শেষ সিনেমা মুক্তির আগেই শেষ বিদায়, বিষাদে ভাসিয়ে চলে যাওয়া এক তারকা

বাংলা অভিনয় জগতের এক অনন্য নাম আহমেদ রুবেল। মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র- সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। ৩ মে এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন। তবে জন্মদিনে তার বিদায় নেওয়ায় দিনটি ভক্তদের কাছে স্মৃতিমাখা এক বেদনার উপলক্ষ হয়ে ফিরে আসে। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নুরুল আলম আতিকের নতুন সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’- এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। এই প্রদর্শনীতেই যোগ দিতে আসছিলেন অভিনেতা। আসার পথেই স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ৫৫ বছর বয়সে তার এমন প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি তার ভক্ত-অনুরাগীরা। ১৯৬৮ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহমেদ রুবেল। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। অভিনয়ের হাতেখড়ি হয় মঞ্চে, কিংবদন্তি নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা থিয়েটারের মাধ্যমে। মঞ্চেই তিনি গড়ে তোলেন নিজের অভিনয়ের ভিত। ছোট পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নযাত্রা’ নাটকের মাধ্যমে। এরপর নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ঈদনাটক ‘পোকা’য় ‘গোরা মজিদ’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। ‘অতিথি

শেষ সিনেমা মুক্তির আগেই শেষ বিদায়, বিষাদে ভাসিয়ে চলে যাওয়া এক তারকা

বাংলা অভিনয় জগতের এক অনন্য নাম আহমেদ রুবেল। মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র- সব মাধ্যমেই নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি। ৩ মে এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন। তবে জন্মদিনে তার বিদায় নেওয়ায় দিনটি ভক্তদের কাছে স্মৃতিমাখা এক বেদনার উপলক্ষ হয়ে ফিরে আসে।

২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নুরুল আলম আতিকের নতুন সিনেমা ‘পেয়ারার সুবাস’- এর একটি বিশেষ প্রদর্শনী ছিল। সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আহমেদ রুবেল। এই প্রদর্শনীতেই যোগ দিতে আসছিলেন অভিনেতা। আসার পথেই স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ৫৫ বছর বয়সে তার এমন প্রয়াণ মেনে নিতে পারেননি তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

১৯৬৮ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজারামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহমেদ রুবেল। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। অভিনয়ের হাতেখড়ি হয় মঞ্চে, কিংবদন্তি নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রতিষ্ঠিত ঢাকা থিয়েটারের মাধ্যমে। মঞ্চেই তিনি গড়ে তোলেন নিজের অভিনয়ের ভিত।

ছোট পর্দায় তার যাত্রা শুরু হয় নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নযাত্রা’ নাটকের মাধ্যমে। এরপর নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ঈদনাটক ‘পোকা’য় ‘গোরা মজিদ’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। ‘অতিথি’, ‘নীল তোয়ালে’, ‘বিশেষ ঘোষণা’, ‘বৃক্ষমানব’, ‘যমুনার জল দেখতে কালো’সহ অসংখ্য নাটকে তার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি ধারাবাহিকেও তিনি ছিলেন সমান সাবলীল। ‘প্রেত’, ‘বারোটা বাজার আগে’, ‘প্রতিদান’, ‘নবাব গুন্ডা’, ‘একান্নবর্তী’, ‘রঙের মানুষ’সহ অসংখ্য নাটকে কাজ করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বহুমাত্রিক অভিনেতা হিসেবে।

১৯৯৪ সালে ‘আখেরি হামলা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন আহমেদ রুবেল। এরপর ‘মেঘলা আকাশ’, ‘পৌষ মাসের পিরিত’, ‘সাবাস বাঙালি’সহ নানা ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেন। তবে চলচ্চিত্রে তাকে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয় হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ‘চন্দ্রকথা’ ও ‘শ্যামল ছায়া’।

এরপর একের পর এক ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রে দেখা যায় তাকে। তারমধ্যে ‘ব্যাচেলর’, ‘গেরিলা’, ‘দ্য লাস্ট ঠাকুর’, ‘অলাতচক্র’, ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’, ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ উল্লেখ্য। প্রতিটি কাজেই তিনি প্রমাণ করেছেন, চরিত্রের গভীরে ঢুকে অভিনয় করাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতার সিনেমাতেও কাজ করেছেন এই অভিনেতা। সঞ্জয় নাগ পরিচালিত ‘পারাপার’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান তিনি।

সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে ওটিটিতেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন আহমেদ রুবেল। কিংবদন্তি চরিত্র ফেলুদা হিসেবেও তাকে দেখা গেছে ‘নয়ন রহস্য’ অবলম্বনে নির্মিত ওয়েব সিনেমায়, যা তার ক্যারিয়ারে যোগ করে নতুন মাত্রা। এছাড়া ‘কাইজার’ সিরিজেও তার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

মঞ্চ থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে- প্রতিটি জায়গাতেই নিজের স্বকীয়তা আর নিষ্ঠা দিয়ে অভিনয়কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আহমেদ রুবেল।

 

এলআইএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow