সিদ্ধ ডিম পুনরায় গরম করার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
সকালের স্বাস্থ্যকর নাস্তার কথা উঠলেই ডিমের নাম সবার আগে আসে। সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলেই অনেকের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে ডিম। ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। পরে প্রয়োজনমতো বের করে খেয়ে নেন বা আবার গরম করেন। তবে ডিম দ্বিতীয়বার গরম করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ ভুল পদ্ধতিতে গরম করলে শুধু স্বাদই নষ্ট হয় না, স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। ডিম দ্বিতীয়বার গরম করা কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে থেকে সিদ্ধ বা রান্না করা ডিম দ্বিতীয়বার গরম করা নিরাপদ, তবে এর জন্য সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডিম সিদ্ধ করার পর দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখা উচিত নয়। সাধারণত সিদ্ধ ডিম দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে নিরাপদ। ফ্রিজে রাখা ডিম পুনরায় গরম করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন যথেষ্ট তাপমাত্রায় গরম হয়। খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী, খাবারের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অন্তত ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। ফলে ডিম পুনরায় খাওয়ার আগে পর্যাপ্তভাবে গরম
সকালের স্বাস্থ্যকর নাস্তার কথা উঠলেই ডিমের নাম সবার আগে আসে। সহজলভ্য, পুষ্টিকর এবং দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলেই অনেকের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে ডিম। ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি ডিম সিদ্ধ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। পরে প্রয়োজনমতো বের করে খেয়ে নেন বা আবার গরম করেন। তবে ডিম দ্বিতীয়বার গরম করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় সম্পর্কে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ ভুল পদ্ধতিতে গরম করলে শুধু স্বাদই নষ্ট হয় না, স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
ডিম দ্বিতীয়বার গরম করা কি নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে থেকে সিদ্ধ বা রান্না করা ডিম দ্বিতীয়বার গরম করা নিরাপদ, তবে এর জন্য সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ডিম সিদ্ধ করার পর দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখা উচিত নয়। সাধারণত সিদ্ধ ডিম দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।
ফ্রিজে রাখা ডিম পুনরায় গরম করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন যথেষ্ট তাপমাত্রায় গরম হয়। খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী, খাবারের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অন্তত ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। ফলে ডিম পুনরায় খাওয়ার আগে পর্যাপ্তভাবে গরম করা জরুরি।
তবে যদি ডিম দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় পড়ে থাকে, তাহলে সেটি পুনরায় গরম করে খাওয়ার ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে ডিম ফেলে দেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
কেন মাইক্রোওয়েভে ডিম গরম করা উচিত নয়?
অনেকের কাছে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত উপায়। কিন্তু সিদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি নিরাপদ নয় বলে সতর্ক করেছেন খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
মাইক্রোওয়েভে ডিম গরম হলে এর ভেতরের পানির অণুগুলো দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পে পরিণত হয়। ডিমের সাদা অংশ এবং খোসা এই বাষ্পকে সহজে বাইরে বের হতে দেয় না। ফলে ডিমের ভেতরে প্রচুর চাপ তৈরি হতে থাকে।
এই চাপ এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে ডিম কাটার সময় বা মুখে দেওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো ফেটে যেতে পারে। এতে মুখ, ঠোঁট কিংবা জিহ্বা পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধ ডিম মাইক্রোওয়েভে পুনরায় গরম না করার পরামর্শ দেন।
ডিম পুনরায় গরম করার সবচেয়ে নিরাপদ উপায়
সেদ্ধ ডিম পুনরায় গরম করার জন্য ফুটন্ত পানির পদ্ধতিকে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর বলে মনে করা হয়।
এজন্য প্রথমে একটি পাত্রে পর্যাপ্ত পানি ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিন। এরপর খোসাসহ সেদ্ধ ডিমগুলো গরম পানিতে দিয়ে পাত্রটি ঢেকে রাখুন।
প্রায় ১০ মিনিট এভাবে রেখে দিলে ডিম ধীরে ধীরে গরম হয়ে যাবে। এই পদ্ধতিতে ডিমের ভেতরের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ডিম শক্ত হয়ে যায় না এবং ফেটে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। একই সঙ্গে ডিম ভেতর পর্যন্ত সমানভাবে গরম হয়।
ডিম সংরক্ষণের সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
ডিম নিরাপদ রাখতে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সেদ্ধ করার পর দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে। ফ্রিজে রাখা সেদ্ধ ডিম সাধারণত এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ, রং বা গঠনের পরিবর্তন দেখা গেলে তা না খাওয়াই ভালো।
প্রতিদিন ৪টি ডিম খেলে শরীরে কী হয়
এছাড়া বারবার গরম ও ঠান্ডা করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী যতটুকু দরকার, ততটুকুই গরম করা সবচেয়ে নিরাপদ।
ডিম একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গরম না করলে এর মাধ্যমে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই সিদ্ধ ডিম দ্বিতীয়বার গরম করার সময় মাইক্রোওয়েভের বদলে গরম পানির পদ্ধতি ব্যবহার করুন। সামান্য সতর্কতাই নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার।
সূত্র: হেলথলাইন, ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?
