সোমবার (২০ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিটটি শুনানির জন্য ছিল। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও ব্যারিস্টার অনিক আর হক।
শুনানির জন্য উপস্থাপনের পর শিশির মনির বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে আপিল করবেন। আদালতের প্রত্যাশা ইন দ্য মিন টাইম সচিবালয়ের যে স্থাপনা আছে সেগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে যেন সরিয়ে ফেলা না হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি কনভে করবেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতে বলেছি আগের মামলা যেহেতু আপিল বিভাগে আপিল দায়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে সুতরাং ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পার্যন্ত এটির শুনানি সমীচীন হবে কি না। আমরা শিগগির আপিল করবো।
এর আগে সাত আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। গত ৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ শিরোনামে গত বছরের ৩০ নভেম্বর অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। একই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় উদ্বোধন করা হয়। বিরোধীদলের আপত্তি নাকচ করে ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয়।
এরপর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইনের বৈধতা নিয়ে সাত আইনজীবী রোববার (১৯ এপ্রিল) এ রিট করেন।
রিট আবেদনে দেখা যায়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে বিচারাধীন অবস্থায় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হতে শুরু হওয়া সচিবালয়ের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য বিচার বিভাগীয় ৪৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। ১৯ জন কর্মচারী পদায়ন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে। অন্য কর্মচারীদের নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বাজেট প্রাপ্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাবতীয় কাজ শেষ।
সচিবালয়ের জন্য এরই মধ্যে ১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবনের কাজও চলতি এপ্রিল মাসে শেষ হবে।
এফএইচ/এমকেআর