শিক্ষার্থীকে শাসন করায় শিক্ষিকাকে মারধর: থানায় মামলা
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে ধমক দিয়ে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামে সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের মা ও বোন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়েছে । মামলার আসামিরা হলেন— উজ্জ্বল মাল, বাসিদ মাল, বাদশা মাল, লিপি খাতুন, বর্ষা খাতুন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল (৫৫) ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬-৭ জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে বিদ্যালয়ের পাশেই থাকা তার মা ও বোনকে হুমকি দেন। একইসঙ্গে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জ
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষার্থীকে ধমক দিয়ে শাসন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কিন্ডারগার্টেনে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুড়লিয়া গ্রামে সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় সহকারী শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অধ্যক্ষের মা ও বোন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়েছে ।
মামলার আসামিরা হলেন— উজ্জ্বল মাল, বাসিদ মাল, বাদশা মাল, লিপি খাতুন, বর্ষা খাতুন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল (৫৫) ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬-৭ জন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে বিদ্যালয়ের পাশেই থাকা তার মা ও বোনকে হুমকি দেন। একইসঙ্গে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধমক দিয়ে শাসন করেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। এতে ওই শিক্ষার্থী অপমানবোধ করে বাড়ি চলে যায়। পরে বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে এসে অধ্যক্ষকে খুঁজতে থাকেন।
এ সময় সহকারী শিক্ষিকা বর্ষা আক্তার সাথী এগিয়ে এলে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হামলাকারীরা তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বিদ্যালয় থেকে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উজ্জ্বল মাল বিভিন্নভাবে আমাদের বিরক্ত করে আসছিলেন। কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে তিনি প্রায়ই বিদ্যালয়ের ওপর চড়াও হতেন। এবার তার ভাগনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসায় আমি তাকে শাসন করি এবং নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে বলি। কিন্তু বিষয়টি না বুঝেই তারা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকসহ আরও কয়েকজনকে আহত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না। তাই মারধর থেকে রক্ষা পেয়েছি। তবে এ ঘটনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত শিক্ষিকা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এতে উজ্জ্বল মালসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অভিযুক্ত উজ্জ্বল মালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। রাতে ঝর্না খাতুন বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে এজাহার জমা দিয়েছে। এজাহারের ভিত্তিতে রাতেই মামলা রুজু করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে না আসার কারণে শাসন করাকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
What's Your Reaction?