শিশুদের যৌন নিপীড়ন মামলায় মেটাকে ৪৫০০ কোটি টাকা জরিমানা

শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা এবং প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ রোধে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এ কারণে মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। খবর রয়টার্সের। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক ঐতিহাসিক রায়ে জুরি বোর্ড এই দণ্ড প্রদান করে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার মূল ভিত্তি ছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক দীর্ঘ তদন্ত প্রতিবেদন, যেখানে দেখা গিয়েছিল কীভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশুদের যৌন পাচারের বাজারে পরিণত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের কাছে মিথ্যা বলেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এবং বাইরের বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মেটা শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে মুনাফাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। শুনানি চলাকালীন ‘অপারেশন মেটাফাইল’ নামক একটি গোপন অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, অপরাধীরা মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদে

শিশুদের যৌন নিপীড়ন মামলায় মেটাকে ৪৫০০ কোটি টাকা জরিমানা
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা এবং প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ রোধে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এ কারণে মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। খবর রয়টার্সের। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক ঐতিহাসিক রায়ে জুরি বোর্ড এই দণ্ড প্রদান করে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার মূল ভিত্তি ছিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক দীর্ঘ তদন্ত প্রতিবেদন, যেখানে দেখা গিয়েছিল কীভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশুদের যৌন পাচারের বাজারে পরিণত হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে জনগণের কাছে মিথ্যা বলেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এবং বাইরের বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও মেটা শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে মুনাফাকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। শুনানি চলাকালীন ‘অপারেশন মেটাফাইল’ নামক একটি গোপন অভিযানের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, অপরাধীরা মেটার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ফাঁদে ফেলছে। এছাড়া আদালতকে আরও তিনটি বিষয় জানানো হয়, ১. এনক্রিপশন বিতর্ক : ফেসবুক মেসেঞ্জারে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন চালুর ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পুলিশের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২. অকার্যকর এআই মডারেশন : অপরাধ দমনে মেটা অতিরিক্তভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর নির্ভর করায় হাজার হাজার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে, যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কাজে আসছে না। ৩. জাকারবার্গের জবানবন্দি : মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ ও ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরি এক জবানবন্দিতে দাবি করেন, বিশাল ব্যবহারকারী থাকায় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কিছুটা অনিবার্য। তবে মেটা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা এই রায়ের সঙ্গে একমত নই। আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি এবং কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় আমরা আত্মবিশ্বাসী। মামলার পরবর্তী ধাপ আগামী ৪ মে থেকে শুরু হবে। সেখানে আদালত মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশুদের জন্য আরও শক্তিশালী বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা এবং অপরাধীদের দ্রুত অপসারণের মতো স্থায়ী পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারেন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow