সিলেট বোর্ডে এসএসসিতে কমেছে পাসের হার, তবে বেড়েছে জিপিএ-৫

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা। এবার সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন। তিনি জানান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে এবং ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন। এবার সিলেট বোর্ডে ৯টি প

সিলেট বোর্ডে এসএসসিতে কমেছে পাসের হার, তবে বেড়েছে জিপিএ-৫

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা। এবার সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

তিনি জানান, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে রয়েছেন ১৯ হাজার ৮৮৯ জন ছেলে এবং ৩২ হাজার ৬৮ জন মেয়ে। জিপিএ-৫ ও পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯৭৩টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৭৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী কমেছে ১২ হাজার ৭৯৮ জন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৫৩ হাজার ৮৯১ জন এবং ছাত্র ৩৫ হাজার ৫৩০ জন। এবার সিলেট বোর্ডে ৯টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৩৬ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী বেড়েছে ২২২ জন।

জেলাভিত্তিক ফলে এগিয়ে সিলেট

এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে সিলেট জেলা। এ জেলায় পাসের হার ৬২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। 

সিলেট জেলায় ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২২ হাজার ১৬০ জন। জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৩ জন, যা চার জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মৌলভীবাজার। জেলার ১৯ হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ হাজার ১০৩ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭২৫ জন।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে হবিগঞ্জ। এ জেলার ১৫ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮ হাজার ৬৯৫ জন। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন।

চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ। জেলার ১৮ হাজার ২৮৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৯৯৯ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৩ জন, যা চার জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবর বলেন, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ধরনের অসঙ্গতি, অনিচ্ছাকৃত ভুলভ্রান্তি বা ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ তা পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংশোধন বা বাতিল করার পূর্ণ ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।

তিনি বলেন, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে ফলাফল প্রকাশের দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর এ বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষের কোনো দায়-দায়িত্ব থাকবে না।

আগের দুই বছরের তুলনায় ফল

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২৫ সালে ২০২৪ সালের তুলনায় পাসের হার কমেছিল ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৪৭১ জন। ফলে ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১ হাজার ৮৫৭ জন কমেছিল।

গত বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছিল ৭০ হাজার ৯১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছিল ৩২ হাজার ১২৮ জন। অকৃতকার্যের হার ছিল ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow