সীমান্ত থেকে সেই ১০ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় সাদিপুর মাঠে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কথিত বাংলাদেশিদের তিন দিন পর মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে। তবে তারা অন্য সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন না ওপারে অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্ত পথে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকালে সীমান্ত থেকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নিলে উত্তেজনা কমে আসে। শূন্যরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্ত থেকে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল চলছে। এর আগে মঙ্গলবার সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এসময় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জন। আরও পড়ুন: আইন ভেঙে বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবিপতাকা বৈঠকে হয়নি সমাধান, দু’দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন ১০ জনের স্থানীয়

সীমান্ত থেকে সেই ১০ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

যশোরের বেনাপোল সীমান্তের শূন্যরেখায় সাদিপুর মাঠে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কথিত বাংলাদেশিদের তিন দিন পর মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে সীমান্তে উত্তেজনা কমেছে। তবে তারা অন্য সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন না ওপারে অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিজিবির দাবি, বেনাপোল সীমান্ত পথে বিজিবির কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সকালে সীমান্ত থেকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নিলে উত্তেজনা কমে আসে। শূন্যরেখা থেকে ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার পর সীমান্ত থেকে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনকে কেন্দ্র করে গত তিনদিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এসময় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা ১০ জন।

আরও পড়ুন:
আইন ভেঙে বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি
পতাকা বৈঠকে হয়নি সমাধান, দু’দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন ১০ জনের

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। এ উদ্দেশ্যে তাদের সীমান্তের শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখা হয়। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ মাথায় ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।

তবে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক—এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

সীমান্ত থেকে সেই ১০ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

এর আগে রোববার (৩১ মে) রাতে বেনাপোল সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে করে শতাধিক মানুষকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সীমান্তের ভারতীয় অংশে আরও শতাধিক মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বেনাপোলের সাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আক্তারুজ্জামান লিটু বলেন, ‌‘সীমান্তে এখন আর ভিড় করা মানুষজনদের দেখা যাচ্ছে না। তবে বিএসএফ অন্য সীমান্ত পথে তাদের ঢোকাতে পারে। তাই বিজিবিকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশপ্রেমের জায়গা থেকে গ্রামবাসী সার্বিক সহযোগিতা করছে বিজিবিকে।’

এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘বিএসএফ যদি প্রচলিত নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাউকে ফেরত পাঠায়, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের গ্রহণ করা হবে। কিন্তু কোনো নিয়ম-নীতি না মেনে জোরপূর্বক কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেল থেকে সীমান্তে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ব্যক্তিদের বিএসএফ সরিয়ে নেওয়ায় তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তবে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।’

মো. জামাল হোসেন/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow