শিশুকে ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার চাপ দিলে যা ঘটে
অনেক অভিভাবকই মনে করেন, শিশুকে যত ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার মধ্যে রাখা যায় ততই ভালো। তাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই কেউ কেউ লেখাপড়া, কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাসে অভ্যস্ত করে তোলেন। লক্ষ্য থাকে - শিশু যেন অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকে। তবে শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব অল্প বয়সে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ দিলে তা শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শেখার আনন্দ কমে গিয়ে বরং তৈরি হতে পারে চাপ, ভয় বা অনীহা। জেনে নিন বিস্তারিত - ১. শেখার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে শিশুরা স্বাভাবিকভাবে খেলা, কৌতূহল ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে। কিন্তু খুব অল্প বয়সে যদি নিয়মিত পড়াশোনার চাপ দেওয়া হয়, তাহলে শেখার আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। ফলে পড়াশোনা তাদের কাছে আনন্দের বদলে বাধ্যতামূলক কাজ হয়ে দাঁড়ায়। ২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়তে পারে ছোট শিশুদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশের পর্যায়ে থাকে। অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা হতাশা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় শিশুরা ব্যর্থতার ভয়েও ভুগতে শুরু করে। ৩. সৃজনশীলতা কমে যেতে পারে খেলা, গল্প, আঁকা বা কল্পনাশক্তির মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা গড়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের বেশির
অনেক অভিভাবকই মনে করেন, শিশুকে যত ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার মধ্যে রাখা যায় ততই ভালো। তাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই কেউ কেউ লেখাপড়া, কোচিং বা অতিরিক্ত ক্লাসে অভ্যস্ত করে তোলেন। লক্ষ্য থাকে - শিশু যেন অন্যদের তুলনায় এগিয়ে থাকে।
তবে শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, খুব অল্প বয়সে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ দিলে তা শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শেখার আনন্দ কমে গিয়ে বরং তৈরি হতে পারে চাপ, ভয় বা অনীহা। জেনে নিন বিস্তারিত -
১. শেখার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে
শিশুরা স্বাভাবিকভাবে খেলা, কৌতূহল ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে। কিন্তু খুব অল্প বয়সে যদি নিয়মিত পড়াশোনার চাপ দেওয়া হয়, তাহলে শেখার আনন্দ হারিয়ে যেতে পারে। ফলে পড়াশোনা তাদের কাছে আনন্দের বদলে বাধ্যতামূলক কাজ হয়ে দাঁড়ায়।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়তে পারে
ছোট শিশুদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশের পর্যায়ে থাকে। অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ তাদের মধ্যে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা হতাশা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় শিশুরা ব্যর্থতার ভয়েও ভুগতে শুরু করে।
৩. সৃজনশীলতা কমে যেতে পারে
খেলা, গল্প, আঁকা বা কল্পনাশক্তির মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীলতা গড়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের বেশির ভাগ অংশ যদি পড়াশোনার চাপে চলে যায়, তাহলে সৃজনশীল কাজের সুযোগ কমে যায়।
৪. সামাজিক দক্ষতা গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে
বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, দলগত কার্যক্রম বা গল্প করার মধ্য দিয়ে শিশু সামাজিক দক্ষতা শেখে। কিন্তু অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ থাকলে এসব অভিজ্ঞতা থেকে তারা বঞ্চিত হতে পারে।
৫. ঘুম ও শারীরিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে
শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম ও খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনার চাপ বেশি হলে অনেক সময় শিশুর ঘুম কমে যায় বা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটবেলায় পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গল্প শোনা, সৃজনশীল কাজ ও পারিবারিক সময় - সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। এতে শিশুর শেখা আনন্দময় হয় এবং মানসিক বিকাশও স্বাভাবিক থাকে।
প্রতিটি শিশুর শেখার গতি ও আগ্রহ আলাদা। তাই তুলনা না করে শিশুর বয়স, আগ্রহ ও মানসিক প্রস্তুতি অনুযায়ী শেখার পরিবেশ তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ইউনিসেফ, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড
এএমপি/এমএস
What's Your Reaction?