সাউন্ড বক্স-মাইকে গান বাজালে কবরস্থানে দাফন না করার ঘোষণা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেনে ও না জেনে কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইকে গান বাজালে তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমনকি তাদেরকে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না।  বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এমন ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি। এ দিকে মাইকে প্রচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি ভ্যানে মাইকে প্রচার করা বার্তায় বলা হয়, ‘আজ থেকে মহল্লায় সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষেধ। কোনো ব্যক্তি ভুল করিয়া জেনে ও না জেনে যদি সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজান, তাদেরকে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হইবে। আদেশক্রমে মাজগ্রাম বড় মসজিদের কমিটিবৃন্দ।’ জানা গেছে, মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়ি। তাদের নাতি আলিফের (৭) সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছিলেন। এতে মুসল্লিরা অস্বস্তিবোধ করলে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে শুক্রবার আলোচনা সাপেক্ষে গ

সাউন্ড বক্স-মাইকে গান বাজালে কবরস্থানে দাফন না করার ঘোষণা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও গান-বাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেনে ও না জেনে কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইকে গান বাজালে তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমনকি তাদেরকে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। 

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এমন ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।

এ দিকে মাইকে প্রচারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে একটি ভ্যানে মাইকে প্রচার করা বার্তায় বলা হয়, ‘আজ থেকে মহল্লায় সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষেধ। কোনো ব্যক্তি ভুল করিয়া জেনে ও না জেনে যদি সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজান, তাদেরকে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হইবে। আদেশক্রমে মাজগ্রাম বড় মসজিদের কমিটিবৃন্দ।’

জানা গেছে, মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়ি। তাদের নাতি আলিফের (৭) সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছিলেন। এতে মুসল্লিরা অস্বস্তিবোধ করলে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে শুক্রবার আলোচনা সাপেক্ষে গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। 

মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটি আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন যে, বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সকল কার্যকলাপ থেকে তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে। অর্থাৎ তাদের থেকে মসজিদের মুষ্টি (চাল) নেওয়া হবে না। কবরস্থান তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এক কথায় সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করা হবে।

খতীবের ভাষ্য, কোরআনে গান-বাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও সম্প্রতি কিছু বিয়ে-সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানে বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়। এতে অসুস্থ মানুষসহ সকলের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী বলেন, বিয়ে ও সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কারণে নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত ও অসুস্থ মানুষের যেন সমস্যা না হয় তাই সবাই মিলে সাউন্ড বক্স বাজানো নিষেধ করা হয়েছে। তবে একটি নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান করতে কোনো বাঁধা নেই। 

এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে রুপা খাতুন বলেন, নাতি খতনা অনুষ্ঠানে মাত্র একদিন বক্স বাজানো হয়েছে। তবে নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ ছিল। সব সময় সাউন্ডও কম থাকত। তবুও শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক প্রভাব দেখিয়ে গ্রামে ঝামেলা করতেছে। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এভাবে গানবাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট অতিরিক্ত শব্দে বাজালে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সচেতন করা যেতে পারে। অথবা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এভিবে মাইকিং করে বন্ধ করা ঠিক নয়।

এটাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়ে কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বলেন, প্রতিটা মানুষ স্বাধীন। আমরা কারো উপর কিছু চাপায় দিতে পারি না। এটা বন্ধ করার আইন-এখতিয়ার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি নিজস্ব চেতনা আছে। এটা সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে। সুতরাং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযোগ অস্বীকার করে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, সব ধরনের গানবাজনা বন্ধ বিষয়টি ঠিক এমন নয়। উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধের বিষয়ে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাইকিংয়ে কী প্রচার হয়েছে তা আমি জানি না।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গান-বাজনা বন্ধ করার সুযোগ নেই।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow