সমালোচনার মুখে স্কুল-কলেজে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ স্থগিত

সমালোচনার মুখে দেশের স্কুল-কলেজে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জারি করা নির্দেশ আপাতত কার্যকর থাকছে না। শনিবার (১৪ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে পাওয়া একটি চিঠিতে বিষয়টি জানা গেছে। ওই চিঠিটি মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল গত ১১ মার্চ সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ জারি করা স্মারকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব স্কুল-কলেজে পর্যায়ক্রমে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করা হলো। এর আগে ৮ মার্চ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য উ

সমালোচনার মুখে স্কুল-কলেজে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ স্থগিত

সমালোচনার মুখে দেশের স্কুল-কলেজে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। আগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জানিয়েছে, বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জারি করা নির্দেশ আপাতত কার্যকর থাকছে না।

শনিবার (১৪ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে পাওয়া একটি চিঠিতে বিষয়টি জানা গেছে। ওই চিঠিটি মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল গত ১১ মার্চ সই করেছেন।

এতে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ জারি করা স্মারকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব স্কুল-কলেজে পর্যায়ক্রমে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বাস্তবায়নের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করা হলো।

এর আগে ৮ মার্চ প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুতকৃত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের সব মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে একদিনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা বলা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সুবিধাজনক সময়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করবেন বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ ছিল।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছিল, প্রশিক্ষণের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ‘মনিটরিং পুল’ গঠন করতে হবে। এই পুলের সদস্যরা প্রশিক্ষণের পর শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন নিয়মিত তদারক করবেন। তবে ম্যানুয়ালের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাবে না বলে সতর্ক করা হয়। প্রতি বছর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও পুনরায় এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের সহায়তা নেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল। স্কুল পর্যায়ে স্কাউট এবং কলেজ পর্যায়ে রোভার স্কাউট সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার কথা বলা হয়। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

তবে এ উদ্যোগ ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে অবশেষে মাউশি আগের নির্দেশটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এএএইচ/এএমএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow