সংসদে সুদি ব্যবস্থার বিকল্প রূপরেখা তুলে ধরব
একজন মুফতি হিসেবে আপনি সংসদে গিয়ে প্রচলিত আইন প্রণয়নে কতটা দক্ষ হতে পারবেন বলে মনে করেন? মুফতি আবুল হাসান: যারা ইসলামী আইনে বিশেষজ্ঞ থাকে, তাদের জন্য প্রচলিত আইন প্রণয়নে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করি না। কারণ, যেসব প্রচলিত আইন আছে, ইসলামী আইনে বিশেষজ্ঞদের জন্য সেগুলো প্রণয়ন করা অতীব সহজ। সেজন্য আমি এটাকে কঠিন মনে করি না। ইসলামী বিশেষজ্ঞরা মানতেক শাস্ত্র পড়ে, লজিক শেখে। তাই এগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের জন্য প্রচলিত আইন প্রণয়ন করা কঠিন নয়। জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ এবং চোরাচালান বড় সমস্যা। এ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সংসদে আপনার কণ্ঠ কতটা সোচ্চার হবে? আবুল হাসান: এ ব্যাপারে আমার কণ্ঠ খুবই বেশি সোচ্চার থাকবে। এ বিভাগে যারা আছেন, তাদের আমি জিরো টলারেন্সে যেতে অনুরোধ করব। যেন বিএসএফ অন্যায়ভাবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে হত্যা করতে না পারে। আর মাদক চোরাচালান যেগুলো আছে, এগুলোর ব্যাপারে তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি আমার ইশতেহারেই বলেছি, মাদক ও চোরাচালানমুক্ত জকিগঞ্জ-কানাইঘাট গড়া আমার অন্যতম লক্ষ্য। সিলেটের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু বিমানবন্দরে ত
একজন মুফতি হিসেবে আপনি সংসদে গিয়ে প্রচলিত আইন প্রণয়নে কতটা দক্ষ হতে পারবেন বলে মনে করেন?
মুফতি আবুল হাসান: যারা ইসলামী আইনে বিশেষজ্ঞ থাকে, তাদের জন্য প্রচলিত আইন প্রণয়নে কোনো সমস্যা আছে বলে মনে করি না। কারণ, যেসব প্রচলিত আইন আছে, ইসলামী আইনে বিশেষজ্ঞদের জন্য সেগুলো প্রণয়ন করা অতীব সহজ। সেজন্য আমি এটাকে কঠিন মনে করি না। ইসলামী বিশেষজ্ঞরা মানতেক শাস্ত্র পড়ে, লজিক শেখে। তাই এগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের জন্য প্রচলিত আইন প্রণয়ন করা কঠিন নয়।
জকিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিবর্ষণ এবং চোরাচালান বড় সমস্যা। এ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সংসদে আপনার কণ্ঠ কতটা সোচ্চার হবে?
আবুল হাসান: এ ব্যাপারে আমার কণ্ঠ খুবই বেশি সোচ্চার থাকবে। এ বিভাগে যারা আছেন, তাদের আমি জিরো টলারেন্সে যেতে অনুরোধ করব। যেন বিএসএফ অন্যায়ভাবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে হত্যা করতে না পারে। আর মাদক চোরাচালান যেগুলো আছে, এগুলোর ব্যাপারে তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি আমার ইশতেহারেই বলেছি, মাদক ও চোরাচালানমুক্ত জকিগঞ্জ-কানাইঘাট গড়া আমার অন্যতম লক্ষ্য।
সিলেটের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী দেশের অর্থনীতি বাঁচিয়ে রেখেছে, কিন্তু বিমানবন্দরে তারা হয়রানির শিকার হয়। এ হয়রানি বন্ধে আপনার ভূমিকা কী হবে?
আবুল হাসান: সিলেটের বিশাল একটি অংশ বিদেশে অবস্থান করে। তাদের টাকাই দেশের চালিকাশক্তি। অথচ যখন তারা দেশে আসে, তখন বিমানবন্দরে তাদের অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়। এ হয়রানি বন্ধের জন্য আমি কর্তৃপক্ষ যারা আছে, এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছে, তাদের সঙ্গে আমি সরাসরি আলোচনা করব। প্রয়োজনে আমি সংসদে দাবি উত্থাপন করব। তারা দেশের জন্য এত ঘাম ঝরাচ্ছে আর তারা দেশে আসবে, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হবে, এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। এ পর্যন্ত শেষ না। অনেক সময় বিদেশি যেসব ভাইয়েরা আছে, মারা গেলে তাদের লাশটা মাতৃভূমিতে নিয়ে আসতে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আমি চেষ্টা করব, জাতীয় সংসদে দাবি উত্থাপন করতে, যাতে এমন কেউ বিদেশের ভূমিতে মারা গেলে তার লাশ যেন রাষ্ট্রীয় খরচে বাংলাদেশে তার জন্মভূমিতে এনে দাফন করা হয়।
দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো কারিকুলাম পরিবর্তন হয়নি। আপনি কি মনে করেন এই কারিকুলাম দিয়ে কোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব?
আবুল হাসান: বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের একজন দায়িত্বশীল আমি। এই সুবাদে বিষয়গুলো (কারিকুলাম) নিয়ে ইতোপূর্বে আমি বেফাকের বৈঠকে আলোচনা করেছি। ভবিষ্যতেও আমি মুরুব্বিদের সঙ্গে আলোচনা করে এটার উন্নয়নে কীভাবে কী করা যায়
এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কী
থাকতে পারে বা কীভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শের ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।
আপনার এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?
আবুল হাসান: বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিমরা খুব চমৎকারভাবে মিলেমিশে বসবাস করেন। আমরা দেখি, হোটেলে বসলে একজন হিন্দু যে গ্লাসে পানি পান করেন, একজন মুসলিমও সেই একই গ্লাসে পানি পান করেন। অতএব রাষ্ট্রীয় অধিকার একজন মুসলিম যেভাবে ভোগ করবেন, একজন হিন্দু বা খ্রিষ্টানও একই সুবিধা পাবেন। এখানে কোনো বৈষম্যের সুযোগ নেই। আর জকিগঞ্জ-কানাইঘাটও একটি সম্প্রীতির এলাকা। এখানে এর আগে তেমন কোনো দুর্ঘটনা দেখা যায়নি। আগামী দিনেও জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে হিন্দু-মুসলিম কোনো বৈষম্য দেখা যাবে না। অধিকারের বিষয়ে কোনো বৈষম্যের সুযোগ দেওয়া হবে না।
তাবলিগ নিয়ে দেশে দুটি পক্ষ দেখা যায়। তাদের একীভূত করতে আপনার পরিকল্পনা কী?
আবুল হাসান: এটা খুবই দুঃখজনক। ইসলামের খেদমত করছেন এমন অবস্থায় দুটি গ্রুপ হয়ে গেছেন। এটা সুন্দর না। কারণ, ইসলাম এক, কোরআন এক, রাসুলও (সা.) এক। অতএব আমরা সবাই একই ধর্মের অনুসারী। কাজেই এ ব্যাপারে আমি মুরুব্বিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব, যাতে দুটি পক্ষকে একীভূত করা যায়। ঐক্যবদ্ধ হওয়া যায়।
ইসলামে সুদভিত্তিক অর্থনীতি হারাম। কিন্তু বাংলাদেশের পুরো বাজেট ও ব্যাংক ব্যবস্থা সুদের ওপর দাঁড়িয়ে। সংসদে গিয়ে এ সিস্টেমের বিকল্প কী প্রস্তাব করবেন আপনি?
আবুল হাসান: এটা আমাদের জন্য বলতে গেলে অভিশাপ। আর সুদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকতে হবে। আমাদের সংসদে কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসলামী দল নেই। এজন্য আমি ইসলামী অর্থনীতির সুন্দর রূপরেখা যেগুলো আছে, সেগুলো তুলে ধরব। যাতে ধাপে ধাপে মানুষ এদিকে অগ্রসর হয়, সেই চিন্তা-চেতনা নিয়ে আমি এগিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।
বর্তমানে রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত, যার সঙ্গে খেলাফত ব্যবস্থার মিল নেই। তাহলে আপনারা কীভাবে খেলাফত কায়েম করবেন?
আবুল হাসান: সংসদে খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি আমি একজনই। আর একজনের মাধ্যমে এগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কাজেই আমি খেলাফতে রাশেদার সুন্দর আদর্শগুলো সংসদে তুলে ধরার চেষ্টা করব, যাতে ধাপে ধাপে মানুষ এদিকে অগ্রসর হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্ল্যাটফর্ম গঠন হয়ে বাংলাদেশে ইসলামী নেজাম কায়েম হয়।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মূল্যায়নে সংসদ সদস্য হিসেবে আপনার পরিকল্পনা কী?
আবুল হাসান: আসলে আমাদের দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের তেমন মূল্যায়ন করা হয় না। কারণ, পাঁচ বা দশ হাজার বেতন বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনোভাবেই মানানসই না। আমি এজন্য সরকারের কাছে দাবি জানাব, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মানসম্মত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা হোক। যাতে করে তারা মোটামুটি সচ্ছলভাবে চলতে পারে। আরেকটি দুঃখজনক বিষয় হলো, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা অনেক ক্ষেত্রে অসহায়। কোরআন-হাদিসের আলোকে তারা বক্তব্য দেন, কিন্তু সেই বক্তব্য যদি মসজিদ কমিটির কোনো দায়িত্বশীলের বিপরীত চলে যায়, তখন ইমামকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তারা অসহায় অবস্থায় পড়েন, যা মুসলিম জাতির জন্য লজ্জার। আমি এত গুরু দায়িত্বপালনকারী ইমাম-মুয়াজ্জিনদের এ অসহায়ত্ব দেখতে চাই না আর। ইনশাআল্লাহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আলোচনা করব। কাজ করার চেষ্টা করব।
What's Your Reaction?