সিলেটে পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

ঈদুল আজহার আর মাত্র দুইদিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে সিলেটের বিভিন্নস্থানে বসেছে পশুর হাট। পর্যাপ্ত গরু আমদানি হলেও এখনো আশানুরূপ ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য তাদের অনেকেই এক হাট থেকে আরেক হাটে গরু নিয়ে ঘুরছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, গো-খাদ্যের দাম ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দামও কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা। তবে ক্রেতাদের আশা, শেষ সময়ে দাম কিছুটা কমবে। তাই অনেকেই এখন শুধু হাট ঘুরে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন। সোমবার (২৫ মে) সিলেট নগরীর কাজিরবাজার গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গরু বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। খামারিরা বলছেন, গত বছর ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই বেচাকেনা জমে উঠেছিল। কিন্তু এবার এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। যারা হাটে আসছেন, তারা মূলত গরু দেখে দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, হাটে পছন্দের গরু মিললেও দাম বেশি হওয়ায় কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট গরুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি। তাই শেষ সময়ে খামারিরা দাম কমাবেন— এ

সিলেটে পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিক্রেতারা

ঈদুল আজহার আর মাত্র দুইদিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে সিলেটের বিভিন্নস্থানে বসেছে পশুর হাট। পর্যাপ্ত গরু আমদানি হলেও এখনো আশানুরূপ ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য তাদের অনেকেই এক হাট থেকে আরেক হাটে গরু নিয়ে ঘুরছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, গো-খাদ্যের দাম ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দামও কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা। তবে ক্রেতাদের আশা, শেষ সময়ে দাম কিছুটা কমবে। তাই অনেকেই এখন শুধু হাট ঘুরে গরু দেখছেন, দরদাম করছেন।

সোমবার (২৫ মে) সিলেট নগরীর কাজিরবাজার গরুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গরু বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন।

খামারিরা বলছেন, গত বছর ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই বেচাকেনা জমে উঠেছিল। কিন্তু এবার এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি। যারা হাটে আসছেন, তারা মূলত গরু দেখে দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, হাটে পছন্দের গরু মিললেও দাম বেশি হওয়ায় কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট গরুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি। তাই শেষ সময়ে খামারিরা দাম কমাবেন— এমন প্রত্যাশায় অনেকেই এখনো গরু কিনছেন না।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩৮টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৫টি পশু। অর্থাৎ চাহিদা মিটিয়েও প্রায় তিন হাজার ৯৬৬ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এ বছর জেলায় ৬০টি এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও ৭টিসহ মোট ৬৭টি পশুর হাট বসেছে।

পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পশু কেনাবেচার ব্যবস্থা রয়েছে। হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ প্রতিরোধ এবং গর্ভবতী গাভি শনাক্তে বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছেন।

কাজিরবাজার হাটে আসা খামারি ফারুক মিয়া বলেন, ‘খামারে ১০টি গরু রয়েছে। পাঁচ মাস আগে গরুগুলো কিনেছিলাম। আশা ছিল ঈদের আগে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো। কিন্তু এখন লাভ তো দূরের কথা আসলও উঠবে কিনা তা নিয়েই চিন্তায় আছি।’

লালমনিরহাট থেকে আসা খামারি কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘গরু লালন-পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। এরপরও ব্যবসা ধরে রেখেছি। ১০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। কিন্তু গত বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা অনেক কম। তাই বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

সিলেট বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. আবু জাফর মো. ফেরদৌস বলেন, এবার সিলেট বিভাগে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই। বরং পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তাই বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না।

জমিল আহমেদ/এএইচ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow