্ধ আছে। অনেকে এ গ্রন্থটিকে ‘মাসনবী বনামে হক’ নামে অভিহিত করেছেন। গ্রন্থটি ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে মুম্বাই থেকে এবং ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে কানপুর থেকে প্রকাশিত হয়। জানা যায়, ব্রিটিশ জাদুঘরের আর্কাইভ ভবনে শায়খ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার লিখিত পাণ্ডুলিপির অস্তিত্ব সংরক্ষিত আছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিশ্বকোষ মতে, তার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা থেকে উপমহাদেশে প্রথম হাদিসের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাদান শুরু হয়, শায়খ তাওয়ামা এখানে বোখারি, মুসলিম ও মুসনাদে আবু ইয়ালার দরস প্রদান করতেন।
অল্পদিনের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। দূরদূরান্ত থেকে অগণিত শিক্ষার্থী তার হাদিসের দরসে শরিক হতে থাকে। সুদূর দিল্লি ও সেরহিন্দ থেকে আসা ছাত্ররাও তার শিষ্যত্ব গ্রহণের জন্য এখানে হাজির হয়। বহুসংখ্যক হাদিস বিশারদও তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। ১৩৪৫ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন। তিনি তার ভ্রমণকাহিনিতে এই ঐতিহাসিক মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করেন।
বিখ্যাত হাদিসবিশারদ আবু তাওয়ামা (রহ.) ৭০০ হিজরি অনুযায়ী ১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে ইহলোক ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পরও বহুদিন এ মাদ্রাসা চালু ছিল। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কালের পরিক্রমায় একসময় মাদ্রাসার শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন সে মাদ্রাসাটির অস্তিত্ব আর নেই। তবে কালের সাক্ষী হিসেবে ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠটির কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।