সিরাজগঞ্জে খাদ্য গুদামে চাল দিচ্ছে ১০৩ বন্ধ কল
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে অস্তিত্বহীন, পরিত্যক্ত ও বন্ধ ১০৩ চালকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত জেলা ও উপজেলা খাদ্য বিভাগের লোকজন উৎকোচ নিয়ে বন্ধ চালকলগুলোকে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দরে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামে এ বছর ১২ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলার ১৪২টি চালকল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চলমান চালকল, আলাদা চাতাল, বিদ্যুৎ-সংযোগ, ধান সেদ্ধ করার হাউজ, বয়লার ও গুদামঘর থাকা সাপেক্ষে এসব চালকলের সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এ চুক্তি হয়। অথচ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এমন ১০৩টি চালকল বন্ধ, পরিত্যক্ত ও অস্তিত্বহীন। সাধারণ মিল মালিকরা বলছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খাদ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে দিনের পর দিন চলছে এই অনিয়ম। তাদের ভাষ্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব অনিয়ম এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব মিল বন্ধ, পরিত্য
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারিভাবে চাল সংগ্রহে অস্তিত্বহীন, পরিত্যক্ত ও বন্ধ ১০৩ চালকলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত জেলা ও উপজেলা খাদ্য বিভাগের লোকজন উৎকোচ নিয়ে বন্ধ চালকলগুলোকে সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের বৈধতা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দরে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা খাদ্যগুদামে এ বছর ১২ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলার ১৪২টি চালকল মালিকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চলমান চালকল, আলাদা চাতাল, বিদ্যুৎ-সংযোগ, ধান সেদ্ধ করার হাউজ, বয়লার ও গুদামঘর থাকা সাপেক্ষে এসব চালকলের সঙ্গে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এ চুক্তি হয়।
অথচ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এমন ১০৩টি চালকল বন্ধ, পরিত্যক্ত ও অস্তিত্বহীন। সাধারণ মিল মালিকরা বলছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খাদ্য বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে দিনের পর দিন চলছে এই অনিয়ম। তাদের ভাষ্য, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব অনিয়ম এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব মিল বন্ধ, পরিত্যক্ত ও কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোত্তালেব শেখ, সহ-সভাপতি জিন্নাতুল আলম সম্রাট, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ, পরিচালক এসএম সাগর, আব্দুল আজিজ, বাবলু আকন্দ, আব্দুস সোবাহান, খোকন, পান্না ও জহুরুলের বিরুদ্ধে একটি চাল কলকে অন্তত দুই থেকে চারটি নামে দেখানোর সত্যতা পাওয়া গেছে। তারা প্রত্যেকে এসব কল নিজের নাম ছাড়াও স্ত্রী-সন্তানদের নামে অন্তর্ভুক্ত করে দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ নিচ্ছেন।
জাগো নিউজের হাতে আসা তালিকা ধরে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চকসাত্রা (সারুটিয়া) গ্রামে গেলে মেসার্স ফারুক চালকল নামে কোনো চালকলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। চান্দাইকোনা বাজার এলাকার মেসার্স এআরএস কলের স্বত্বাধিকারী আলী হায়দার দীর্ঘ ১০ বছর আগে বিক্রি করলেও সেই কলটির নামে সাড়ে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আলী হায়দার প্রায় ১০ বছর আগে মিলটি বিক্রি করেছেন। যিনি কিনেছেন তিনিও বন্ধ রেখেছেন, তারপরও সরকারি বরাদ্দ পায় কীভাবে?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চান্দাইকোনার এক চলকল মালিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুই বছর ধরে কলটি বন্ধ রেখেছি। তারপরও মালিক সমিতির নেতারা আমার নামেই বরাদ্দ নিচ্ছেন। এমনটা শুধু তার ক্ষেত্রে না, অস্তিত্বহীন ও পরিত্যক্ত প্রায় সিংহভাগ ক্ষেত্রেই। বন্ধ উপযোগী কল হলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে বরাদ্দ নেন। আমার মিলের জন্মলগ্ন থেকে দুই-তিনবার গুদামে চাল দিতে পেরেছি। বাদবাকি সময় যে দল ক্ষমতায় থাকে, সেই দল সিন্ডিকেট করে চালায়। আমার লাইসেন্স আমি চোখেও দেখি নাই। এখনো একই অবস্থা। আমার সই স্বাক্ষরও লাগে না। ওরাই সই করে, ওরাই বরাদ্দ নেয়।’
নাম প্রকাশ না করে আরও একাধিক সাধারণ চালকল মালিক জাগো নিউজকে বলেন, শুধু আব্দুল মোত্তালেব, আব্দুল আজিজ, রফিকুল ইসলাম (টেনিস) ও শহিদুলের মিলই নয়, রায়গঞ্জ উপজেলায় চাল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া চালকলের মধ্যে মাত্র ৩৯টা সঠিক। আর বাকি ১০৩টা অস্তিত্বহীন, পরিত্যক্ত ও বন্ধ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এরকম হওয়ার কথা না, তবে যদি হয়ে থাকে সেটা আমার জানা নেই। তাছাড়া ওই বরাদ্দ দেওয়া ও না দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে আমি জড়িত না।
এদিকে অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে চান্দাইকোনা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) তন্ময় বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, চাল বরাদ্দের বিষয়টি জেলা, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ইউএনও স্যার দেখেন। এটা আমার কাজ না।
দুয়েকটি বন্ধ মিলও বরাদ্দ পেয়েছে, এ বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সবুজ জাগো নিউজকে বলেন, সকল শর্ত মেনে আসলে ব্যবসা করা কারো পক্ষেই সম্ভব না। তবে চাল বরাদ্দের বিষয়ে মালিক সমিতির কোনো হস্তক্ষেপ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, এমনটা হলে তালিকা ধরে প্রত্যেক মিল পরিদর্শন করে যাচাই-বাছাই করা হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, জেলায় মোট ৩২১টি চালকল রয়েছে। যার মধ্যে রায়গঞ্জে ১৪২টি থাকলেও চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল সার্ভে (পরিদর্শন) করে ৫টি বাতিল করেছি। এখন ১৩৭টি চালু রয়েছে। প্রত্যেকটা সংগ্রহ মৌসুমের শুরুতেই সার্ভে করা হয়। আর স্থানীয় নেতা ও মালিক সমিতির কিছুটা চাপে আমরা বাধ্য হই ওইসব মিলে বরাদ্দ দিতে। তারপরও সুনির্দিষ্টভাবে যদি কোনো মিল সম্পর্কে অভিযোগ ওঠে অবশ্যই সেগুলোর বিষয়ে ইমিডিয়েট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হয়নি।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?