সিলেটে নিহত ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত, স্বজনদের খুঁজছে পুলিশ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইটি স্লিপার কোচ ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ইউনিক পরিবহনের ডান পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সাইফুল ইসলাম (৫০), দক্ষিণ সুরমার ফাইজা (৩), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আবুল হোসেন (৪৪)। হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি নাইটি স্লিপার কোচ ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ইউনিক পরিবহনের ডান পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের সাইফুল ইসলাম (৫০), দক্ষিণ সুরমার ফাইজা (৩), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আবুল হোসেন (৪৪)।
হাইওয়ে পুলিশ সিলেট রিজিয়নের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিজ লেনেই চলছিল। এ সময় ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে বিপরীত পাশে চলে আসে এবং ইউনিক পরিবহনের বাসটিকে ধাক্কা দেয়।
তিনি বলেন, ধাক্কার তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটির ডান পাশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে। বাসটির ডান পাশের আসনে থাকা যাত্রীদের ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে নিহত ও আহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাস দুটি আমাদের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর কালবেলাকে বলেন, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে মোট ১৬ আহতকে আনা হয়। এর মধ্যে চার বছরের শিশু জাইফাকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিয়ম নামে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, আহতদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা পাঁচজনের অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং শিগগিরই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। ইএনটি বিভাগে ভর্তি দুইজনের অবস্থাও স্থিতিশীল। চক্ষু বিভাগে পাঁচজনের মধ্যে চারজনের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে এবং একজনের চোখে গুরুতর আঘাত থাকায় অস্ত্রোপচার চলছে। নিউরোসার্জারিতে ভর্তি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা ভালো হলেও আফতাব নামে একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাকে আইসিইউতে রেখে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
What's Your Reaction?