সরকারি চাকরিতে ‘নারী কোটা’ ফেরানোর দাবি মহিলা পরিষদের

সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ‘নারী কোটা’ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাম্প্রতিক নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ পরিস্থিতি শুধু পরিসংখ্যানগত নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ। মহিলা পরিষদ জানায়, দেশে এখনো উচ্চশিক্ষায় নারীর তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ, পরিবার ও সমাজে দায়িত্বের অসম বণ্টন, নিরাপত্তাহীনতা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার কারণে নারীরা সমান প্রতিযোগিতার অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে সরকারি চাকরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্বও কমে যাচ্ছে। সংগঠনটির মতে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করা জরুরি। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইতিবাচক ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের সিডও সন

সরকারি চাকরিতে ‘নারী কোটা’ ফেরানোর দাবি মহিলা পরিষদের

সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় ‘নারী কোটা’ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাম্প্রতিক নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রশাসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ পরিস্থিতি শুধু পরিসংখ্যানগত নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়ন, সমঅধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ।

মহিলা পরিষদ জানায়, দেশে এখনো উচ্চশিক্ষায় নারীর তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ, পরিবার ও সমাজে দায়িত্বের অসম বণ্টন, নিরাপত্তাহীনতা এবং বৈষম্যমূলক সামাজিক প্রথার কারণে নারীরা সমান প্রতিযোগিতার অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন না। ফলে সরকারি চাকরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্বও কমে যাচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নারীদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করা জরুরি। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইতিবাচক ব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের সিডও সনদেও এ ধরনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। নারীদের জন্য কোটা বহাল রাখা শুধু অধিকার রক্ষার বিষয় নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা সমান ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব অর্জন না করা পর্যন্ত নারীদের জন্য কোটাসহ বিশেষ ইতিবাচক ব্যবস্থা বহাল রাখতে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের আগে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রথা ছিল। তাতে নারী কোটা ছিল ১০ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই ২০২৪ সালের ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে এবং ৭ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। পরে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে এ পদ্ধতিই চালু রয়েছে।

এএএইচ/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow