সাপ্লাইয়ের পানি কি পবিত্র, এটা দিয়ে অজু ও গোসলের বিধান কী?
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরজীবনে আমরা যারা বসবাস করি, তাদের নিত্যদিনের পানির প্রধান উৎস হলো ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি বা সাপ্লাইয়ের পানি। অনেক সময় দেখা যায়, কলের পানি ছাড়লে তাতে এক ধরনের বিকৃত গন্ধ বা অস্বাভাবিক রং অনুভূত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, এই পানি কি পবিত্র? এটি দিয়ে অজু বা গোসল করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?
শরিয়তের মূলনীতি এবং নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী। ইউটিউবে প্রকাশিত তার আলোচনাটি কালবেলার পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামি শরিয়ার মূলনীতি: নিশ্চিত অবস্থা বনাম সংশয়
ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো, কোনো জিনিসের মৌলিক অবস্থা যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে, তবে সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণ ছাড়া তার বিপরীতটা সাব্যস্ত করা যাবে না। আমরা জানি যে, সিটি কর্পোরেশন বা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যে পানি সরবরাহ করে, তাতে সাধারণত কোনো নাপাক বা অপবিত্র জিনিসের সংমিশ্রণ থাকে না। কর্তৃপক্ষ আমাদের পাক-পবিত্র পানি দেওয়ার জন্যই কাজ করে। সুতরাং, যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো অপবিত্রতার প্রমাণ
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরজীবনে আমরা যারা বসবাস করি, তাদের নিত্যদিনের পানির প্রধান উৎস হলো ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি বা সাপ্লাইয়ের পানি। অনেক সময় দেখা যায়, কলের পানি ছাড়লে তাতে এক ধরনের বিকৃত গন্ধ বা অস্বাভাবিক রং অনুভূত হয়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, এই পানি কি পবিত্র? এটি দিয়ে অজু বা গোসল করলে কি পবিত্রতা অর্জন হবে?
শরিয়তের মূলনীতি এবং নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী। ইউটিউবে প্রকাশিত তার আলোচনাটি কালবেলার পাঠকদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামি শরিয়ার মূলনীতি: নিশ্চিত অবস্থা বনাম সংশয়
ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো, কোনো জিনিসের মৌলিক অবস্থা যদি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে, তবে সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণ ছাড়া তার বিপরীতটা সাব্যস্ত করা যাবে না। আমরা জানি যে, সিটি কর্পোরেশন বা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যে পানি সরবরাহ করে, তাতে সাধারণত কোনো নাপাক বা অপবিত্র জিনিসের সংমিশ্রণ থাকে না। কর্তৃপক্ষ আমাদের পাক-পবিত্র পানি দেওয়ার জন্যই কাজ করে। সুতরাং, যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো অপবিত্রতার প্রমাণ না পাওয়া যায়, ততক্ষণ এই পানিকে পাক হিসেবেই গণ্য করতে হবে।
পানির বিকৃতি ও তার কারণ
পানির গন্ধ বা রঙের বিকৃতি ঘটলে দুটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে:
১. নাপাক বস্তুর সংমিশ্রণ: যদি তথ্য-প্রমাণ বা নিশ্চিত সূত্রের মাধ্যমে জানা যায় যে, পানির এই বিকৃতি কোনো নাপাক বা অপবিত্র বস্তুর (যেমন: ড্রেনের ময়লা বা মলমূত্র) সংমিশ্রণের কারণে ঘটেছে, তবে সেই পানি পান করা, ব্যবহার করা বা তা দিয়ে অজু-গোসল করা জায়েজ হবে না।
২. পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণ বা অজ্ঞাত কারণ: যদি পানিতে কোনো পবিত্র জিনিস মেশানো হয় (যেমন: পানি শোধনের জন্য ব্যবহৃত ক্লোরিন বা ওষুধ) এবং তার কারণে গন্ধ বা রঙের পরিবর্তন ঘটে, তবে পানি অপবিত্র হবে না। আবার যদি বিকৃতির কারণ নিশ্চিতভাবে জানা না যায়, তবে পানির পূর্বের অবস্থাকে (পবিত্রতা) প্রাধান্য দিতে হবে। অর্থাৎ সংশয় বা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে পানিকে নাপাক বলা যাবে না।
অজু ও গোসলের বিধান
সাপ্লাইয়ের পানিতে সাধারণ কোনো গন্ধ বা শৈবাল-জাতীয় বিকৃতি থাকলেও তা দিয়ে অজু ও গোসল করলে শরিয়ত অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জিত হবে। নির্ভার হয়ে এই পানি ব্যবহার করতে কোনো বাধা নেই। তবে যদি দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয় যে, পানি নাপাক হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে বা দৃশ্যমান কোনো নাপাক বস্তু দেখা যায়, তবে সতর্কতা হিসেবে সেই পানি পরিহার করাই শ্রেয়।