উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মার্কেট বন্ধ রাখার অভিযোগে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (০৪ মে) সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট সংলগ্ন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেট সমিতি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
মার্কেট খুলে না দিলে কঠোর আন্দোনের হুঁশিয়ারি দেন ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে দরপত্রের ভিত্তিতে এককালীন টাকা দিয়ে দোকানকোটা বরাদ্দ নিয়ে কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটে ব্যবসা শুরু করেন তারা। ২৮ বছর ধরে ব্যবসা করার পর তিন দিনের নোটিশে তাদের বের করে দিয়ে দোকানকোটায় রাতের অন্ধকারে ব্যবসায়ীদের অনুপস্থিতে তালা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ১০ মার্চ চিঠি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে দোকান ছাড়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মাত্র তিনদিনের নোটিশ দিয়ে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার এমন নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। সিলেটের দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি, সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিমের পরিচালনায় মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাভেল।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মুনিম মল্লিক মুন্না, জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সহসভাপতি আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ, হাসান মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী মো. রইস আলী, সহসভাপতি আক্তার হোসেন সুহেল, আল-হামরা শপিং সিটি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামসুল আলম, মধুবন সুপার মার্কেট দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আকিক, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমদসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ২৬ এপ্রিল একই দাবিতে সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যবসায়ীরা। ওই সময় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিলেন- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ট্রাস্ট বা জেলা প্রশাসনের একতরফাভাবে চুক্তি বাতিলের কোনো এখতিয়ার নেই। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা এখানে মানা হয়নি। নোটিশের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১২ মার্চ আদালত দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
এছাড়া পৃথক আরও দুটি রিটের প্রেক্ষিতে উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।