শেয়ারবাজারে বাড়ছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী
দেশের শেয়ারবাজারে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় তথা দেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েক মাসের মতো মে মাসেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি মাসটিতে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। মে মাসের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ২৭১টি। এতে মাসটিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিও হিসাব বেড়ে গেছে। এখন স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লেও, এপ্রিল মাসে কমতে দেখে যায়। মাসটিতে বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাব কমে ২৬টি। আর মে মাসে এসে বেড়েছে ২৪টি। বিও হল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্রোকারেজ হাউস অথবা মার্চেন্ট ব্যাংকে একজন বিনিয়োগকারীর খোলা হিসাব। এই বিও হিসাবের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে লেনদেন করেন। বিও হিসাব ছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন করা সম্ভব না। বিও হিসাবের তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। সিডিবিএল-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে (২৪ মে পর্যন্ত) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪১টি। যা এপ্রিল শেষে ছিল ১৬ লাখ ৬১ হা
দেশের শেয়ারবাজারে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় তথা দেশি বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েক মাসের মতো মে মাসেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি মাসটিতে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। মে মাসের প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব বেড়েছে ২৭১টি। এতে মাসটিতে সাড়ে চার হাজারের বেশি বিও হিসাব বেড়ে গেছে।
এখন স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়লেও, এপ্রিল মাসে কমতে দেখে যায়। মাসটিতে বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাব কমে ২৬টি। আর মে মাসে এসে বেড়েছে ২৪টি।
বিও হল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্রোকারেজ হাউস অথবা মার্চেন্ট ব্যাংকে একজন বিনিয়োগকারীর খোলা হিসাব। এই বিও হিসাবের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে লেনদেন করেন। বিও হিসাব ছাড়া শেয়ারবাজারে লেনদেন করা সম্ভব না। বিও হিসাবের তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।
সিডিবিএল-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে (২৪ মে পর্যন্ত) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪১টি। যা এপ্রিল শেষে ছিল ১৬ লাখ ৬১ হাজার ১২৩টি। এ হিসেবে মে মাসে শেয়ারবাজারে বিও হিসাব বেড়েছে ৪ হাজার ৬১৮টি। ঈদের ছুটির কারণে ২৪ মে’র পরের আরও কোনো তথ্য সিডিবিএল থেকে পাওয়া যায়নি। ২৪ মে পর্যন্ত মাসটিতে মোট ১৭ কার্যদিবস লেনদেন হয়। এ হিসাবে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে বিও হিসাব বেড়েছে ২৭১টি।
এদিকে বর্তমানে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ৪৩ হাজার ২২৮টি। যা এপ্রিল শেষে ছিল ৪৩ হাজার ২০৪টি। অর্থাৎ মে মাসে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে বেড়েছে ২৪টি।
অবশ্য এর আগে দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজার ছাড়তে থাকেন। যা অব্যাহত থাকে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও। তবে মার্চ মাসে কিছু বাড়তে দেখা যায়। এরপর এপ্রিল মাসে আবার বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাব কমে যায়। অবশ্য এখন আবার বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ৫৫ হাজার ৫১২টি। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৪৩ হাজার ১০১টিতে নেমে আসে। এখন কিছুটা বাড়লেও ২০২৩ সালের অক্টোবরের তুলনায় এখনো বিদেশি ও প্রবাসীদের বিও হিসাব কম আছে ১২ হাজার ২৮৪টি।
স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের চিত্র
কয়েক মাস ধরেই দেশের শেয়ারবাজার স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সিডিবিএল এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৬ লাখ ৪ হাজার ২৫৮টি, যা এপ্রিল শেষে ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৮টি। আর ২০২৫ সাল শেষে ছিল ১৫ লাখ ৭৯ হাজার ২৩টি। অর্থাৎ চলতি বছরে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ২৫ হাজার ২৩৫টি। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে বেড়েছে ৪ হাজার ৫২০টি।
এখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা বাড়লেও এর আগে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজার ছেড়েছেন। ২০২৪ সালের শুরুতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ৫৫১টি। আর বর্তমানে বিও হিসাব আছে ১৬ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪১টি। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের শুরুর তুলনায় বর্তমানে বিও হিসাব কম আছে ১ লাখ ৭ হাজার ৮১০টি।
নারী-পুরুষ উভয় বিনিয়োগকারী বাড়ছে
এদিকে বর্তমানে শেয়ারবাজারে যে বিনিয়োগকারীরা আছেন, তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩টি। গত বছর শেষে এই সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৩টি। অর্থাৎ চলতি বছরে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের হিসাব বেড়েছে ২০ হাজার ৬৭০টি। এর মধ্যে চলতি মে মাসে বেড়েছে ৩ হাজার ৮২৬টি। এপ্রিল শেষে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার ৫৮৭টি।
অন্যদিকে, বর্তমানে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩টি। ২০২৫ সাল শেষে এই সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৯টি। এ হিসেবে চলতি বছরে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ৪ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে মে মাসে বেড়েছে ৭১৮টি। এপ্রিল মাস শেষে নারী বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩৫৫টি।
বেড়েছে কোম্পানির বিও হিসাবও
নারী-পুরুষ বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি চলতি বছরে কোম্পানির বিও হিসাবও বেড়েছে। বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৮ হাজার ২৫৫টি। ২০২৫ সাল শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৮০৩টি। এ হিসাবে চলতি বছরে কোম্পানি বিও হিসাব বেড়েছে ৪৫২টি। এর মধ্যে চলতি মে মাসে বেড়েছে ৭৪টি। এপ্রিল মাস শেষে কোম্পানির বিও হিসাব ছিল ১৮ হাজার ১৮১টি।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের যে বিও হিসাব আছে তার মধ্যে একক নামে আছে ১২ লাখ ৫ হাজার ৬৮৬টি, যা ২০২৫ সাল শেষে ছিল ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭১৫টি। অর্থাৎ, চলতি বছরে একক নামে বিও হিসাবে বেড়েছে ২২ হজার ৯৭১টি। এর মধ্যে মে মাসে বেড়েছে ৪ হাজার ৩৭৬টি। এপ্রিল শেষে একক নামে বিও হিসাব ছিল ১২ লাখ ১ হাজার ৩১০টি।
অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের যৌথ নামে বিও হিসাব আছে ৪ লাখ ৪১ হাজার ৮০০টি। ২০২৫ সাল শেষে যৌথ বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮৫৭টি। অর্থাৎ চলতি বছরে যৌথ বিও হিসাব বেড়েছে ১ হাজার ৯৪৩টি। এর মধ্যে চলতি মে মাসে বেড়েছে ১৬৮টি। এপ্রিল শেষে যৌথ নামে বিও হিসাব ছিল ৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩২টি।
এমএএস/এমকেআর
What's Your Reaction?