সাড়ে ৮ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, রাতের আঁধারে কার্পেটিং

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কার্পেটিংয়ের কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ ভায়া শানিগড় রাস্তায়। রাতে ঠিকাদারের লোকজন কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই রাস্তায় সরেজমিনে গিয়ে পাথর ও পিচ বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়ে। তবে এ সময় সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এই রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তকরণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে। সড়কটি আগে চওড়ায় ছিল ৫ মিটার, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৮.৭ মিটার করা হচ্ছে এবং এর জন্য পুরো রাস্তার একপাশ খনন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গর্তে বালুর সঙ্গে ভালো ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দেওয়া হচ্ছে পূর্বের রাস্তার ওঠানো পরিত

সাড়ে ৮ কোটি টাকার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম, রাতের আঁধারে কার্পেটিং

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কার্পেটিংয়ের কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমন অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ ভায়া শানিগড় রাস্তায়। রাতে ঠিকাদারের লোকজন কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৯ জুন দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই রাস্তায় সরেজমিনে গিয়ে পাথর ও পিচ বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়ে। তবে এ সময় সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এই রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্তকরণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে। সড়কটি আগে চওড়ায় ছিল ৫ মিটার, যা বর্তমানে বাড়িয়ে ৮.৭ মিটার করা হচ্ছে এবং এর জন্য পুরো রাস্তার একপাশ খনন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গর্তে বালুর সঙ্গে ভালো ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে দেওয়া হচ্ছে পূর্বের রাস্তার ওঠানো পরিত্যক্ত পাথর, ইটভাটার গুঁড়ো (রাবিশ) ও মাটি।

বর্তমানে পুরো রাস্তায় মাটির পুরু স্তর জমে রয়েছে। সেই ময়লা ও কাদা পরিষ্কার না করেই সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে তার ওপর রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ের দায়সারা কাজ সম্পন্ন করছেন ঠিকাদারের লোকজন। সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা কোনো প্রকৌশলীকে পাওয়া যায়নি। এই নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো তাদের ওপর চড়াও হন এবং হুমকি-ধমকি প্রদান করেন। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটির সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ যথাযথভাবে তদারকি করার জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুনট-মুসলিমগঞ্জ রাস্তার শানিগড় বাজার থেকে মুসলিমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭.৩৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এবং একই রাস্তার একপাশ চওড়া করতে নতুনভাবে ৩.৭ মিটার প্রশস্তকরণে গত বছরের ৩ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা। দরপত্র ও চুক্তি অনুযায়ী কাজটির দায়িত্ব পায় নওগাঁর ‘ইথেন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

চুক্তি অনুযায়ী কাজটি গত বছরের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি অনেক দেরিতে কাজ শুরু করায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়। বর্তমানে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এখন তাড়াহুড়ো করে দায়-সাড়াভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ঠিকাদার, যার ফলে চারিদিকে অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠছে।

স্থানীয় থল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, শুরু থেকেই এই রাস্তায় তিন নম্বর ইট, পরিত্যক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি দেওয়া হচ্ছে। কাদা-মাটির ওপরেই বিটুমিন ছিটিয়ে রাতের বেলায় কার্পেটিং করা হচ্ছে, যা সকালবেলা সামান্য পায়ের ঠেলাতেই উঠে যাচ্ছে। এই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী অফিসের কেউ সাইটে থাকেন না।

উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লুতু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুযোগ বুঝে রাতের বেলায় যা খুশি তাই করছে ঠিকাদারের লোকজন। এখনই যদি রাস্তার কার্পেটিং উঠে যায়, তবে ছয় মাস পর এই রাস্তার কী দশা হবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের নামে মূলত সরকারি টাকা লোপাটের পরিকল্পনা করছেন ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, আসলে আমাদেরকে উপর থেকে যেভাবে এবং যখন কাজ করতে বলা হয়েছে, আমরা সেভাবেই করছি। এখানে রাত-দিন বলতে কিছু নেই, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।
 
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নূর আলম বলেন, যেহেতু এটি কৃষিনির্ভর এলাকা এবং বর্তমানে ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম চলছে, তাই কৃষকদের কাজে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেজন্য রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো অনিয়ম করা হয়নি, যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
 
অন্যদিকে, ইথেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার রাসেল আহমেদ বলেন, আমি নিজে সবসময় সাইটে থাকি না। তবে আমার লোকজন যদি সত্যিই রাতের বেলায় কার্পেটিংয়ের কাজ করে থাকে, তবে তা অবশ্যই ভুল করেছে।

এ প্রসঙ্গে কালাই উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, প্রথমত রাতে কার্পেটিং করার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই। আর নিম্নমানের কাজ করার তো প্রশ্নই আসে না। যদি তারা রাতের বেলায় কাজ করে থাকে, তবে সেই কার্পেটিং পুনরায় তুলে ফেলা (ওঠানো) হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, কার্পেটিংয়ের কাজ রাতে করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের মধ্যে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পাস করা হবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow