শোক বইয়ে নিজের আবেগ লিখতে নয়াপল্টনে মানুষের ঢল

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোলা হয়েছে শোক বই। সেই শোক বইয়ে সই করতে নয়াপল্টনে মানুষের ঢল। শোক বইয়ে নিজের আবেগ তুলে ধরতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন অনেকেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় খোলা হয় শোক বই। এর পর থেকেই আসতে থাকেন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সন্ধ্যা নামতেই নয়াপল্টন এলাকা রূপ নেয় শোকাবহ জনসমুদ্রে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন। কার্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে দুটি লাইন, ভেতরে আরও একটিসহ তিন সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ অপেক্ষা করছেন শুধু একটি সইয়ের জন্য, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সাইফুল ইসলাম, চোখে-মুখে স্পষ্ট আবেগ। জাগো নিউজকে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে অনেক দিন দেখতে পাইনি। কিন্তু তার আদর্শ, সংগ্রাম আর নেতৃত্ব আমাদের জীবনের অংশ হয়ে আছে। আজ সেই অনুভূতিগুলো শোক বইয়ে লিখে রাখতেই এখানে এসেছি। তিনি আমাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন- তিনি বাংলাদেশের মা, গণতন্ত্রের মা।

শোক বইয়ে নিজের আবেগ লিখতে নয়াপল্টনে মানুষের ঢল

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোলা হয়েছে শোক বই। সেই শোক বইয়ে সই করতে নয়াপল্টনে মানুষের ঢল। শোক বইয়ে নিজের আবেগ তুলে ধরতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় খোলা হয় শোক বই। এর পর থেকেই আসতে থাকেন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সন্ধ্যা নামতেই নয়াপল্টন এলাকা রূপ নেয় শোকাবহ জনসমুদ্রে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন। কার্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে দুটি লাইন, ভেতরে আরও একটিসহ তিন সারিতে দাঁড়িয়ে মানুষ অপেক্ষা করছেন শুধু একটি সইয়ের জন্য, শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।

লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সাইফুল ইসলাম, চোখে-মুখে স্পষ্ট আবেগ। জাগো নিউজকে সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে অনেক দিন দেখতে পাইনি। কিন্তু তার আদর্শ, সংগ্রাম আর নেতৃত্ব আমাদের জীবনের অংশ হয়ে আছে। আজ সেই অনুভূতিগুলো শোক বইয়ে লিখে রাখতেই এখানে এসেছি। তিনি আমাদের কাছে শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন- তিনি বাংলাদেশের মা, গণতন্ত্রের মা।

নরসিংদী থেকে ঢাকায় এসেছেন বিএনপি নেতা শফিক। নেত্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে সকালেই রওনা দেন রাজধানীর পথে। ভারী কণ্ঠে তিনি বলেন, এই দেশ আর এই দেশের মানুষই ছিল খালেদা জিয়ার পরিবার। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন দেশনেত্রী, আপসহীন নেত্রী; আবার অনেকের কাছে গণতন্ত্রের মা। আজ আমরা এমন একজন পথপ্রদর্শককে হারিয়েছি, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অনিঃশেষ ভূমিকা রেখে গেছেন।

তিনি আরও বলেন,আমার কাছে খালেদা জিয়া একজন মমতাময়ী মা। যিনি নিজের সমগ্র জীবন দেশ ও মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন অগ্রসারিতে।

নয়াপল্টনের শোক বইয়ের পাতায় পাতায় লেখা হচ্ছে বিদায়ের ভাষা- একটি অধ্যায়ের অবসান, এক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নীরব স্মারক।

এর আগে এদিন সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার স্মরণে বিএনপির সব কার্যালয়ে শোক বই খোলা হবে। এই শোক বইয়ে কূটনীতিক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ তাদের শোক ও সমবেদনা জানাতে পারবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শোক বইয়ে সই কার্যক্রম চলবে। এছাড়া আগামীকাল বুধবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এরই মধ্যে দেশব্যাপী সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গুলশান ও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।

কেএইচ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow