সেহরি খাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?
প্রশ্ন: রোজার জন্য সেহরি খাওয়াকে হাদিসে বরকতময় কাজ বলা হয়েছে। এই বরকত অর্জনের জন্য কখন সেহরি খেতে হবে? রাতের যে কোনো সময় সেহরির নিয়তে খেলেই হবে? নবীজি (সা.) কখন সেহরি খেতেন? উত্তর: সেহরি খাওয়ার সময় হল অর্ধরাত্রির পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। আর মুস্তাহাব হলো সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া। তবে খেতে খেতেই সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় এত দেরি করা মাকরুহ। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত জায়েদ ইবনে সাবেত তাকে জানিয়েছেন যে, তারা নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) সাথে সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে গেছেন। আনাস বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেহরি খাওয়া ও আজান হওয়ার মধ্যে কতটুকু সময় ছিল? উত্তরে জায়েদ (রা.) বললেন, পঞ্চাশ অথবা ষাটটি আয়াত পড়তে যতটুকু সময় লাগে। (সহিহ বুখারি) এখানে আয়াত বলতে মধ্যম ধরনের আয়াত গণ্য হবে। আর এই ধরনের ৫০/৬০ আয়াত পড়তে মোটামুটি ১৫/২০ মিনিট সময় লাগে। অতএব সুন্নত হলো, আজানের ১৫/২০ মিনিট আগে সেহরি খাওয়া। সেহরি খাওয়ার বিধান রোজার জন্য সাহরি খাওয়া অপরিহার্য নয়। সেহরি না খেলেও রোজা হয়ে যায়। কেউ যদি ইচ্ছাকৃত সেহরি না খায়, তবুও তার গুনাহ হবে না এবং তার রোজারও কোনো ক্ষত
প্রশ্ন: রোজার জন্য সেহরি খাওয়াকে হাদিসে বরকতময় কাজ বলা হয়েছে। এই বরকত অর্জনের জন্য কখন সেহরি খেতে হবে? রাতের যে কোনো সময় সেহরির নিয়তে খেলেই হবে? নবীজি (সা.) কখন সেহরি খেতেন?
উত্তর: সেহরি খাওয়ার সময় হল অর্ধরাত্রির পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। আর মুস্তাহাব হলো সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময় সেহরি খাওয়া। তবে খেতে খেতেই সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় এত দেরি করা মাকরুহ।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত জায়েদ ইবনে সাবেত তাকে জানিয়েছেন যে, তারা নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) সাথে সেহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়তে উঠে গেছেন। আনাস বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেহরি খাওয়া ও আজান হওয়ার মধ্যে কতটুকু সময় ছিল? উত্তরে জায়েদ (রা.) বললেন, পঞ্চাশ অথবা ষাটটি আয়াত পড়তে যতটুকু সময় লাগে। (সহিহ বুখারি)
এখানে আয়াত বলতে মধ্যম ধরনের আয়াত গণ্য হবে। আর এই ধরনের ৫০/৬০ আয়াত পড়তে মোটামুটি ১৫/২০ মিনিট সময় লাগে। অতএব সুন্নত হলো, আজানের ১৫/২০ মিনিট আগে সেহরি খাওয়া।
সেহরি খাওয়ার বিধান
রোজার জন্য সাহরি খাওয়া অপরিহার্য নয়। সেহরি না খেলেও রোজা হয়ে যায়। কেউ যদি ইচ্ছাকৃত সেহরি না খায়, তবুও তার গুনাহ হবে না এবং তার রোজারও কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সেহরি খাওয়া নবীজির (সা.) সুন্নত। নবীজি (সা.) নিজে সেহরি খেতেন এবং তার সাহাবিদেরও সেহরি খেতে উৎসাহ দিতেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আপনারা সেহরি খাও। কেননা, সেহরিতে বরকত রয়েছে। (সহিহ মুসলিম)
ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রা.) বলেন, রমজানে একদিন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাকে সেহরি খেতে ডাকলেন; বললেন, বরকতময় খাবার খেতে এসো। (মুসনাদে আহমদ)
সেহরি খাওয়াকে মুসলমানদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে নবীজি (সা.) বলেছেন, আমাদের রোজা ও আহলে কিতাব বা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবের অনুসারীদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া। (সহিহ মুসলিম)
আরও পড়ুন:
রোজার নিয়ত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
সেহরিতে কতটুকু খাবার খেতে হবে?
আরেকটি বর্ণনায় নবীজি (সা.) বলেছেন, সেহরি খাওয়া বরকতপূর্ণ কাজ। সুতরাং আপনারা তা পরিত্যাগ করবেন না। এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি করুন। যারা সেহরি খায় আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন। (মুসনাদে আহমদ)
তাই নবীজির (সা.) অনুসরণ ও বরকত লাভের নিয়তে সেহরি খেয়েই রোজা রাখার চেষ্টা করা উচিত। সুযোগ থাকলে সেহরির বরকত হাতছাড়া করা উচিত নয়। সেহরি পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়, এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরি খাওয়ার সুন্নত আদায় হবে যেমন ওপরে উল্লিখিত হাদিসে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এক/ দুটি খেজুর দিয়েও সেহরি করা যেতে পারে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মুমিনের জন্য উত্তম সেহরি হলো হলো খেজুর। (সুনানে আবু দাউদ)
ওএফএফ
What's Your Reaction?