সালমানের মতো ৬০-এর পর ওজন কমানো কতটা স্বাস্থ্যকর
বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। টুপি পরা একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়তেই অনেক অনুরাগী তার চেহারা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারো মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো গুরুতর কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন। কারণ, আগের তুলনায় তাকে অনেক বেশি রোগা, ক্লান্ত ও অবসন্ন দেখাচ্ছিল। তবে পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। সালমান নিজেই জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। নতুন সিনেমার প্রস্তুতি এবং ফিটনেস লক্ষ্য পূরণ করতেই এই পরিবর্তন। ফলে তার বদলে যাওয়া চেহারা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তারও অবসান ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬০ বছর বয়সের পর ওজন কমানোর বিষয়টি তরুণ বয়সের মতো সহজ নয়। এ সময়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরে কাজ করে, পেশির পরিমাণ কমতে শুরু করে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে সালমানের ডায়েটে যা থাকে একটি পুরোনো সাক্ষাৎ
বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়। টুপি পরা একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে পড়তেই অনেক অনুরাগী তার চেহারা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কারো মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো গুরুতর কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন। কারণ, আগের তুলনায় তাকে অনেক বেশি রোগা, ক্লান্ত ও অবসন্ন দেখাচ্ছিল।
তবে পরে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। সালমান নিজেই জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রায় ১৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন। নতুন সিনেমার প্রস্তুতি এবং ফিটনেস লক্ষ্য পূরণ করতেই এই পরিবর্তন। ফলে তার বদলে যাওয়া চেহারা নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তারও অবসান ঘটে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬০ বছর বয়সের পর ওজন কমানোর বিষয়টি তরুণ বয়সের মতো সহজ নয়। এ সময়ে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীরে কাজ করে, পেশির পরিমাণ কমতে শুরু করে এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা না করে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
নিয়মিত শরীরচর্চা ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসই ফিটনেসের মূল চাবিকাঠি, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
সালমানের ডায়েটে যা থাকে
একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে সালমান খান জানিয়েছিলেন, তিনি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
তার খাবারের তালিকায় থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন, আর কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ থাকে খুবই কম। মজার বিষয় হলো, তিনি দিনে মাত্র এক চামচ ভাত খান। তার ভাষায়, যতই সুস্বাদু খাবার সামনে থাকুক না কেন, ভাতের পরিমাণ খুবই সীমিত রাখেন। এরপর প্রয়োজনীয় প্রোটিন মাছ, মুরগি, ডিম বা অন্য উৎস থেকে গ্রহণ করেন।
তবে এর মানে এই নয় যে তিনি সব ধরনের পছন্দের খাবার বাদ দিয়েছেন। বরং তিনি মাঝেমধ্যে নিজের পছন্দের খাবারও উপভোগ করেন। তবে সেই অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরিয়ে ফেলতে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন।
ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানোই নিরাপদ, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
'চিট ডে' থাকলেও ছাড় নেই ব্যায়ামে
সালমান একবার মজা করে বলেছিলেন, তার কাছে প্রায় প্রতিদিনই 'চিট ডে'। অর্থাৎ, মাঝে মাঝে পছন্দের খাবার খেতে তিনি নিজেকে আটকান না।
কিন্তু এর সঙ্গে রয়েছে কঠোর নিয়মও। অতিরিক্ত খাওয়ার পর তিনি জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন, যাতে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে না থাকে। তার মতে, সুস্বাদু খাবার খাওয়া যায়, তবে সেই অনুযায়ী শরীরচর্চাও করতে হবে।
নিয়মিত ওয়ার্কআউটই তার শক্তি
সালমান খানের ফিটনেসের অন্যতম রহস্য হলো নিয়মিত ব্যায়াম। তার ফিটনেস ট্রেনারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সপ্তাহে ছয় দিন শরীরচর্চা করেন এবং এক দিন বিশ্রাম নেন।
তার ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে হাই-ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং ইনক্লাইন এক্সারসাইজ, পুশ-আপ, ফ্লাই, ওয়েট ট্রেনিং, কার্ডিওসহ নানা ধরনের শক্তিবর্ধক অনুশীলন।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি কার্ডিও করেন। শুটিংয়ের ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও সুযোগ পেলেই জিমে সময় দেন। কাজ শুরুর আগে হোক কিংবা দিনের শেষে-ব্যায়াম তার দৈনন্দিন রুটিনের অপরিহার্য অংশ।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়, ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে
৬০-এর পর ওজন কমাতে যা মনে রাখবেন
সালমান খানের মতো তারকাদের জীবনযাপন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। তাদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষক, পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক এবং নির্দিষ্ট ফিটনেস পরিকল্পনা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৬০ বছরের পর নিরাপদভাবে ৮ থেকে ১০ কেজি ওজন কমাতে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এই বয়সে না খেয়ে থাকা বা অতিরিক্ত ডায়েটিং করলে পেশি কমে যেতে পারে, দুর্বলতা দেখা দিতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
তাই ওজন কমাতে চাইলে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আঁশযুক্ত খাবার, পরিমিত কার্বোহাইড্রেট, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটা ও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম করা সবচেয়ে ভালো উপায়।

প্রিয় খাবার দেখলেই কেন জিভে পানি আসে
সালমান খানের ফিটনেস যাত্রা দেখায়, বয়স বাড়লেও সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত শরীরচর্চা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা। দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?
