শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ফের পালালেন অধ্যক্ষ
নির্বাচন ছাড়াই ব্যবস্থাপনা কমিটি করে নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি-প্রনোদনা ও প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম করার অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান। ঘটনার প্রায় দুই বছর পর আজ ফের প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ ডেকে তাদের সহযোগিতায় বিদ্যালয় ছেড়ে যান তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নানা অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগে শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা কয়েক দফা আন্দোলন করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্ত পুলিশের এক কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে আন্দোলনকারীদের হয়রানি করতেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট শিক্ষার্থী-অভিভাবকের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে উধাও হন। এরপর তিনি আর ওই প্রতিষ্ঠানে আসেননি। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদিকে বেতন-ভাতা ও স্বপদে বহাল চেয়ে শাহজাহান উচ্চ আদালতে রিট করেন। পরে চলতি বছরের ১৯
নির্বাচন ছাড়াই ব্যবস্থাপনা কমিটি করে নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি-প্রনোদনা ও প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম করার অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যান রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান।
ঘটনার প্রায় দুই বছর পর আজ ফের প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে গেলে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। পরে পুলিশ ডেকে তাদের সহযোগিতায় বিদ্যালয় ছেড়ে যান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নানা অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগে শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা কয়েক দফা আন্দোলন করেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্ত পুলিশের এক কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে আন্দোলনকারীদের হয়রানি করতেন তিনি।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট শিক্ষার্থী-অভিভাবকের আন্দোলনের মুখে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে উধাও হন। এরপর তিনি আর ওই প্রতিষ্ঠানে আসেননি। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় তার বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে বেতন-ভাতা ও স্বপদে বহাল চেয়ে শাহজাহান উচ্চ আদালতে রিট করেন। পরে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত ৬০ দিনের জন্য বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য মাউশির মহাপরিচালক, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলাপ্রশাসক নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ ১২ মার্চ তার কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নিয়ে সভা করেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই সভায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সভায় মূলত অধ্যক্ষ শাহজাহানের বেতন-ভাতা ও বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে ঈদুল ফিতরের পর পুনরায় সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু এরই মধ্যে ১৬ মার্চ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিটি ছিল এক পৃষ্ঠার, যেখানে আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে চিঠিতে বলা হলেও যে, কী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে তা দুই পৃষ্ঠার সংযুক্তিতে রয়েছে সেই সংযুক্তি তিনি পাননি।
পরে সংযুক্তির কপি পাওয়ার জন্য তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে অধ্যক্ষ শাহজাহান সভায় বহালের সিদ্ধান্তের কপি নিয়ে প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে যান। সেখানে শিক্ষার্থী-অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি পুলিশ ডেকে বিদ্যালয় ছাড়েন।
সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান বলেন, ‘১২ মার্চ আমি সহ ৫ জন শিক্ষক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের কার্যালয়ে যাই। সেখানে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়নি। ঈদের পর সভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানিয়ে আমাদের কাছে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ১৬ই মার্চ একটি চিঠি আসে সেখানে শুধু লেখা হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে। সেখানে আদেশ বাস্তবায়নের দুই পৃষ্ঠা সংযুক্তি থাকলেও আমরা তা পাইনি। কি সিদ্ধান্ত বাস্তবতা করব তার জন্য পরবর্তীতে ওই দুই পৃষ্ঠা সংযুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় যোগাযোগ করলেও কোন সাড়া মেলেন।’
একই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার ওসি ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে।
এ বিষয়ে সংযুক্তির দুই পৃষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের বিষয়ে ওনারা সিদ্ধান্ত নেবেন। আমি এখনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমি বলতে পারতাম।’
হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, ‘অধ্যক্ষ শাহজাহান তাকে ফোন করে জানান যে তিনি হাইকোর্টের একটি আদেশ পেয়েছেন এবং সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানে যোগদান করতে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি শাহজাহানকে আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পরই যোগদানের পরামর্শ দেন।’
তিনি আরও জানান, ‘পরে শাহজাহান সেখানে গেলে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি এখনো আদালতের আদেশের মূল কপি পাননি; কেবল একটি কপি দেখানো হয়েছে, যেখানে আদেশ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ রয়েছে।’
ওসি বলেন, ‘আমি তখন বলি, যথাযথ প্রক্রিয়ায় কাগজপত্র আসার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ সময় কিছু তরুণ উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শাহজাহানকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।
এদিকে গত ১৩ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও বেআইনিভাবে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ শাহজাহান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর কুচক্রী মহলের কারণে আমি দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানে আসতে পারিনি। এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে কারণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। দায়িত্ব পালনের জন্য আমি হাইকোর্টে রিট করলে আদালতের আদেশে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের চিঠি নিয়ে আজ যোগদান করতে গেলে বহিরাগতরা এসে ঝামেলা করেন। পরে সেখান থেকে চলে আসি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেবগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ কালবেলাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দকে নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ব্যতীত বাকি সকলেই তার বেতন-ভাতা প্রদান ও তাকে দায়িত্বে রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
What's Your Reaction?