সামরিক প্রস্তুতি রেখেই আপাতত কূটনৈতিক পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। শুক্রবার (১০ জুলাই) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তেজনা আরও না বাড়াতে কৌশলগতভাবে সীমিত হামলা চালিয়ে বিরতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজন হলে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতেই নতুন করে মার্কিন হামলা চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। তবে আপাতত সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোকে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাইলটরা সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে প্রশিক্ষণ মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। রণতরিটির অধিনায়ক জাহাজে থাকা কয়েক হাজার না

সামরিক প্রস্তুতি রেখেই আপাতত কূটনৈতিক পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। শুক্রবার (১০ জুলাই) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তেজনা আরও না বাড়াতে কৌশলগতভাবে সীমিত হামলা চালিয়ে বিরতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজন হলে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতেই নতুন করে মার্কিন হামলা চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। তবে আপাতত সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোকে সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাইলটরা সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে প্রশিক্ষণ মহড়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

রণতরিটির অধিনায়ক জাহাজে থাকা কয়েক হাজার নাবিককে জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে এবং সবসময় প্রস্তুত থাকা জরুরি। এটি সামরিক বাহিনীর নিয়মিত প্রস্তুতিরই অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দিন-রাত নিয়মিত প্রতিরক্ষামূলক টহল ও অভিযানও অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে করা দাবি সঠিক নয়।

তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প। সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌছায় দুই পক্ষ।

অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন। এর পর গত সপ্তাহের হামলায় আরও ৮ ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কেএম 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow