সরকারি চাকুরির পরিচয় হারিয়ে এখন চর্মকার

এক সময় তিনি ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, ইংরেজিতে কথা বলতেন অনর্গল, অথচ আজ তিনি রেলস্টেশনের এক কোণে বসে জুতা সেলাই করেন। এমন উচ্চ শিক্ষিত চর্মকার সারা বাংলাদেশে খুঁজলেও দ্বিতীয় জন পাওয়া দুস্কর। বিশু রবিদাসের জন্ম একটি মুচি পরিবারে। সেই সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে তিনি অর্জন করেন বিএ ডিগ্রি। ১৯৮০ সালে একটি সরকারি দপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দেন। নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করলেও সামাজিক পরিচয়ই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মুচির ছেলে এ তথ্য জানার পর থেকেই কিছু কর্মকর্তা তাকে তাচ্ছিল্য ও বাঁকা চোখে দেখা শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হন বিশু রবিদাস। এক আত্মীয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে বাড়ি যান। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে কেটে গেছে দীর্ঘ ৪৫ বছর, সরকারি চাকরির পরিচয় হারিয়ে জীবিকার তাগিদে তিনি ফিরে যান পূর্ব পুরুষের পেশায় জুতা সেলাইতে। সেই থেকে রাজবাড়ীর কালুখালী রেলস্টেশন ও বাজারের এক কোণে বসে জুতা সেলাই করে

সরকারি চাকুরির পরিচয় হারিয়ে এখন চর্মকার

এক সময় তিনি ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, ইংরেজিতে কথা বলতেন অনর্গল, অথচ আজ তিনি রেলস্টেশনের এক কোণে বসে জুতা সেলাই করেন। এমন উচ্চ শিক্ষিত চর্মকার সারা বাংলাদেশে খুঁজলেও দ্বিতীয় জন পাওয়া দুস্কর।

বিশু রবিদাসের জন্ম একটি মুচি পরিবারে। সেই সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে তিনি অর্জন করেন বিএ ডিগ্রি। ১৯৮০ সালে একটি সরকারি দপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দেন। নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কাজে সহায়তা করলেও সামাজিক পরিচয়ই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি মুচির ছেলে এ তথ্য জানার পর থেকেই কিছু কর্মকর্তা তাকে তাচ্ছিল্য ও বাঁকা চোখে দেখা শুরু করেন।

একপর্যায়ে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হন বিশু রবিদাস। এক আত্মীয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে বাড়ি যান। কিন্তু সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়।

এরপর থেকে কেটে গেছে দীর্ঘ ৪৫ বছর, সরকারি চাকরির পরিচয় হারিয়ে জীবিকার তাগিদে তিনি ফিরে যান পূর্ব পুরুষের পেশায় জুতা সেলাইতে। সেই থেকে রাজবাড়ীর কালুখালী রেলস্টেশন ও বাজারের এক কোণে বসে জুতা সেলাই করেই চলছে তার জীবন।

যে বয়সে একজন সরকারি কর্মচারীর অবসরে গিয়ে পেনশনের টাকায় নিশ্চিন্ত জীবন কাটানোর কথা, সেই বয়সে আজ বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে জীবিকা সংগ্রহ করতে হচ্ছে বিশু রবি দাসকে। স্ত্রীকে নিয়ে খেয়ে-না-খেয়ে চলছে তার সংসার। বিশু রবি দাস রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় চর্মকাররা বলেন আমরা ছোট জাত পড়াশোনা করে কি লাভ আমাদের তো চাকুরী নেই, সমাজে সম্মান নেই। আমরা ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করায় কিন্তু লাভ কি আমাদের তো বাপ দাদার পেশায় করে খেতে হয়। আমরা যে ছোট জাত।

বিশু রবি দাস বলেন, আমি মুচির ছেলে তাই আমাকে সরকারী চাকুরী থেকে বহিস্কার করা হয়, আমরা ছোট জাত এই পরিচয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র করে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছিল ।

যে দেশে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার কথা বলা হয়, সেখানে বিশু রবি দাসের মতো মানুষের জীবনের গল্প আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে উচ্চারিত প্রতিটি স্লোগান তখনই অর্থবহ হবে, যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ জাত,পাত, ধর্ম, বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে সমান মর্যাদা, ন্যায় বিচার ও সম্মান পাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow