সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে নিজ উদ্যোগে সরল ৬ শতাধিক দোকান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করা হয়। অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। আনা হয় বলডোজার। শুরু হয় মাইকিং। তবে অভিযান শুরুর আগেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রশাসনের নির্দেশনার পর ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সব স্থাপনা সরাতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় লাগে। প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও কিছু সময় চান। সে কারণ

সৈকতের বালিয়াড়ি থেকে নিজ উদ্যোগে সরল ৬ শতাধিক দোকান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশনার পর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে রবিবার (১৫ মার্চ) সকালে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করা হয়।

অভিযান পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। আনা হয় বলডোজার। শুরু হয় মাইকিং। তবে অভিযান শুরুর আগেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রশাসনের নির্দেশনার পর ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন। সব স্থাপনা সরাতে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সময় লাগে।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টসহ আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৬ শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনান বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে তাদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আরও কিছু সময় চান। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সেই সময়ের মধ্যেই তারা দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে এ ধরনের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে সৈকতের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সৈকতের শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে, উচ্ছেদের মুখে পড়া ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা স্বেচ্ছায় দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। তবে তাদের প্রত্যাশা, জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করবে।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী নজির আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই পয়েন্টে পর্যটকদের কাছে বার্মিজ পণ্য বিক্রি করে ১১ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এখন মন্ত্রীর সুদৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন।

শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে তারা নিজেরাই দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। তবে এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ঈদের ব্যবসার আশায় অনেকেই ঋণ করে দোকানে পুঁজি দিয়েছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

বার্মিজ পণ্যের দোকানদার নুরুল বশর বলেন, পুরো রমজানজুড়ে ঈদের বিক্রির আশায় দোকানে মালামাল তোলা হয়েছিল। এখন সেই পণ্য নিয়েই তারা বিপাকে পড়েছেন। সামনে কীভাবে চলবেন, সেটিও বুঝতে পারছেন না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow