শীলবনিয়া মার্মা পাড়ায় বাণিজ্যিক পর্যটন স্পট ঘিরে বিতর্ক: পরিবেশ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের শীলবনিয়া মার্মা পাড়ার মাঝখানে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা চাইশেমং মার্মা নামের এক ব্যক্তির উঠানে গড়ে ওঠা এই স্পটটিকে কেন্দ্র করে পাড়ার পরিবেশ ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীলবনিয়া পাড়াবাসী।লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ঈদুল আজহার পর থেকে হঠাৎ করেই পাড়ার মাঝখানে উন্মুক্ত জায়গায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই টুরিস্ট স্পটটি বসানো হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন দিন-রাত সেখানে পর্যটকদের বেপরোয়া চলাফেরা, অসংলগ্ন আচরণ ও বিভিন্ন বিরক্তিকর কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযোগপত্রে পাড়ার শান্তপ্রিয় বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে আসা নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন। পর্যটকদের অতিরিক্ত সমাগম এবং তাদের অশালীন আচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে পাড়ার যুবতী ও মায়েরা পর্যটকদের আপত্তিকর আচরণের

শীলবনিয়া মার্মা পাড়ায় বাণিজ্যিক পর্যটন স্পট ঘিরে বিতর্ক: পরিবেশ ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের শীলবনিয়া মার্মা পাড়ার মাঝখানে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পর্যটন স্পট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা চাইশেমং মার্মা নামের এক ব্যক্তির উঠানে গড়ে ওঠা এই স্পটটিকে কেন্দ্র করে পাড়ার পরিবেশ ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীলবনিয়া পাড়াবাসী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ঈদুল আজহার পর থেকে হঠাৎ করেই পাড়ার মাঝখানে উন্মুক্ত জায়গায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই টুরিস্ট স্পটটি বসানো হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন দিন-রাত সেখানে পর্যটকদের বেপরোয়া চলাফেরা, অসংলগ্ন আচরণ ও বিভিন্ন বিরক্তিকর কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।

অভিযোগপত্রে পাড়ার শান্তপ্রিয় বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে নেমে আসা নানা ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন। পর্যটকদের অতিরিক্ত সমাগম এবং তাদের অশালীন আচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে পাড়ার যুবতী ও মায়েরা পর্যটকদের আপত্তিকর আচরণের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।

উন্মুক্ত স্থানে প্রকাশ্যে ধূমপান, গাঁজা এবং বাংলা মদ সেবনের মতো অসামাজিক কার্যকলাপ নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া উচ্চশব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে নাচ-গান করার কারণে এলাকার শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট ও তীব্র শব্দদূষণ হচ্ছে। রান্নার যাবতীয় কাজ মার্মা সম্প্রদায়ের মানুষ দিয়ে করানোর কারণে সেখানে আগত মুসলিম পর্যটকদের জন্য হালাল খাবারের নিশ্চয়তা থাকছে না।

অনেক সময় অসচেতনভাবে নিজেদের হাতে মুরগি জবাই করার ঘটনাও ঘটছে, যা মুসলিম পর্যটকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট অভিযুক্ত চাইশেমং মার্মার উঠানের বাউন্ডারির ভেতরে পড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সেটি ব্যবহার করতে পারছে না। টয়লেটটি বাউন্ডারি থেকে মুক্ত করে সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আবেদনকারীরা জানান, তারা ভয়ে নাম প্রকাশ করতে পারছেন না, তবে পাড়ার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা চরমভাবে উদগ্রীব। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং পাড়ার সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে আলীকদম থানা পুলিশকে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন শীলবনিয়া পাড়াবাসী।

আলীকদম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক উপন বড়ুয়া বলেন, পাড়ার মাঝে টুরিস্ট স্পট করে জনভোগান্তি তৈরি করার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি ওসি সাহেব বলতে পারবেন। তিনি ছুটিতে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow